জামায়াতের নতুন সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুল ইসলামের সংসদীয় পদ বাতিলের চেষ্টা
Banglajibon.com – গ জ নজর ল ইসল মক বহ – দলের অভ্যন্তরীণ তদন্তের মাধ্যমে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের নৈতিক অবনতি প্রমাণিত হওয়ার পর তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পর দলটি তাঁর সংসদ সদস্য পদ বাতিলের জন্য জাতীয় সংসদের স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার আজকের পত্রিকাকে এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি জানান যে, চিঠি প্রস্তুতকাজ চলছে এবং আজই স্পিকারের কার্যালয় ও নির্বাচন কমিশনকে এই বিষয়ে অবহিত করা হবে।
বহিষ্কারের পেছনের কারণ ও প্রক্রিয়া
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বুধবার (২২ জুলাই) গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কারের পর তাঁর সংসদ সদস্য পদ কী হবে তা নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা চলছে।
সংবিধান অনুযায়ী, পদত্যাগ করলে অথবা সংসদে দলের বিরুদ্ধে ভোট দিলে সংসদ সদস্য পদ বাতিল হবে। তবে দল বহিষ্কার করলে পদ বাতিল হবে—এমন কোনো বিধান নেই।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও আইনগত দিক
দশম সংসদে বর্তমানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে বহিষ্কার করেছিল। পরে তৎকালীন স্পিকারকে চিঠি দিয়ে তাঁর সংসদ সদস্যপদ বাতিলের অনুরোধ করা হয়। স্পিকার বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য ইসিতে চিঠি পাঠান। ইসি শুনানিতে ডাকলে আবদুল লতিফ সিদ্দিকী রিট করেন, যা আদালত খারিজ করে। এরপর শুনানির আগেই তিনি পদত্যাগ করেন।
বাংলাদেশের বিগত সংসদগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, দল থেকে বহিষ্কার হওয়ার কারণে কারও সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয়নি। অষ্টম জাতীয় সংসদের এমপি আবু হেনাকে বিএনপি দল থেকে বহিষ্কার করলেও তিনি সংসদের বাকি মেয়াদ স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ওই সময়ে বিএনপির তরফ থেকে স্পিকার ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকারের দ্বারস্থ হলে স্পিকার ব্যাখ্যা করেন যে, দলের বিরুদ্ধে কথা বলা বা সমালোচনা করা অনুচ্ছেদ ৭০-এর অধীনে কোনো সমস্যা নয়। সংসদের ভেতরে বা বাইরে দলের সমালোচনা করাতে কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু সংসদে ভোটের সময় দলের বিরুদ্ধে ভোট দিলে তবেই সদস্যপদ যাবে।
আইনগত বিশ্লেষণ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
সাতক্ষীরা-৪ আসনের এইচ এম গোলাম রেজাকে জাতীয় পার্টি বহিষ্কার করলেও তাঁর সংসদ সদস্য পদ বহাল ছিল। তিনি জাতীয় পার্টির এমপি হিসেবেই সংসদে বহাল ছিলেন। অন্যদিকে, হাসিবুর রহমান স্বপনের ক্ষেত্রে ভিন্ন কারণে সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয়েছিল। সপ্তম জাতীয় সংসদের বিএনপি দলীয় এমপি হাসিবুর রহমান স্বপন ১৯৯৮ সালে বিএনপি থেকে পদত্যাগ করে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। দল ত্যাগের কারণে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ লঙ্ঘনের দায়ে তাঁর সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয়েছিল।
নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে তাকে হয় কোনো দলের মনোনীত প্রার্থী হতে হয় অথবা স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে হয়। দলীয় প্রার্থীরা সংসদে দলীয় সংসদ সদস্য হিসেবে বিবেচিত হন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা-অযোগ্যতার কথা বলা আছে সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে এবং জাতীয় নির্বাচন সংক্রান্ত আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও)।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইমরান সিদ্দিক বলেন, আরপিও-এর ১২ অনুচ্ছেদের (খ) দফায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী না হলে বা স্বতন্ত্র প্রার্থী না হলে তিনি সংসদ সদস্য হওয়ার অযোগ্য হবেন। যেহেতু সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, তাই যুক্তি দেওয়া যেতে পারে যে, তিনি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়ন আর বহাল রাখেননি।
ফলে তিনি সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা হারিয়েছেন এবং সে কারণে তাঁর সংসদীয় আসন শূন্য হয়েছে বলে বিবেচিত হতে পারে। তবে এ বিষয়ে কোনো বিরোধ বা আইনগত প্রশ্ন দেখা দিলে, সংবিধানের ৬৬(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তির ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) রয়েছে।

