Bangladesh

গাইবান্ধা: টানা বৃষ্টিতে আমনের বীজতলা পানির নিচে

Foto : Betty Thomas - banglajibon.com

গাইবান্ধায় অতিবৃষ্টিতে আমন ধানের বীজতলা ডুবে যাচ্ছে

Banglajibon.com – গ ইব ন ধ – গাইবান্ধা জেলার কৃষকরা এখন নতুন করে বীজতলা তৈরির কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। কারণ, কয়েক দিন ধরে বৃষ্টি চলার ফলে আমন ধানের বীজতলাগুলো পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে আমন উৎপাদনে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গাইবান্ধা জেলায় মোট সাতটি উপজেলা রয়েছে। এছাড়াও চারটি পৌরসভা এবং ৮১টি ইউনিয়ন এই জেলার অন্তর্ভুক্ত। নদীবেষ্টিত হওয়ায় এখানকার প্রায় ১৭৫টি ছোট ও বড় চরাঞ্চল রয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এই চরাঞ্চলগুলোর ফসলের জমি পানির নিচে চলে যায়।

চলতি মৌসুমে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৩৩ হাজার ১২০ হেক্টর জমিতে। এই জমিতে ধান রোপণের জন্য ৭ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু টানা বৃষ্টির কারণে ১৩২ হেক্টর জমির বীজতলা পানিতে ডুবে গেছে। এর মধ্যে ৩৩.৫ হেক্টর জমির বীজতলা সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বীজতলার পাশাপাশি জেলার প্রায় ৩১০ হেক্টর জমির শাকসবজিও পানির নিচে চলে গেছে। বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে এই পরিস্থিতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

কৃষকদের কষ্ট ও প্রস্তুতি

কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সাধারণত জ্যৈষ্ঠ মাসের মাঝামাঝি থেকে আষাঢ় মাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত বীজতলা তৈরি করা হয়। এসব আমন চারা শ্রাবণ মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে ভাদ্র মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত রোপণ করা হয়। এবারও চাষিরা সমানভাবে বীজতলা তৈরি করেছিলেন। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় প্রায় সব বীজতলাই পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার নাকাই ইউনিয়নের শীতল গ্রামের কৃষক সাজু মিঞা জানান, এই বছর তিনি ১০ বিঘা আমন ধান লাগানোর জন্য বীজতলা দিয়েছিলেন। ধানগাছের চারাগুলো তখন ১০ থেকে ১২ দিন বয়সী ছিল। হঠাৎ এক সপ্তাহ ধরে বৃষ্টি হওয়ায় চারাগুলো পানির নিচে চলে যায়। পানির নিচে থাকায় অনেক চারা নষ্ট হয়ে গেছে।

একনাগাড়ে বৃষ্টির কারণেই আমার আমন ধানের চারা নষ্ট হয়ে গেছে। নতুন করে বীজতলা তৈরির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।

ধানখনিয়া গ্রামের আজিজার রহমানও একই কথা বললেন। তিনিও নতুন বীজতলা তৈরির কাজে হাত দিয়েছেন। অন্যদিকে, পলাশবাড়ী উপজেলার হরিনাথপুর ইউনিয়নের হরিনাথপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল সোবহান মিঞা বলেন, এ বছর প্রায় আট বিঘা জমিতে আমন চাষ করার পরিকল্পনা ছিল। সে জন্য ২৫ শতাংশ জমিতে বীজতলা তৈরি করেছিলেন। প্রায় ২০ থেকে ২২ দিনের চারাগুলো ছিল। জমিতে সার প্রয়োগ করার পরের দিন থেকেই বৃষ্টি শুরু হয়। এক সপ্তাহ ধরে চারাগুলো পানির নিচে থাকায় মাথাগুলো পচন ধরেছে। এই চারাগুলো আর রোপণ করা যাবে না।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর গ্রামের কৃষক আযম আলী জানান, ঘন ঘন বৃষ্টিতে বীজতলা ডুবে গেছে। সব চারা নষ্টের উপক্রম হয়েছে। নতুন করে বীজতলা তৈরির জন্য তিনি বেশি দামে বীজধান কিনেছেন। এতে আমন চাষে প্রায় ২০ দিন পিছিয়ে যাবেন। সদর উপজেলার বাগুড়া গ্রামের কৃষক এনামুল বলেন, এ বছর আমন ধানের চারা রোপণ করার পর থেকেই বৃষ্টি শুরু হয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে তাঁর এলাকার অধিকাংশ ধানের চারা নষ্ট হয়ে গেছে।

অধিদপ্তরের মতামত

এ বিষয়ে গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আতিকুল ইসলাম বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে নিচু এলাকার অনেক আমন ধানের বীজতলা এখনো পানির নিচে ডুবে আছে। আমনের চারাগুলো আক্রান্ত হয়েছে। তবে বীজতলা থেকে পানি নেমে যাওয়ার পরিচর্যা করলে ক্ষতি কমবে বলে তিনি জানান।

Leave a Comment