গঙ্গাচড়া-রংপুর সড়কের বৃদ্ধ বয়সী গাছগুলো এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত
Banglajibon.com – গঙ গ চড় র প র সড়ক – রংপুর শহরের বাংলাদেশ ব্যাংক মোড় থেকে গঙ্গাচড়া বাজার পর্যন্ত প্রায় ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়ক। চার দশক আগে রংপুর জেলা পরিষদ উদ্যোগে এ সড়কের দুই পাশে হাজার হাজার গাছ রোপণ করা হয়েছিল। কিন্তু বয়সের কারণে সেই গাছগুলো এখন পথচারী ও যানবাহনের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামান্য ঝড়-বৃষ্টি বা দমকা বাতাসেই গাছ উল্টে পড়ছে অথবা বিশাল ডাল ভেঙে সড়কে পড়ছে।
মৃত্যু ও আহতের পরিসংখ্যান
গত এক বছরে অন্তত চারজন মানুষ গাছের ডাল বা গাছ উল্টে পড়ার ঘটনায় মারা গেছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও ১৫ থেকে ২০ জন। গত বছরের ৮ অক্টোবর গঙ্গাচড়া উপজেলার বিদিতর গ্রামের স্কুলশিক্ষক কৃষ্ণা রানী সরকার ও তাঁর মেয়ে রাজশ্রী সরকার গাছের ডাল ভেঙে পড়ে নিহত হন। কৃষ্ণা রানী ছিলেন ব্রজেন চন্দ্র সরকারের স্ত্রী।
এর মধ্যে কয়েক মাস আগে গঙ্গাচড়া সদর ইউনিয়নের আরাজিনিউমত এলাকায় একটি গাছ উল্টে পড়ে রংপুর নগরীর এক বাসিন্দার মৃত্যু হয়। অন্যদিকে, কদমতলী এলাকায় গাছের ডাল ভেঙে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
সড়কের বর্তমান অবস্থা
সরজমিনে পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, সড়কের দুই পাশে সারি সারি পুরোনো গাছ দাঁড়িয়ে আছে। অনেক গাছ সম্পূর্ণ শুকিয়ে গেছে এবং বড় বড় মরা ডাল ঝুলে রয়েছে। কোথাও কোথাও গাছের গোড়া ফেটে গেছে, আবার কিছু গাছ একদিকে হেলে পড়েছে। কয়েকটি স্থানে শুকিয়ে যাওয়া ডাল সড়কের ওপর ঝুঁকে থাকা যেকোনো সময় ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সড়কের পাশেই রয়েছে অসংখ্য বসতবাড়ি, দোকানপাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বৈদ্যুতিক সংযোগের তার। মেহগনি, রেইনট্রি, আকাশমণি, কারাই, আম, কাঁঠালসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রয়েছে এখানে। বার্ধক্যের কারণে অনেক গাছ শুকিয়ে গেছে, আবার অনেক গাছের গোড়া দুর্বল হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ ও মতামত
রাস্তার ধারের এই গাছগুলোর বয়স ৪০-৪৫ বছর। বয়সের কারণে অনেক গাছ দুর্বল হয়ে পড়েছে। সামান্য বাতাসেই বড় বড় ডাল ভেঙে পড়ে। কিছুদিন আগে একটি গাছের ডাল ভেঙে এক স্কুলশিক্ষিকা ও তাঁর মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। কয়েক দিন আগে আমার একটি ঘরও গাছের ডাল পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
চব্বিশ হাজারী এলাকার আবদুল বাকি এই মন্তব্য করেছেন। মোটরসাইকেলচালক আব্দুর রহমান বলেন, বৃষ্টির দিনে খুব ভয় নিতে হয় মোটরসাইকেল চালাতে। কখন যে গাছের ডাল ভেঙে পড়ে, আতঙ্কে থাকি। এই সড়কে গাছ পড়ে বা ডাল ভেঙে অনেক মানুষ আহত হয়েছেন। ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো দ্রুত অপসারণ করা দরকার।
গঙ্গাচড়া সদর ইউনিয়নের মৌলভীবাজার এলাকার বাসিন্দা রাকী জানান, গঙ্গাচড়া কলেজ মোড় থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক মোড় পর্যন্ত দশ হাজারের বেশি পুরোনো গাছ রয়েছে। অনেক গাছই এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তিন থেকে চার মাস আগে আমাদের বাজারসংলগ্ন এলাকায় একটি মেহগনিগাছ উল্টে পড়ে এক পথচারীর মৃত্যু হয়েছে।
প্রশাসনিক দায়িত্ব ও সমস্যা
গঙ্গাচড়া সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাহাফুজার রহমান দুলু বলেন, কয়েক মাস আগে আমার এলাকায় একটি গাছ উল্টে পড়ে একজন পথচারীর মৃত্যু হয়। পরে ইউএনওর নির্দেশে কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ গাছ কাটা হয়েছিল। এতে আমার প্রায় ৬০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। কিন্তু কাটা গাছগুলো এখনো রাস্তার ধারে পড়ে আছে।
গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন, কয়েকটি দুর্ঘটনার পর আগের ইউএনওর সময়ে কিছু গাছ কাটা হয়েছিল। বিষয়টি আমি জেলা সমন্বয় সভায় বারবার তুলেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যেহেতু গাছগুলো জেলা পরিষদের অধীন, তাই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
এ বিষয়ে রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে।

