Lifestyle

পাহাড়ে গিয়ে কেন বারবার পথ হারাচ্ছে জেন-জি

Foto : James Anderson - banglajibon.com

Banglajibon.com – প হ ড় গ য় ক ন – “`html

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আকর্ষণে পাহাড়ে হারিয়ে যাচ্ছে তরুণ প্রজন্ম

সামাজিক মাধ্যমের ছবি-ভিডিওর প্রভাবে পাহাড়, ঝরনা ও মেঘে ঢাকা উপত্যকার দৃশ্য দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে জেনারেশন জেড বা জেন-জির তরুণদের মধ্যে হাইকিংয়ের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। তবে যতটুকু না প্রস্তুতি, তার চেয়ে অনুপ্রেরণা বেশি থাকায় অনেকেই পাহাড়ে গিয়ে বিপদেও পড়ছেন। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে উদ্ধারকারী দলের সহায়তাও নিতে হচ্ছে তাদের।

ইনফ্লুয়েন্সারদের প্রভাব ও প্রস্তুতির অভাব

এই বিষয়ে এক প্রতিবেদনে সম্প্রতি ‘দ্য ইকোনমিস্ট’ জানায়, ‘শটি বয়’ নামে পরিচিত এক তরুণ হাইকিংপ্রেমী স্কটল্যান্ডের পার্বত্য অঞ্চলের মনোমুগ্ধকর ছবি ও ভিডিও নিয়মিত পোস্ট করেন। ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকে তাঁর অনুসারীর সংখ্যা এক লাখের বেশি। ব্যাকপ্যাক, ফ্লাস্ক ও জ্যাকেটসহ পাহাড়ে হাঁটার উপযোগী পোশাকে তাঁকে প্রায়ই দেখা যায়। তাঁর মতো অসংখ্য ইনফ্লুয়েন্সার তরুণদের প্রকৃতির কাছে যেতে নিয়মিত উৎসাহিত করছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাইকিংয়ের অসংখ্য ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় এটি এখন তুলনামূলক কম খরচে শরীরচর্চা ও বিনোদনের জনপ্রিয় মাধ্যম হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন ইনফ্লুয়েন্সার দর্শনীয় পথ, বিশ্রামের স্থান ও পাহাড়ি আশ্রয়কেন্দ্রের তথ্য দেন। ‘অলট্রেইলস’-এর মতো অ্যাপও সহজে হাঁটার পথ খুঁজে পেতে সহায়তা করছে। ফলে মানচিত্র অধ্যয়নের চেয়ে স্মার্টফোনের পর্দায় অভ্যস্ত তরুণদের জন্য পাহাড়ে ঘোরার পরিকল্পনা করা আগের চেয়ে অনেক সহজ হয়েছে।

তবে সমস্যা হচ্ছে, অনেক তরুণ ইনফ্লুয়েন্সারদের অনুসরণ করলেও পাহাড়ি অভিযানের বাস্তব ঝুঁকি সম্পর্কে যথেষ্ট ধারণা রাখেন না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা ছবি দেখে তারা অনেক সময় প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, আবহাওয়া ও ভূপ্রকৃতি সম্পর্কে প্রস্তুতি ছাড়াই বেরিয়ে পড়ছেন।

পরিসংখ্যান ও ঘটনার প্রমাণ

ফলস্বরূপ এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, স্কটল্যান্ডের হাইল্যান্ডসে ১৭ থেকে ২৫ বছর বয়সীদের পর্বতারোহণ-সংক্রান্ত দুর্ঘটনা ২০২২ সালের পর থেকে প্রায় চার গুণ বেড়েছে। ২০১৮ সালে হাইল্যান্ডসে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মাত্র ১৫ শতাংশ ছিল এই বয়সী। গত বছর সেই হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫ শতাংশে। একসময় সেখানে সবচেয়ে বেশি সহায়তার প্রয়োজন হতো মধ্যবয়সী হাইকারদের।

শুধু স্কটল্যান্ড নয়, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, ইতালি ও সুইজারল্যান্ডেও তরুণদের পাহাড়ে বিপদে পড়ার ঘটনা বাড়ছে। উদ্ধারকারীরা বলছেন, সামগ্রিকভাবে হাইকিংয়ের জনপ্রিয়তা বাড়লেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব তরুণদের ঝুঁকিপূর্ণ আচরণে উৎসাহিত করছে। মনোরম ছবি তুলতে গিয়ে কেউ কেউ বিপজ্জনক জায়গায় চলে যাচ্ছেন। অথচ তাঁদের কাছে নেই প্রয়োজনীয় পোশাক বা সরঞ্জাম।

সম্প্রতি ব্রিটেনের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বত থেকে ২০-এর কোঠার দুই তরুণকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের সময় ঘটনাস্থলে ‘ফিলস লাইক’ তাপমাত্রা ছিল মাইনাস ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অথচ উদ্ধার হওয়া তরুণদের পরনে ছিল ট্র্যাকস্যুট ও সাধারণ স্পোর্টস জুতা। আরেক ঘটনায় দুই তরুণ কম্পাস ও উপযুক্ত জ্যাকেট ছাড়াই স্কটল্যান্ডের পাহাড়ে আটকা পড়েছিলেন। উদ্ধারকারীদের মতে, সময়মতো সহায়তা না পেলে তাদের মৃত্যু হতে পারত।

হাইকিংয়ের উপকারিতা ও সতর্কতা

হাইকিংয়ের উপকারিতা অবশ্য অস্বীকার করার উপায় নেই। এটি পেশি, হাঁটু ও হৃদ্‌যন্ত্রের জন্য উপকারী এবং প্রকৃতির মাঝে হাঁটা মানসিক স্বাস্থ্যেরও উন্নতি ঘটায়। জেন-জির প্রকৃতির কাছে ফেরার এই আগ্রহ নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। তবে পাহাড়ে যাওয়ার আগে প্রয়োজন যথাযথ প্রস্তুতি, আবহাওয়ার ধারণা, উপযুক্ত পোশাক-সরঞ্জাম এবং নিরাপত্তা সম্পর্কে জ্ঞান। শুধু ছবি তোলার জন্য নয়, নিরাপদে ফিরে আসার জন্যও পাহাড়ে যেতে হবে।

“`

Leave a Comment