Lifestyle

সাঁঝবেলায় রাতের খাবার: টিকটকের ট্রেন্ড নাকি ঘুমের সমাধান

Foto : Betty Thomas - banglajibon.com

স ঝব ল য় র ত: টিকটকের ট্রেন্ড নাকি বৈজ্ঞানিক সত্য?

Banglajibon.com – স ঝব ল য় র ত র – সোশ্যাল মিডিয়ার ফিডে স্ক্রল করতে করতে নতুন নতুন ট্রেন্ডের দেখা মেলে। এর মধ্যে টিকটক অন্যতম জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম। মাঝেমধ্যেই এখানে প্রচলিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ব্যবহারকারীদের মধ্যে একধরনের উন্মাদনা দেখা দেয়। সম্প্রতি টিকটকে এক নতুন ট্রেন্ড বেশ ঝড় তুলেছে, এর নাম আর্লি বার্ড ডিনার। এখানে দাবি করা হচ্ছে, ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত ৪-৫ ঘণ্টা আগে বা বিকেল ৫টার মধ্যে রাতের খাবার পর্ব সেরে ফেললে রাতের ঘুম হবে একবারে নিবিড় ও নির্ভর। অর্থাৎ সাঁঝবেলার রাতের খাবার সেরে ফেললে ভালো ঘুম আসতে পারে।

বৈজ্ঞানিক ভিত্তি কতটা শক্ত?

অন্যান্য টিকটক হ্যাকের মতো এটিকে কি স্রেফ বানিয়ে বলা ট্রেন্ড ভাবছেন? স্বাস্থ্যবিজ্ঞানীরা কিন্তু আপনার মতো ভাবছেন না। তাঁরা বলছেন ভিন্ন কথা। শরীরের নিজস্ব ঘড়ি বা বায়োলজিক্যাল ক্লকের সঙ্গে এই সোশ্যাল মিডিয়া ট্রেন্ডের অদ্ভুত মিল আছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যবিজ্ঞানীরা। রাত গভীর হওয়ার বেশ আগে সন্ধ্যাকালীন খাবার খেয়ে ফেলা হলো আর্লি বার্ড ডিনার।

ঘুমাতে যাওয়ার আগে পরিপাকতন্ত্রকে বিরতি দিলে ঘুমের মধ্যে হজমপ্রক্রিয়ার ব্যস্ততা কমে। ফলে মাঝরাতে রক্তে কর্টিসল বা স্ট্রেস হরমোন বাড়ার ঝুঁকি থাকে না।

প্রখ্যাত মার্কিন মনোরোগ ও নিদ্রা বিশেষজ্ঞ ড. অ্যালেক্স দিমিত্রিউর মতে, এটি এমন এক বিরল সোশ্যাল মিডিয়া ট্রেন্ড, যা মানুষের সাধারণ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ার সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যায়। ঘুমাতে যাওয়ার আগে পরিপাকতন্ত্রকে বিরতি দেওয়া হলে ঘুমের মধ্যে হজমপ্রক্রিয়ার ব্যস্ততা কমে। ফলে মাঝরাতে রক্তে কর্টিসল বা স্ট্রেস হরমোন বাড়ার ঝুঁকি থাকে না। এর কারণে পাকস্থলীর অ্যাসিড গলার দিকে উঠে আসার সমস্যা বা অ্যাসিডিটি বা রিফ্লাক্স কমে। এতে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে না।

২০২১ সালে ‘দ্য জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল এন্ডোক্রিনোলজি অ্যান্ড মেটাবলিজম’-এ প্রকাশিত গবেষণার তথ্য অনুযায়ী রাত ৯টার বদলে সন্ধ্যা ৬টার রাতের খাবার খেলে তা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা উন্নত করে এবং শরীরের ফ্যাট ও কার্বোহাইড্রেট পোড়ানোর গতি বাড়ায়। যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোরে অবস্থিত বিখ্যাত জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা অনুষদের একদল গবেষক ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ এই গবেষণা পরিচালনা করেন।

২০২৩ সালে চিকিৎসা সাময়িকী ‘নেচার কমিউনিকেশনস’-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় উঠে এসেছে, যাঁরা রাত ৯টার পর রাতের খাবার খান, রাত ৮টার আগে খাবার খাওয়া ব্যক্তিদের তুলনায় তাঁদের স্ট্রোক বা মস্তিষ্কের রক্তনালির রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি প্রায় ২৮ শতাংশ বেশি। গবেষণাটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন ফ্রান্সের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ অ্যান্ড মেডিকেল রিসার্চ, সিএনআরএস এবং বার্সেলোনা ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল হেলথের পুষ্টিবিজ্ঞানী ও মহামারি-সংক্রান্ত একদল গবেষক।

ঘুমের জন্য অতিরিক্ত পরামর্শ

কেবল খাবারের সময় নয়, রাতের ঘুম নিশ্চিন্ত ও গভীর করতে বিশেষজ্ঞদের আরও কিছু পরামর্শ মেনে চলা উচিত। শোওয়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে মোবাইল, টিভি কিংবা ল্যাপটপের পর্দা থেকে চোখ ফিরিয়ে নিন। এসব স্ক্রিনের নীল আলো ঘুমের প্রাকৃতিক হরমোন মেলাটোনিন উৎপাদনে বাধা দেয়। ঘর যতটা সম্ভব অন্ধকার, ঠান্ডা ও শান্ত রাখুন। প্রয়োজনে আই মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন। ঘুমানোর অন্তত ৩ ঘণ্টা আগে কফি, চা বা অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন। এগুলো ঘুমের গভীর স্তরগুলোকে বিনষ্ট করে এবং মাঝরাতে বারবার বাথরুমে যাওয়ার তাগিদ তৈরি করে।

যদিও ৪-৫ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করা বেশির ভাগ মানুষের জন্যই চমৎকার অভ্যাস, তবে ডায়াবেটিস বা লো ব্লাড সুগারের রোগীদের ক্ষেত্রে হুট করে খাবারের সময় পরিবর্তন করা বিপজ্জনক হতে পারে। তাই বিশেষ কোনো শারীরিক অবস্থা থাকলে জীবনযাত্রার এই পরিবর্তন আনার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিছানার এপাশ-ওপাশ করে রাত কাটানোর অভ্যাস থেকে মুক্তি পেতে আজই আপনার রাতের খাবারের টেবিলে একটু পরিবর্তন এনে দেখতে পারেন। কে বলতে পারে, সাধারণ এক টিকটক ট্রেন্ডই হতো আপনার শান্তির ঘুমের চাবিকাঠি হয়ে উঠতে পারে। সূত্র: হেলথ লাইন

Leave a Comment