Bangladesh

চলনবিল অঞ্চলে ভালো ফলন, ভালো দামে ফিরতে পারে পাটের সুদিন

Foto : Mary Taylor - banglajibon.com

চলনবিলের কৃষকদের আশার আলো: পাট চাষে নতুন উৎসাহ

Banglajibon.com – চলনব ল অঞ চল ভ ল ফলন – প্রণোদনা কর্মসূচির অভাব ও বাজারজাতকরণের সমস্যার কারণে পাট চাষে আগ্রহ হারিয়েছিলেন এ দেশের কৃষকরা। একসময়ের সোনালী আঁশ হিসেবে পরিচিত পাটের ঐতিহ্যও ঝুঁকির মধ্যে পড়েছিল। তবে চলতি বছরে পরিস্থিতি বদলে গেছে। ভালো ফলনের পাশাপাশি বাজারে পাটের দাম বেড়েছে, যা কৃষকদের মধ্যে আশার আলো জাগিয়েছে।

চলনবিল অঞ্চলের পাবনার চাটমোহরে পাট চাষিরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। পাট কাটা, জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়া, ধোয়া ও শুকানোর কাজে তাদের দিন কাটছে। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এই মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে।

লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আবাদ

চাটমোহর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা মিলিয়ে এবার পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮ হাজার ৯০০ হেক্টর। কিন্তু বাস্তবে আবাদ হয়েছে ৮ হাজার ৯৬০ হেক্টর জমিতে। বিঘাপ্রতি ফলনও ভালো হয়েছে। সনাতন পদ্ধতি বাদ দিয়ে আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর পাট চাষ, পাট বীজ উৎপাদন এবং কৃষি অফিসের সার্বক্ষণিক সহায়তায় এলাকার কৃষকরা সুফল পাচ্ছেন।

বর্তমানে পাটের ভালো দাম থাকায় কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিচ্ছে। তবে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে।

কৃষকদের অভিজ্ঞতা

ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের দাথিয়া কাঁড়াপাড়া গ্রামের আজিজল প্রামানিক জানান, তিনি ১২ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। তিনি বলেন,

দাম বেশি পাচ্ছি, ঠিক আছে, কিন্তু কামলার (কৃষিশ্রমিক) মজুরি বিঘাপ্রতি ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা লাগছে। তাও পাওয়া যাচ্ছে না। তা ছাড়া ভরা মৌসুমে পর্যাপ্ত পানিও নেই। পানির অভাবে পাট জাগ দেওয়াতেও সমস্যা হচ্ছে।

হান্ডিয়াল ইউনিয়নের রওশন আলী বলেন, তিনি ৬ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। এ বছর অন্য বছরের তুলনায় পাট অনেক লম্বা হয়েছে। তিনি ৪ বিঘা জমির পাট কেটে পাটকাঠি থেকে আঁশ ছাড়িয়ে রোদে শুকাচ্ছেন। বাকি পাট কাটা ও ধোয়ার কাজ চলছে। দাম ভালো পেলে কষ্ট পুষিয়ে যাবে বলে তিনি জানান।

মথুরাপুর ইউনিয়নের ভাড়া গ্রামের কৃষক মোজাম্মেল হোসেন জানান, তিনি ৭ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। এ বছর পাটে আশানুরূপ ভালো ফলন পাওয়া যাচ্ছে। তবে ভরা মৌসুমে ফড়িঁয়াদের সিন্ডিকেটের কারণে অনেক সময় কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পান না। এ বিষয়ে সরকারের নজর দেওয়া উচিত।

শ্রমিক সংকট ও উৎপাদন খরচ

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইদুর রহমান সাঈদ বলেন, চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যমতে, পাটের যে ফলন পাওয়া যাচ্ছে তাতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।

রোপা আমন ধান রোপণ ও পাট কাটা একসাথে শুরু হওয়ার উপজেলা জুড়ে শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। উচ্চ মূল্যে শ্রমিক নেওয়ার কারণে উৎপাদন খরচও বেড়েছে। তবে কাঙ্ক্ষিত বাজার মূল্য পেলে পাট চাষিরা লাভবান হবেন বলে তিনি মনে করেন।

পাটপণ্যের বহুমুখী ব্যবহার

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কুন্তলা ঘোষ জানান, পাটপণ্যের বহুমুখী ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ার দিন দিন পাটের আবাদ বাড়ছে। পাটকাঠিরও বহুমুখী ব্যবহার শুরু হয়েছে। এতে পাট চাষে কৃষকদের মধ্যে সাড়া সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে রাসায়নিক সার ও বীজ বিতরণ করা হয়েছে। এর ফলে আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে।

Leave a Comment