নেইমারের জাতীয় দলের বিদায় ঘোষণা
য খ ন শ র স খ – রিও ডি জেনিরোর বিশাল মিলনায়তনে প্রায় সাড়ে ৭০০ সাংবাদিকের উপস্থিতিতে কার্লো আনচেলত্তি নেইমারের নাম ঘোষণা করার সময় তিনি বাসায় বসে পরিবার-বন্ধুবান্ধবদের সাথে তার স্বপ্ন বাস্তবায়নের উদ্যোগ ঘোষণা করেছিলেন। তখন চারদিকে উল্লাস ছড়ায়, নেইমারের চোখে অশ্রু আসে। নিউজার্সি মেটলাইফ স্টেডিয়ামে হার ঘোষণার পর তাঁর বাক্সটি ক্লান্ত শরীরে ভাঙতে থাকে।
নেইমারের স্বপ্ন ব্রাজিলের হেক্সা মিশনে সফলতা পেয়ার সেটা ছিল দীর্ঘ অপেক্ষার পর। তিনি কার্লো আনচেলত্তির পরাজয়ের গতি ও সৃজনশীলতা ফিরিয়ে আনতে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামেন। কিন্তু নরওয়ের আরলিং হালান্ডের দুটি গোল তাঁর সব স্বপ্ন কার্যত শেষ করে।
‘বারবার চেষ্টা করেছি। কিন্তু এবার শেষ। এখানেই শুরু করেছিলাম, এখানেই শেষ।’
নেইমারের মাঠে প্রথম ট্যাকলের সময় তাঁর হতাশার প্রথম প্রকাশ হয়। মার্টিন ওডেগার্ডের কঠিন ট্যাকল দ্বারা তাঁর অশ্রুভেজা চোখ দেখা যায়। পরে কাসেমিরোর ফাউল থেকে পেনাল্টি পেয়ে তিনি নিজে গোল করেন, কিন্তু সময় দ্রুত ফুরিয়ে যায়। মাঠে নামার মাত্র ১০ মিনিট পর হালান্ড নরওয়েকে এগিয়ে দেন এবং ব্রাজিল আবার দীর্ঘ অপেক্ষার পর শেষ ষোলোতে নিখুঁত শটে গোল করে ব্যবধান কমান।
নেইমার যেন দীর্ঘ বছর ধরে একটি অসহায় প্রতিভা হিসেবে খেলছিলেন। ২০২৬ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি দুই মিনিটের মধ্যে অশ্রুভেজা হাসিকে কান্নায় পরিণত করেন। ম্যাচের শেষ ঘটনার পর গ্যালারিতে তাঁর স্ত্রী ব্রুনা বিয়ানকার্দিকে ঘিরে তাঁর অশ্রু নেইমারের আফসোসের নাম করে।
ব্রাজিল জার্সি গায়ে চাপিয়ে নেইমার বিশ্বকাপের ইতিহাসে একটি বিশাল ধাক্কা দেয়। সেই আগস্ট ২০১০ তিনি নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ব্রাজিলের পথচলার শুরু করেন। কিন্তু নরওয়ের বিপক্ষে তাঁর স্বপ্ন ধূলিস্যাৎ হয়ে যায়।
২০১০ সালের আগস্টে বিশ্বকাপ দলের ঘোষণার পর তাঁর পরিশ্রম কার্যত বিশ্বকাপে জাতীয় দল থেকে বিদায় দেয়া হয়। নেইমারের হতাশার মুহূর্তে স্পষ্ট হয়, কিন্তু ব্রাজিল তখন নিজেদের সোনালি অতীত হারিয়ে খুঁজছিল।
