ট্রাম্পের মন্তব্য: মোদি আমার ভালো বন্ধু এবং ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি শিগগির হবে
ম দ আম র ভ ল বন – যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আবারও গুরুত্ব দিয়ে তাঁকে ‘ভালো বন্ধু’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, আমাদের মধ্যে বিদ্যমান মতপার্থক্য সত্ত্বেও হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত আলোচনার মাধ্যমে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র একটি বাণিজ্য চুক্তি স্থাপনে সক্ষম হবে।
আলোচনার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে ট্রাম্প বলেন, ‘মোদি আমার ভালো বন্ধু এবং আমাদের মধ্যে সুসম্পর্ক রয়েছে। বছরে বছরে ভারত যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য গ্রহণ করেছে।’ তিনি জানান, ভারত দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করে আসছে এবং কিছু পরিশোধ করেনি। আলোচনা শেষে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য করে যুক্তরাষ্ট্র বেশি অর্থ অর্জন করছে বলে তিনি বলেন।
‘আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাব।’
যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের কর্মকর্তারা ১ জুন থেকে ৪ জুন পর্যন্ত চার দিনব্যাপী বৈঠকে অংশ নেন। নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় সংশ্লিষ্ট পক্ষের প্রতিনিধিরা সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে তথ্য জানান। তাঁদের আলোচনার মধ্যে ছিল পণ্য বাণিজ্য, কাস্টমস প্রক্রিয়া, অশুল্ক বাধা বা নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ার, বাণিজ্য সহজীকরণ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্পর্কে আলোচনা।
ট্রাম্প বলেন, সম্পর্কের সুসম্পর্ক বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার পথ খুঁজছে। তবে আলোচনার মধ্যে কিছু অনিশ্চয়তা রয়েছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্র সামন্তরিক শ্রমের সম্পর্কে আমদানি পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের জন্য সেকশন ৩০১-এর আওতায় পর্যালোচনা চালাচ্ছে। এই পর্যালোচনার আওতায় ভারতসহ মোট ৬০টি দেশ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো মার্কিন শ্রমিকদের জন্য ন্যায্য প্রতিযোগিতা তৈরি করা। তবে শুল্ক সংক্রান্ত জটিলতা সত্ত্বেও দুই পক্ষের কর্মকর্তারা অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছেন।
ভারতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর বলেন, আলোচনার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানো হয়েছে এবং শুধুমাত্র কয়েকটি বিষয় অমীমাংসিত রয়েছে। ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়াল ইঙ্গিত দেন যে চুক্তির অধিকাংশ বিষয় নিষ্পত্তি পেয়েছে। বর্তমানে আলোচনায় মূলত শেষ মুহূর্তের কিছু বিস্তারিত বিষয় নিয়ে কাজ চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় (ইউএসটিআর) ও ভারতীয় কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে চূড়ান্ত চুক্তি ঘোষণার জন্য এগিয়ে চলছে। তবে প্রস্তাবিত শুল্ক ব্যবস্থা বৃহত্তর দ্বিপক্ষীয় চুক্তি চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে একটি সম্ভাব্য বাধা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
