National

অর্ধলক্ষ কনস্টেবল: বড় অংশের আ.লীগ সম্পৃক্ততা, ব্যবস্থার ধরন নিয়ে দোটানা

Foto : Michael Davis - banglajibon.com

পুলিশে নিয়োগে অনিয়ম: আওয়ামী লীগ আমলের ৫০ হাজার কনস্টেবল নিয়ে দ্বিধা

Banglajibon.com – অর ধলক ষ কনস ট বল – বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর পুলিশ সদর দপ্তরে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, আওয়ামী লীগের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত অন্তত পাঁচ লাখ কনস্টেবলের মধ্যে বড় অংশের পরিবারের সদস্যরা দলের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। এছাড়াও অনেকের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ধরা পড়েছে। তবে এই বিশাল সংখ্যক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নিয়ে সরকার এখনও দ্বিধাগ্রস্ত।

তদন্তের মূল ফলাফল

প্রতিটি জেলার পুলিশ সুপারকে প্রধান করে গঠিত তদন্ত কমিটিগুলো গত এপ্রিলের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠিয়েছে। এই প্রতিবেদনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। প্রথমত, নিয়োগপ্রাপ্ত কনস্টেবলদের মধ্যে অনেকের পরিবারের সদস্যরা আওয়ামী লীগ বা এর সহযোগী সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। দ্বিতীয়ত, বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি নিজেও ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন।

তদন্তে আরও জানা গেছে যে, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর এবং কিশোরগঞ্জের মতো কিছু জেলার প্রার্থীদের তুলনামূলকভাবে বেশি সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। এছাড়াও কিছু জেলায় অন্য জেলার প্রার্থীদের জমি কেনার মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দা হিসেবে দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়গুলোও তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।

অর্থের বিনিময়ে চাকরি: তথ্যের অভাব

তদন্তে অংশ নেওয়া একজন উপপরিদর্শক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তাঁর থানা এলাকায় নিয়োগপ্রাপ্ত তেরো জন কনস্টেবলের ঠিকানা ও রাজনৈতিক পরিচয় যাচাই করা হয়েছে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় ও ঠিকানা যাচাই করা তুলনামূলক সহজ ছিল, কিন্তু নিয়োগ পরীক্ষায় অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগের প্রমাণ সংগ্রহ করা কঠিন ছিল। কয়েক বছর আগের নিয়োগের ক্ষেত্রে টাকার বিনিময়ে চাকরি নেওয়ার তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করাও সম্ভব হয়নি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিষয়টি নিয়ে বলেন:

বিগত সরকারের আমলে পুলিশের নিয়োগে বিভিন্ন পর্যায়ে অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর বিষয়গুলো তদন্ত করেছে। তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

জনবল সংকট ও ব্যবস্থাপনা চ্যালেঞ্জ

পুলিশ সদর দপ্তরের একজন ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তা জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগপ্রাপ্ত অনেক সদস্যের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার তথ্য তদন্ত কমিটির কাছে এসেছে। তিনি বলেন, তদন্ত শেষ হয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো, এত বিপুলসংখ্যক সদস্যের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেটি নিয়েই দ্বিধা চলছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের আরেক পদস্থ কর্মকর্তা বলেন, বর্তমানে বাহিনীতে কনস্টেবল পর্যায়ে জনবলের ঘাটতি রয়েছে। ফলে তদন্তাধীন সদস্যদের অনেকেই এখনও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কর্মরত আছেন। চেইন অব কমান্ডের বিভিন্ন পর্যায়ে তাঁদের কেউ কেউ নীরবে বাধা সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু এত বিপুলসংখ্যক সদস্যের বিরুদ্ধে একসঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়াও কঠিন। আপাতত তাঁদের শনাক্ত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, পুলিশের প্রায় দেড় লাখ কনস্টেবলের মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই ৫০ হাজারের বেশি কনস্টেবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ওই সরকারের ১৫ বছরে পুলিশে নিয়োগপ্রাপ্ত বাকিরা উপপরিদর্শক ও অন্যান্য পদে ছিলেন।

Leave a Comment