ইলিশ উৎপাদনে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা
প রকল প র ম য় দ – বরিশালের বাজারে ইলিশ বিচ্ছু হয়ে গেছে। যে মাছ দেখা যাচ্ছে তার দাম আকাশ ছুঁয়ে উঠেছে। জেলেদের মতে, ভরা মৌসুমেও সাগরে ও নদ-নদীতে ইলিশের চিহ্ন নেই। ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে বলে তারা চিন্তা করছেন। নতুন অর্থ বরাদ্দ হচ্ছে না বলে তারা প্রকল্প বাতিল হয়ে যেতে বাধ্য হবেন।
ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প প্রথম শুরু হয় ২০২০ সালে। সেই সময় থেকে মৎস্য অধিদপ্তর বারবার জাটকা ও মা ইলিশ রক্ষার কার্যক্রম চালিয়েছেন। প্রকল্পের অর্থ দিয়ে জেলেদের প্রণোদনা ও অভিযান চালানো হতো। তবে এখন তা চলতে পারবে না বলে মনে করা হচ্ছে।
নতুন প্রকল্প না হলে ক্ষতি হবে
প্রকল্প হাতে নেওয়ার পর ২২৯ কোটি টাকার ব্যবহার হয়েছে। কিন্তু সেই অর্থ কোথা থেকে আসবে সেটা এখনো অনিশ্চিত। এ সময় ইলিশ রক্ষার কাজ করতে হয়েছিল অভয়াশ্রম ও জেলেদের সহায়তার জন্য। তার ফলে এখন নদী ও সাগরে ইলিশ উৎপাদন কমে গেছে। প্রকল্প ছাড়া এর পরিবর্তে রাজস্ব খাত দিয়ে কাজ চালানো হবে বলে আশা করছেন কর্মকর্তারা।
“ইলিশ আমাদের জাতীয় মাছ এবং জিআই পণ্য। সে কারণে ইলিশের চাহিদার ওপর চাপও বেশি। কিন্তু দিন দিন উৎপাদন ও আকার কমছে। আমাদের নদ-নদীর পাশাপাশি সাগরে ইলিশ রক্ষায় জোর দিতে হবে। নতুন প্রকল্প ছাড়া বিকল্প নেই।” – ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন
প্রকল্প হাতে নেওয়ার পর ইলিশের উৎপাদন কমে গেছে। যেমন ২০১৯-২০ অর্থবছরে মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী বিভাগে উৎপাদন ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৯৮৭ টন হয়েছিল। সেই পরিমাণের চেয়ে কম করে এসেছে প্রথম দুই বছর। গত বছর ইলিশের উৎপাদন ২ লাখ ২৬ হাজার ৮০ টন হয়েছে।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজেস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান ড. হাফিজ আশরাফুল হক বলেন, “আমাদের নদী মরে গেছে, চ্যানেল কমে গেছে। ইলিশ গভীর জলের মাছ। পানি না থাকলে তারা কী করে বিচরণ করবে? স্রোত কমে গেছে বলে মনে করছি। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নদীর পানির তাপমাত্রা বাড়ছে। এসব কারণে উৎপাদন কমে যাচ্ছে এবং আকারও ছোট হচ্ছে।”
সম্প্রতি ইলিশ উৎপাদন কমে গেছে বলে প্রকল্প পরিচালক মোল্লা এমদাদুল হক জানান, “আমাদের শেষ চার বছরে মা ইলিশ রক্ষার জন্য ৬ হাজার ৫৬টি অভিযান, ৮ হাজার কম্বিং অভিযা�
