International

মালিতে হামলা চালানোর কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র

Foto : Jennifer Jones - banglajibon.com

মালিতে সামরিক হামলার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা

Banglajibon.com – ম ল ত হ মল চ ল – যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন পশ্চিম আফ্রিকার মালিতে জামা’আত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল-মুসলিমিন (জেএনআইএম) নামক আল-কায়েদা-সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে। বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এই পরিকল্পনা অনুমোদন পেলে মালি হবে দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্পের সামরিক হামলার তালিকার অষ্টম দেশ। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার সময় ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন যে তাঁর লক্ষ্য হবে বৈশ্বিক সংঘাত কমানো এবং আমেরিকান জনগণের কল্যাণে মার্কিন সম্পদ ব্যবহার করা। কিন্তু জেএনআইএমের বিরুদ্ধে হামলার বিষয়ে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সন্ত্রাসবাদবিরোধী কার্যক্রমবিষয়ক সিনিয়র পরিচালক সেবাস্টিয়ান গোরকা সামরিক শক্তি ব্যবহারের জোরালো সমর্থক হিসেবে পরিচিত।

জেএনআইএমের প্রসার ও মালির পরিস্থিতি

মালিতে শক্ত ঘাঁটি গড়ে তোলার পাশাপাশি জেএনআইএম সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলীয় দেশগুলোতে ক্রমবর্ধমান হারে হামলা চালাচ্ছে। বর্তমানে এটি ওই অঞ্চলের সবচেয়ে সশস্ত্র জঙ্গি সংগঠন এবং বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ মানুষের স্থলবেষ্টিত দেশ মালি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসলামপন্থী জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর সহিংসতায় জর্জরিত।

আমরা আঞ্চলিক অংশীদার এবং ন্যাটো মিত্রদের আহ্বান জানাই, যাতে তারা অ্যালায়েন্স অব সাহেল স্টেটসকে জেএনআইএম ও আইএসআইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সমর্থন দেয়।

মালির সামরিক জান্তা সরকার এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তাদের ভাড়া করা রুশ ভাড়াটে যোদ্ধাদের কর্মকাণ্ডও দেশটিকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। বিশেষ করে জেএনআইএম ক্রমেই আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। গত বছর আল-কায়েদা-সংশ্লিষ্ট এই গোষ্ঠীটি জ্বালানি অবরোধ গড়ে তোলে, যার ফলে কার্যত দেশের বড় অংশ অচল হয়ে পড়ে। চলতি বসন্তে তারা দেশজুড়ে সমন্বিত হামলা চালায়।

আফ্রিকান দেশগুলোর রুশ ঝোঁক ও মার্কিন প্রতিক্রিয়া

পশ্চিম আফ্রিকার এই তিন দেশে—মালি, বুরকিনা ফাসো ও নাইজার—সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারগুলোকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে। এরপর তারা পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক অনেকটাই ছিন্ন করে নিরাপত্তা সহায়তার জন্য রাশিয়ার দিকে ঝুঁকেছে।

মস্কো মালির জন্য একটি অকার্যকর নিরাপত্তা অংশীদার হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় রাশিয়ার ভয়াবহ ব্যর্থতা থেকে আফ্রিকার অন্য দেশগুলো শিক্ষা নেবে বলে আমরা আশা করি।

মার্কিন কর্মকর্তা দোষ চাপিয়েছেন দেশগুলোর সরকারের ওপর নয়, বরং তাদের রুশ অংশীদারদের ওপর। ওয়াশিংটন উত্তর ও পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোকে সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জাম ও সেবা কেনার আহ্বান জানিয়ে আসছে।

সামরিক সহায়তা ও বেসামরিক হতাহতের পরিসংখ্যান

সহিংসতা মোকাবিলায় মালির সামরিক জান্তা সরকার প্রথমে ওয়াগনার গ্রুপ এবং পরে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত আফ্রিকা কর্পসের ভাড়াটে যোদ্ধাদের নিয়োগ দেয়। এসিএলইডির তথ্য অনুযায়ী, গত বছর মালির সেনাবাহিনী ও তাদের রুশ অংশীদারদের হাতে ৯২৫ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হন, যেখানে ইসলামপন্থী জঙ্গিদের হাতে নিহত হন ২৩২ জন।

এদিকে ইসলামিক স্টেটের সহযোগী সংগঠন এবং জেএনআইএমের প্রতিদ্বন্দ্বী আইএস সাহেল মালির নাইজার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো নিজেদের শক্ত অবস্থান আরও সুসংহত করেছে। গত বছর তাদের সদস্যরা মার্কিন খ্রিস্টান মিশনারি কেভিন রাইডআউটকে অপহরণ করে। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি বর্তমানে মালিতেই বন্দি রয়েছেন।

মালির সরকারের একজন মুখপাত্রের কাছে মন্তব্য চাওয়া হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি। সেবাস্টিয়ান গোরকাও মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেননি। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। হোয়াইট হাউসের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রশাসনের এক কর্মকর্তা প্রেসিডেন্ট সামরিক হামলার সিদ্ধান্ত নেবেন কি না, তা প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানান।

Leave a Comment