International

দুপক্ষের সংঘর্ষে নিহত ৬—এবার পশ্চিমতীরে বড় অভিযানের প্রস্তুতি ইসরায়েলের

Foto : Betty Thomas - banglajibon.com

পশ্চিমতীরে সংঘর্ষের পর ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ব্যাপক অভিযানের প্রস্তুতি

Banglajibon.com – দ পক ষ র স ঘর ষ – চার ফিলিস্তিনি ও দুই ইসরায়েলি সৈন্যের মৃত্যুর পর ওই অঞ্চলে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালানোর জন্য ইসরায়েলি সেনাবাহিনী প্রস্তুতি নিচ্ছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) সংঘটিত ওই সংঘর্ষের পর ফিলিস্তিনি গ্রাম তেল ও বুরেইজ এবং কাছের ইহুদি বসতি শিলোতে কারফিউ জারি করা হয়েছে।

সংঘর্ষের বিস্তারিত বিবরণ

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, শুক্রবার একদল ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী বেসামরিক নাগরিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ এমন একটি এলাকা ‘অনুমোদনহীন ও সমন্বয়হীনভাবে’ হাঁটতে গেলে স্থানীয় ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। তেল গ্রামের কাছে ওই সংঘর্ষ একপর্যায়ে বন্দুকযুদ্ধে রূপ নেয়। এতে চার ফিলিস্তিনি ও দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হন।

সংঘর্ষে আরও এক ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে আইডিএফ। তবে ওই ভিডিওতে ঠিক কখন ওই দুই ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, নিহত চার ফিলিস্তিনিকে ইসরায়েলি সেনারা গুলি করে হত্যা করেছে। তেল গ্রামের কমিটির প্রধান ওয়ালিদ জেইদেন জানিয়েছেন, নিহতরা একই পরিবারের সদস্য—দুই সহোদর ও দুই চাচাতো ভাই।

ইসরায়েলি মন্ত্রীর আহ্বান ও ঘটনার পরিস্থিতি

ইসরায়েলের উগ্র ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ওই এলাকার ফিলিস্তিনি গ্রামগুলো ধ্বংসের আহ্বান জানিয়েছেন।

নিজেদের সুরক্ষার জন্য মানুষগুলোকে সরিয়ে নিতে হবে এবং এলাকার নিরাপত্তা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য সন্ত্রাসী অবকাঠামো ও সন্ত্রাসীদের নির্মূল করতে হবে।

ঘটনাস্থলের একটি ভিডিওতে ইসরায়েলি সেনা ও অস্ত্রধারী বসতি স্থাপনকারীদের ফিলিস্তিনিদের এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতে দেখা গেছে। পটভূমিতে হিব্রু ভাষায় ‘প্রতিশোধ’ নেওয়ার আহ্বানও শোনা যাচ্ছে। ভিডিওতে এক অস্ত্রধারী বসতি স্থাপনকারীকে দুই ফিলিস্তিনি ব্যক্তির দিকে এগিয়ে গিয়ে রাইফেল দিয়ে তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতে দেখা যায়। পরে তাদের একজন ওই অস্ত্রটি কেড়ে নিলে বিভিন্ন স্থান থেকে অন্তত এক ডজন গুলির শব্দ শোনা যায়।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি ওই ব্যক্তি কাছের হাভাত গিলাদ বসতির এক নিরাপত্তাকর্মীর কাছ থেকে অস্ত্রটি কেড়ে নেন। পরে ওই নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন।

অভিযান ও অন্যান্য হামলার খবর

আইডিএফ ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে বিবেচনা করছে এবং ঘটনার জেরে কয়েক ডজন ফিলিস্তিনিকে ধরতে এলাকায় ‘ব্যাপক ধরনের’ অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়েছে। ওই এলাকায় দায়িত্ব পালনরত সেনাদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলাও অব্যাহত রয়েছে। ফারাতা, ইমাতিন, জিত, ইরাক বুরিন ও হেবরনের মাসাফের ইয়ত্তা এলাকায় হামলার খবর পাওয়া গেছে। ফারাতায় বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় বাড়িঘর, গাছ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, ওই হামলায় অন্তত আটজন আহত হয়েছেন; তাদের মধ্যে ছয়জন গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এই ঘটনার পর ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ওই এলাকায় নতুন বসতি স্থাপনের ফাঁড়ি বা খামার দ্রুত প্রতিষ্ঠা এবং বিদ্যমান ফাঁড়িগুলোকে বৈধতা দেওয়ার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। অধিকৃত পশ্চিমতীরে ইসরায়েলি বসতিগুলো আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অবৈধ বলে বিবেচিত হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেখানে বহু অনানুমোদিত বসতি স্থাপনের ফাঁড়ি গড়ে উঠেছে। শুক্রবারের সংঘর্ষটি পশ্চিমতীরে সাম্প্রতিক সহিংসতা বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে।

Leave a Comment