Lifestyle

দিনে তিন বেলা খাবার খাওয়া কি আসলেই জরুরি

দিনে তিন বেলা খাবার খাওয়া কি আসলেই জরুরি

প্রথম সময়ের তথ্য ও বিবেচনা

দ ন ত ন ব ল খ – দিনে তিন বেলা খাবার খাওয়া আমরা সাধারণত গুরুত্ব দেই। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন যে, সারা দিনে একই সময়ে তিনটি খাবার খাওয়া কি আসলেই আবশ্যক? মার্কিন খাদ্য বিষয়ক লেখিকা এম এফ কে ফিশারের ১৯৪২ সালে প্রকাশিত বই ‘হাউ টু কুক আ উলফ’ থেকে এমন তথ্য পাওয়া যায়। তিনি বলেন, সবার প্রতিদিন তিন বেলা খাবারের প্রয়োজন হয় না বা তারা তা চায়ও না। অনেকে দুই বেলা, আড়াই বেলা বা অল্প অল্প করে পাঁচ বেলা খাবারের মাধ্যমে বেশি স্বচ্ছন্দতা অনুভব করে।

জীবনযাপন আন্দোলন এবং খাবার প্রথা

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় খাদ্য সংকটের মুখে ফিশার বইটি লিখেছিলেন একটি পরামর্শ হিসেবে। আমেরিকান চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদ জন হার্ভে কেলগ ও সেভেন্থ ডে অ্যাডভেন্টিস্ট চার্চের সহসদস্যদের পরিচালনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্যানাটোরিয়াম স্থাপন করা হয়। সে সময় শিল্প কর্মীদের জন্য হালকা ও পুষ্টিকর খাবার তৈরি করতে হয়েছিল, যার ফলে শিল্পপতিদের কর্মীদের জন্য স্যান্ডউইচ প্রচার করা হয়।

সিরিয়াল বা কর্নফ্লেক্স তৈরি করেছিলেন কেলগের হাত ধরে। তিনি বলেছিলেন যে শ্রমিকদের প্রতি সময় খাওয়া সহজ করে দিতে হবে। এর পর প্রায় এক শতাব্দী পর অনেক বিশ্বাস বিপর্যয় ঘটেছে। যারা শিশুদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য পারিবারিক নৈশভোজের গুরুত্ব তুলে ধরেন, তারা একসঙ্গে খাওয়ার আদর্শ বজায় রেখেছেন। লেখিকা লরা গুডম্যান অনুসারে, রাতের খাবার যেমনই হোক, তা তৈরির কাজটি সাধারণত নারীর ওপর বর্তায়। তাই সন্ধ্যায় একটি ভালো নাশতা খাওয়া স্বতঃস্ফূর্ত আনন্দকে উৎসাহিত করতে পারে।

ট্রেন্ড আর সার্বিক অপরাধ

বর্তমানে খাবারের আইটেমে বিশেষত্ব রাখা ট্রেন্ডি হয়ে উঠেছে। অনুসরণ করতে না পারলে অনেকে অপরাধ বোধ করে। কিন্তু মানবশরীরের জন্য তিন বেলা খাওয়া কি আসলেই জরুরি? ফিশারের বইটি অনুসারে সকাল ও দুপুরে খাওয়ার নিয়মের পেছনে ইতিহাস ভিন্ন। যেমন রাতে খাওয়ার নিয়ম রয়েছে বলে রান্নার চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। অথচ কে কোন ধরনের কাজ করছে তার ওপর খাওয়ার ধারণা নির্ভর করে।

আধুনিক যুগে শিশুদের সার্বিক সুস্থতার জন্য নৈশভোজের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন শিক্ষাবিদ অ্যান মারকোট। তিনি বলেন, রাতে খাওয়া হতে পারে একটি সাধারণ গার্হস্থ্য জীবনের প্রতীক। এটি হতে পারে দুপুরে খাওয়ার সাধারণত প্রচার করা হয়েছে।

Leave a Comment