মমতা ব্যানার্জি জোটের ভাঙন ঠেকাতে মরিয়া চেষ্টা করছেন
দল র ভ ঙন ঠ ক ত – পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের দলনেত্রী মমতা ব্যানার্জি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারে নতুন করে কৌশল গ্রহণ করছেন। দলে চলমান অস্থিরতার মধ্যে তিনি ইন্ডিয়া জোটের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেবার জন্য দিল্লি যাচ্ছেন, যেখানে দুই দিন অবস্থান করবেন। এই বৈঠকে তিনি অভিষেক ব্যানার্জিকে সহযোগিতা করবেন, কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক পদে তাঁকে বহাল রেখেছেন।
টিএমসি সূত্রে জানা গেছে যে আগামীকাল সোমবার দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। মমতা দুই জাতীয় সাধারণ সম্পাদক নিয়োগ করেছেন—ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং ডোলা সেনকে। এই সিদ্ধান্ত তাঁর সাথে যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিতর্ক থাকা সত্ত্বেও তিনি অভিষেককে দলের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বহাল রেখেছেন। যদিও সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে সমালোচনা চলছে, তাঁর প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।
আগের শুক্রবার তিনি বড় ধরনের সাংগঠনিক পরিবর্তন করেছেন। দলের অসন্তোষের মূল কারণ হিসেবে অভিষেককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দলের এক জ্যেষ্ঠ সাংসদ বলেন, মমতা ব্যানার্জি এখন পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং দলে আস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন।
ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকের আগে কংগ্রেস টিএমসির পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করছেন মমতা ব্যানার্জি, যদিও সেই বৈঠক নিশ্চিত হয়নি। কংগ্রেসের এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, সংকটের সময় কংগ্রেস বিশেষ ঘনিষ্ঠতার দিকে দৃষ্টি স্থাপন করছে।
লোকসভায় টিএমসির ২৮ জন সাংসদের মধ্যে বিদ্রোহের সম্ভাবনা বাড়ছে। বিধানসভায় প্রায় ৬০ জন বিদ্রোহী বিধায়ক অভিষেক ব্যানার্জিকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে সমর্থন করছেন। সংখ্যাগুণে তিনি সরানো সম্ভব হতে পারেন যদি সমর্থন ১৯ জন হয়।
টিএমসির অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে যে মমতা ব্যানার্জি মুসলিম বিধায়কদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন। মোট ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৩১ জন মুসলিম হওয়ায় তাঁদের অবস্থান রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই গোষ্ঠীতে অনেকে বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিলেও অনেকে মূল নেতৃত্বের সঙ্গে ছিলেন।
বিদ্রোহী শিবিরের মতপার্থক্য
গুলশান মল্লিক বলেন, ‘মমতা ব্যানার্জি যদি সর্বোচ্চ নেতা না থাকেন, তাহলে পুরো বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে হবে।’
সঙ্গীতা রায় বসুনিয়া স্পষ্টভাবে বলেন, ‘মমতা ব্যানার্জি আমাদের সর্বোচ্চ নেতা এবং থাকবেন।’
রাজনৈতিক মহলে
