National

রাষ্ট্রপতির বিদায়: বঙ্গভবন ছেড়ে কাল উঠছেন গুলশানে নিজের ফ্ল্যাটে

Foto : Richard Smith - banglajibon.com

মো. সাহাবুদ্দিনের বঙ্গভবন ত্যাগের পূর্বপ্রস্তুতি সম্পন্ন

Banglajibon.com – র ষ ট রপত র ব দ – স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের নিকট পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর মো. সাহাবুদ্দিন সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে আছেন। তবে পদ ছাড়ার পরও তিনি আরও দুই দিন বঙ্গভবনে থাকবেন। আজ শনিবার বেলা ১২টায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে বিদায়ী বৈঠক করবেন তিনি। এরপর রোববার গুলশানের নিজস্ব ফ্ল্যাটে ফিরে যাবেন। বঙ্গভবনের একাধিক সূত্র থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

চিকিৎসা সংক্রান্ত গুঞ্জন নাকচ

গতকাল শুক্রবার বিকেলে মো. সাহাবুদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন—এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম তা নাকচ করেছেন। তিনি আজকের পত্রিকাকে জানান, সাবেক রাষ্ট্রপতি শুক্রবার বঙ্গভবনেই ছিলেন। চিকিৎসার জন্য দুইবার তিনি সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) গিয়েছিলেন।

দুই-তিন দিন আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ধরা পড়েছে যে তিনি অটোনমিক নিউরোপ্যাথিতে আক্রান্ত। কিন্তু আজ এমন কিছু হলে জানতাম। তিনি বঙ্গভবনেই আছেন।

সরওয়ার আলম আরও বলেন, পদত্যাগ করলেও মো. সাহাবুদ্দিন প্রটোকলের বাইরে যাননি। নিয়ম অনুযায়ী আগামী ছয় মাস তিনি প্রটোকল পাবেন। নিয়ম মোতাবেকই তিনি বঙ্গভবন থেকে বিদায় নেবেন। নিয়ম অনুযায়ী কোনো রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবন থেকে বিদায় নেওয়ার আগে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিদায়ী বৈঠক করে থাকেন।

পূর্ববর্তী কর্মজীবন ও ফিরতি পথ

রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন বিতর্কিত শিল্প ও বাণিজ্য গোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইসলামী ব্যাংক ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে ছিলেন। তখন তিনি গুলশান-১ নম্বরে নিজের ফ্ল্যাটে থাকতেন। জানা গেছে, বঙ্গভবন থেকে বিদায় নেওয়ার পরে তিনি পুরোনো ঠিকানাতেই ফিরবেন।

এরই মধ্যে বঙ্গভবনে থাকা মো. সাহাবুদ্দিনের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র গোছানোর কাজ শেষ পর্যায়ে। রোববারই তিনি বঙ্গভবন ছেড়ে গুলশানের ফ্ল্যাটে উঠবেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। এরপর তিনি দেশে কিংবা সিঙ্গাপুরে গিয়ে ডাক্তার দেখাতে পারেন বলেও জানিয়েছে সূত্রটি।

সাবেক রাষ্ট্রপতির সুযোগ-সুবিধা

২০১৬ সালের ‘রাষ্ট্রপতির অবসরভাতা, আনুতোষিক ও অন্যান্য সুবিধা আইন’ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে মেয়াদ শেষ করেছেন কিংবা কমপক্ষে ছয় মাস দায়িত্ব পালন করেছেন—এমন ব্যক্তি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে প্রতি মাসে সর্বশেষ যে বেতন পেতেন, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তার ৭৫ শতাংশ হারে মাসিক অবসরভাতা পাবেন। আইনে এ অবসরভাতা ছাড়াও বেশ কিছু সুযোগ-সুবিধার কথা উল্লেখ রয়েছে।

যেমন, সাবেক রাষ্ট্রপতি একজন ব্যক্তিগত সহকারী ও একজন অ্যাটেনডেন্ট পাবেন। দাপ্তরিক বাহন পাবেন, যার মোট বার্ষিক অঙ্ক সরকার নির্ধারণ করবে। পাশাপাশি সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য বিনা মূল্যে সরকারি যানবাহন ব্যবহারের সুবিধা, আবাসস্থলে একটি টেলিফোন সংযোগ এবং সরকার নির্ধারিত সীমা পর্যন্ত এর বিল পরিশোধ থেকে অব্যাহতি পাবেন।

এ ছাড়া সাবেক রাষ্ট্রপতি একজন মন্ত্রীর সমপরিমাণ চিকিৎসা-সুবিধা ও কূটনৈতিক পাসপোর্ট পাবেন। দেশের ভেতর ভ্রমণকালে সরকারি সার্কিট হাউস বা রেস্ট হাউসে বিনা ভাড়ায় অবস্থানের সুবিধা পাবেন। তবে পদত্যাগের পর মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি পদে থাকার সময়ে প্রাপ্য বিশেষ সাংবিধানিক প্রাধান্য আর পাবেন না।

Leave a Comment