শিশুদের মৃত্যুতে বাবা-মা বাকরুদ্ধ
আদ দ ব ন হ সপ ত – বাবুগঞ্জ উপজেলার দাসপাড়া গ্রামে বসবাস করেন নন্দীপাড়া এলাকার নাজমা বেগম আর হাসান সরদার। দুই ছেলে সন্তান হারিয়ে তাঁদের চোখ শুষ্ক হয়ে গেছে। কিন্তু দুই শিশুর মৃত্যুর পর তাঁদের প্রতিবেশীদের আত্মীয়স্বজন পরিবার প্রস্তুতি চলছিল শিশুদের বাড়ি নিয়ে ফেরার।
হাসান সরদার নিজে একটি ছোট ব্যবসায়ী। তাঁদের আগের দুই ছেলেসন্তানের পর এবার একসঙ্গে দুই নবজাতক জন্ম নেয়। শনিবার মাগরিবের পর স্ত্রীকে আদ-দ্বীন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে সিজারিয়ান অপারেশনে দুই ছেলে জন্ম হয়। প্রথম তিন দিন বাচ্চারা ভালো ছিল। কিন্তু মঙ্গলবার রাতে সেই অবস্থা অবনত হয়ে যায়।
“বাচ্চাগুলা বমি করতেছিল। একপর্যায়ে আইসিইউতে নেওয়া হয়। তারপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মৃত্যুসনদ তুলে দেয়।”
পরিবারের সদস্যরা জানান, শিশুদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে রাখা হয়নি। বড় সন্তানদের নামের সঙ্গে মিল রেখে নতুন দুই ছেলেকে বাবা-মা চিন্তা করছিলেন। কিন্তু সেই নাম আর রাখা হলো না।
হাসান সরদার অভিযোগ করেন, অসুস্থ শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া হয়নি যথাযথভাবে। অপারেশনের পর ডাক্তাররা বলেন সব ঠিক আছে। কিন্তু কিছুক্ষণ পর ওয়ার্ডে গ্যাসের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। বাচ্চাদের তার ফলে সাড়া দিতে হয় না শিশু মৃত্যুর পর।
আজ বুধবার দুপুরে স্থানীয় মসজিদের কবরস্থানে শিশুদের দাফন করা হয়। তাঁদের আবার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আজকেই তো বাসায় নিয়ে আসার কথা ছিল। এখন কবর দিয়ে ফিরছি।” মা নাজমা বেগম এখন পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে পারেননি। তিনি হাসপাতালের বেডে শুয়ে কেবল নিঃশব্দে কাঁদছেন।
সংশ্লিষ্ট সদস্যদের কাছে জানা গেছে, ঘটনার পর ওয়ার্ডে গ্যাসের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। দায়িত্বে ছিল তিন নার্স—লিজা, রেখা আর তারিনকে খোঁজা হচ্ছে। বিকেল পর্যন্ত একজন নার্স সাড়া দিলেও অন্য দুই নার্স এখনো হাসপাতালে আসেনি।
উল্লেখ্য, আদ-দ্বীন হাসপাতাল দাতব্য প্রতিষ্ঠান আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের মালিকানাধীন। তার প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান সেখ মহিউদ্দিন। তিনি আকিজ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা সেখ আকিজ উদ্দিনের ছেলে।
