প্রাণবৈচিত্র্য, সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার
প র ণব চ ত র য – বাংলাদেশের মাটির তলায় পানি টেনে তুলে, বিষ আর সংহারী বীজ-বাণিজ্যকে চাঙা রাখতে সরকার দ্বারা প্রচারিত ‘খাদ্যনিরাপত্তা’ শব্দটি ব্যবহার করে সবুজ বিপ্লব চালু করা হয়েছে। কিষানিরা বলেছিল যে বীজ আমাদের বংশরক্ষার হাতিয়ার, কিন্তু রাষ্ট্র তা শুনতে চায়নি। গ্রামের শিশি-বোতল-ডুলি-কলস-রাও-হাঁড়ি সব শূন্য করে বীজসম্পদ বহুজাতিক কোম্পানির হাতে দেওয়া হয়েছে।
প্রাকৃতিক বন কেটে গাছের বাণিজ্যিক বাগান তৈরি করা হয়েছে। পাহাড় খুন করে ক্যাম্প তৈরি করা হয়েছে, অরণ্য হত্যা করে বিমানবাহিনীর ফায়ারিং রেঞ্জ গঠন করা হয়েছে। তেল-গ্যাসের লোভে সুন্দরবনে ঢুকেছিল শেল কোম্পানি। লাউয়াছড়া বন ছিন্নভিন্ন করে অক্সিডেন্টাল, ইউনোকল ও শেভরন নামে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো তা করেছে। গ্রামের শিশি-বোতল-ডুলি-কলস-রাও-হাঁড়ি সব শূন্য করে বীজসম্পদ বহুজাতিক কোম্পানির হাতে দেওয়া হয়েছে।
হাজারো নামের ধান কি শস্যের বৈভব এক এক করে নিরুদ্দেশ হয়ে গেল। বিল থেকে বাদাবনের গ্রামে ঢুকে পড়ল হাইব্রিডের মতো সংহারী বীজ। এসব বীজ চাষ করে দিনকে দিন কৃষকের সঙ্গে কোম্পানির সংঘর্ষ তৈরি হলো।
গ্রামের বাচ্চা থেকে বুড়ো সবাই চোখের পানি আর বুকের দরদ ঢেলে হাত-পা জড়িয়ে ধরে বলেছিল যে নদীটি আমাদের মেয়ে। সেই বিষয়টি সরকার বাহাদুর করেনি। প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা কি ব্যবসায়ীরা তা শুনল না। নদীটিকে দূষণ ও দখল করে কারখানার পর কারখানা গড়ে তুলেছে।
বৈচিত্র্যের ধারণা
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক প্রাণবৈচিত্র্য সনদে (সিবিড ১৯৯২) বৈচিত্র্য বলতে স্থল, সমুদ্র, জলভাগ প্রতিবেশসহ সব এলাকার জীবন্ত প্রাণী ও উদ্ভিদের বৈচিত্র্যকে বোঝায়। প্রাণবৈচিত্র্য সাধারণভাবে প্রাণের বিভিন্ন ধরনকে বোঝায়। অন্য কথায় এটি উদ্ভিদ, প্রাণী ও অণুজীবের অগণিত উপস্থিতি।
প্রজাতির মধ্যকার বৈচিত্র্য, প্রজাতিতে প্রজাতিতে বৈচিত্র্য এবং পরিবেশ পদ্ধতির বৈচিত্র্যকে একত্রে বোঝায়। যেমন মানুষ, কাছিম, গরু, শামুক, শূকর, মাকড়সা, ধান, তুলা, আম, কচু—এরা প্রতিটিই একেকটি আলাদা প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত।
পরিবেশ পদ্ধতির বৈচিত্র্য হলো বিভিন্ন ধরনের বাস্তুসংস্থান এবং পরিবেশ পদ্ধতির বৈচিত্র্য। যেমন সুন্দরবন, শালবন, জলাবন, কাশবন, পাহাড়ি বন এক রকম নয়। বাংলাদেশে প্রাণবৈচিত্র্য বা বায়োডাইভার্সিটিকে কেবল ‘জীববৈচিত্র্য’ দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়। যিনি বা যাঁরা এর বাংলা করেছেন, তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গিগত ভুল ছিল।
প্রাণবৈচিত্র্য বিষয়ে তাঁদের ধারণার পরিসর খুব সীমিত এবং বাইনারি। জীববৈচিত্র্য দিয়ে কোনোভাবেই বায়োডাইভার্সিটি বোঝা যায় না। কিন্তু প্রশ্ন হল
