National

বন্যা পরিস্থিতি: সার্বিকভাবে উন্নতি হলেও বৃষ্টিতে নতুন প্লাবনের শঙ্কা

Foto : Joseph Lopez - banglajibon.com

বন্যা পরিস্থিতিতে ধীরে ধীরে উন্নতি, কিন্তু নতুন ঝুঁকির আশঙ্কা

Banglajibon.com – বন য পর স থ ত – দেশজুড়ে বন্যা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিকের দিকে এগোচ্ছে। গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত শুধুমাত্র সিলেট অঞ্চলের কুশিরা নদীর দুটি পয়েন্টে পানির স্তর বিপৎসীমা অতিক্রম করেছিল। তিন দিনের মধ্যে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আগামী কয়েক দিনে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের কারণে উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলার নিচু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা প্রবল। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি) এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের যৌথ পূর্বাভাসে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

নদীগুলোর পানির স্তর ও ভবিষ্যৎ পূর্বাভাস

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল দেশের শুধুমাত্র একটি নদীর দুটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার উপরে ছিল। কুশিরা নদীর সুনামগঞ্জের মার্কুলি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার এবং সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ৩৭ সেন্টিমিটার উপরে প্রবাহিত হচ্ছিল। পর্যবেক্ষণে থাকা মোট ১২৭টি পয়েন্টের মধ্যে ৬৬টিতে পানি কমেছে এবং ৫২টিতে বেড়েছে। সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, সুরমা-কুশিরা অববাহিকার নদ-নদীর পানি আগামী দুই দিনে কমতে পারে। এতে আগামী তিন দিনের মধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

অন্যদিকে রাজশাহী বিভাগের আত্রাই ও ছোট যমুনার পানি কমলেও আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় নওগাঁ ও নাটোরের কিছু এলাকায় নদীর পানি বেড়ে সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে। এতে নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ব্রহ্মপুত্র, যমুনা ও পদ্মা নদীর পানি আগামী দুই দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে। তবে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার নিচু এলাকার কিছু অংশে সাময়িক বন্যা দেখা দিতে পারে।

দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের গোমতী, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি আগামী এক দিন বাড়তে পারে। এরপর দুই দিন তা স্থিতিশীল থাকতে পারে। তবে মুহুরী ও ফেনী নদীর পানি কমছে।

বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস ও রেকর্ড

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে। পরবর্তী দুই দিন দেশের অধিকাংশ এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ২৭ ও ২৮ জুলাইও বৃষ্টির এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সর্বোচ্চ ৯৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে টেকনাফে। এছাড়া কক্সবাজারে ৮৩ মিলিমিটার, সাতক্ষীরায় ৮১ মিলিমিটার, মহেশখালীতে ৬২ মিলিমিটার এবং খুলনায় ৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। উত্তর সীমান্তের ওপারে ভারতের মেঘালয়েও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু দেশের দক্ষিণাঞ্চলে সক্রিয় এবং অন্যত্র মোটামুটি সক্রিয় রয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরেও এটি মাঝারি অবস্থায় রয়েছে। ফলে আগামী পাঁচ দিন সারা দেশে বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

Leave a Comment