শ্রীপুরের সড়ক দুর্দশা: দুই বছরেও সংস্কার হয়নি
Banglajibon.com – গ জ প র র শ র – গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নে সড়কের অবস্থা চরম। সলিং মোড় থেকে আনন্দবাজার পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার পাকা রাস্তা এখন খানাখন্দে ভরা। পিচ ঢালাইয়ের কাজ বন্ধ থাকায় এবং পুরনো রাস্তা উঠে যাওয়ায় বিভিন্ন জায়গায় বিশাল বিশাল গর্ত তৈরি হয়েছে। বৃষ্টির পানি এই গর্তগুলোতে জমে রাস্তাটিকে চলাচলের অনুপযোগী করে তুলেছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই পথে যাতায়াত করে তাদের সীমাহীন দুর্ভোগের কথা জানাচ্ছেন।
এই সড়কটি কেবল স্থানীয় নয়, বরং একাধিক জেলার মানুষের যোগাযোগের মূল সূত্র। শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ও মাওনা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের পাশাপাশি টাঙ্গাইল জেলার সখীপুর উপজেলার কালমেঘা এবং ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার কাচিনা গ্রামের হাজার হাজার মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন। মাওনা চৌরাস্তায় আসার জন্য এটিই একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের মাধ্যম। দুই বছর ধরে সংস্কার না হওয়ায় জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করছেন।
বৃষ্টিতে রাস্তার বিভিন্ন অংশ কাদাময় হয়ে যায়। বড় বড় গর্তে জমে থাকা পানির নিচে কাদা থাকায় ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে নিয়মিত। প্রতিদিন সকালে অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও ভ্যান উল্টে যাওয়ার খবর পাওয়া যায়। স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী, রোগী, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন কারখানার কর্মীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ ও দাবি
আনন্দবাজারের বাসিন্দা রতন মিঞা বলেন,
জনস্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা না হলে চলমান বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও ভয়াবহ রূপ নেবে। নানান পেশার মানুষের চলাচলে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। তাই আর আশ্বাস নয়, দ্রুত সড়কটির স্থায়ী সংস্কারকাজ শুরু করার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাই।
চকপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মাহফুজুর রহমান ইকবাল জানান,
সড়কটি হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে জড়িত। অনেক মানুষ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন কারখানার কাজ করতে যান। অনেকে সড়কটিতে অটোরিকশা, রিকশা চালিয়ে সংসার চালান। আশপাশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হয় ব্যবসায়ীদের। ফলে প্রতিনিয়ত তাদের দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে।
অটোরিকশাচালক নাসির উদ্দীন বলেন,
সড়কের কয়েকটি অংশের অবস্থা এতটাই খারাপ যে প্রায় সময় গাড়ি উল্টে যায়। সপ্তাহে অন্তত দুবার গাড়ি গ্যারেজে নিয়ে মেরামত করতে হয়।
কলেজ শিক্ষার্থী মাহির বলেন,
প্রায়ই সড়কে অটোরিকশা উল্টে যায়। তখন জামাকাপড়ে ময়লা ও কাদাযুক্ত পানি লেগে নষ্ট হয়ে যায়। মাঝেমধ্যে কয়েকটি ভাঙা অংশে ইট ফেলে দাঁড়সারা মেরামত করা হলেও কোনো কাজে আসেনি।
কর্তৃপক্ষের প্রতিশ্রুতি
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ তৌহিদ আহমেদ জানান,
সড়কটি স্থায়ীভাবে সংস্কারের জন্য একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে কাজ শুরু করা হবে।

