National

জুলাইয়ের মৃত্যুসংখ্যা নিয়ে শেখ হাসিনার আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের দাবি নাকচ জাতিসংঘের

জাতিসংঘের মৃত্যুসংখ্যা নিয়ে শেখ হাসিনার আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের দাবি নাকচ করা হয়েছে

জ ল ইয় র ম ত য – জুলাই-আগস্টের জনগণ উত্থানের সময় বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে জাতিসংঘ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। গত সোমবার (১ জুন) নিউইয়র্কে আয়োজিত নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এক প্রশ্নের জবাবে জানান, জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ে কর্মরত সহকর্মীদের রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে কোনো প্রশ্ন তুলার কারণ তাঁদের দেখছে না।

বিক্ষোভকারী নিহতের সংখ্যা বিতর্কের মূল প্রশ্ন

বাংলাদেশে জুলাই অভ্যুত্থানের পর জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের রিপোর্টে ১ হাজার ৪০০ জন বিক্ষোভকারী মৃত্যুবিধানের হিসাব দেওয়া হয়েছিল। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার দাবি করেছে যে এটি পূর্ণত সত্য নয়। তবে ডুজারিক এ বিষয়ে কোনো বিশ্বাসঘাতকতা করে না বলে সংক্ষেপে দাবি করেন।

“প্রতিবেদনটি জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয়ে কর্মরত আমাদের সহকর্মীরা প্রকাশ করেছেন। তার উপর প্রশ্ন তোলার কোনো কারণ আমরা দেখছি না,” ডুজারিক বলেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের গেজেট অনুযায়ী মৃত্যুর সংখ্যা জাতিসংঘের তথ্যের প্রায় অর্ধেক। ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের দাবি অনুসারে নিহতের সংখ্যা আরও কম। এ বিষয়ে তাদের একটি চিঠি জাতিসংঘের কাছে পাঠানো হয়। চিঠিতে এই তথ্য বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক বলে অভিহিত করা হয়।

পূর্বের প্রতিক্রিয়া ও বর্তমান স্থিতি

২৮ মে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ের হাইকমিশনার ফলকার তুর্কে শেখ হাসিনার আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ডটি স্ট্রিট চেম্বার একটি চিঠি পাঠায়। চিঠিতে বলা হয় যে ওই সময়ে মৃত্যুর হিসাবে বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা ভুল হয়েছে। এ বিষয়ে জাতিসংঘ কর্তৃক প্রকাশিত ফলাফলের বিরুদ্ধে সংশোধনী ও প্রকাশ্য প্রত্যাহারের বিবৃতি জারি করা হয়।

“সরকারি গেজেট অনুযায়ী নিহত ব্যক্তির সংখ্যা জাতিসংঘের উল্লেখ করা সংখ্যার প্রায় অর্ধেক। অন্যান্য নিরপেক্ষ প্রতিবেদনে এই সংখ্যা আরও কম বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে,” চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

৮৩৪ জন নিহতের হিসাব সম্পর্কেও প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বাসযোগ্যতা বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে। তবে জাতিসংঘ সোমবার ঘোষণা করেছে যে তারা এই দাবি মানছে না।

Leave a Comment