একটি স্বপ্নের মৃত্যু: বিপ্লব নাকি গণ-অভ্যুত্থান?
স্বপ্নের প্রাণ নিয়ে আন্দোলন
একট স বপ ন র ম ত – ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে ঘটেছিল কয়েকটি ঘটনা যার প্রতি বহুদিন ধরে বিতর্ক চলছিল। এই সময়ের ঘটনাবলি বিপ্লব হিসেবে না গণ-অভ্যুত্থান হিসেবে বিবেচিত হবে কিনা তা নিয়ে মানুষ বহুদিন ধরে চিন্তা করছিল। এখন তারা তা ব্যাখ্যা করছেন বিভিন্ন ধরনে। বিশেষ করে যখন পরিষ্কার হয়ে উঠছে যে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী তৎপরতার ইন্ধন ছিল তাতে, তখন থেকে সেই স্বপ্ন মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছে। স্বপ্নের মৃত্যু হিসেবে একটি ধারণা গড়ে উঠেছে, যার সম্পূর্ণ মূল্য নির্ণয় করতে হবে সমালোচনার মাধ্যমে।
স্বপ্নের মৃত্যু কী আন্দোলনের পরিণতি?
ধুঁকে ধুঁকে সেই স্বপ্নের মৃত্যু হয়েছে। যে প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থা পরিবর্তনের মাধ্যমে ন্যায়ভিত্তিক বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার করেছিলেন আন্দোলনের নেতারা, তাঁদের আদতে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পেরেছেন কিনা তা নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। আওয়ামী লীগের শাসনব্যবস্থা নিয়ে যে প্রশ্নগুলো উঠেছিল, সেগুলো কি আজও প্রাসঙ্গিক নয়? তাহলে পরিবর্তনটি হলো কোথায়? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে সমাজ ও রাজনীতি।
ইতিহাসের সাক্ষী হিসেবে স্বপ্নের মৃত্যু
ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না। প্রত্যেককে তার অন্যায় করা অনেক সময় জবাবদিহি করতে হয়। আন্দোলনের কিছু অংশের ফয়সালা হয়েছিল নির্বাচনের মাঠে, আর কিছু অংশের ফয়সালা হয়েছিল জনগণের মনস্তাত্ত্বিক বাঁক পরিবর্তনে। ইতিহাসের কোনো সময়ে সেই ফয়সালাগুলো দেখার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রস্তুত থাকতে হবে। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, বিভিন্ন বাম দল থেকে বাদ যাবে না। এই স্বপ্নের মৃত্যু বিশ্বাস বোধহয় একটি নতুন যুগের প্রতিশ্রুতি ছিল।
কেউ এখন ফল ভোগ করছে, কেউ ভবিষ্যতে করবে। আফসোস হলো, কোনো দলই তার নিজের করা ভুলগুলো স্বীকার করে না, বরং তার সাফাই গায়। এই স্বপ্নের মৃত্যু কী ভবিষ্যতের সংকটের প্রাচুর্য ঘটেছে তার প্রমাণ করে।
পতিত দলগুলো ক্ষমতায় ফিরে আসে অন্য দলগুলোর দিক থেকেও ইতিবাচক কোনো পরিবর্তন
