কুড়িগ্রামে বাল্যবিবাহ নিবন্ধনের দায়ে কাজির লাইসেন্স বাতিল
ক ড় গ র ম ব ল – সরকার কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছি ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার মো. হোসাইন আহম্মেদের নিবন্ধন লাইসেন্স বাতিল করেছেন। এ সিদ্ধান্ত আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে ঘোষণা করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কাজি মো. হোসাইন আহম্মেদ মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা, ২০০৯-এর বিধি ২৩ (ক) লঙ্ঘন করে বাল্যবিবাহ নিবন্ধন করেছেন। তদন্তে এটি প্রমাণিত হওয়ায় তাকে বিধি ১১ অনুযায়ী গুরুতর অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
সাবেক কাজির নিবন্ধন এলাকা শূন্য হয়েছে
প্রজ্ঞাপনে ঘোষণা করা হয়েছে, কাজির নামে ইস্যুকৃত নিকাহ রেজিস্ট্রারের লাইসেন্স বাতিল হয়েছে। এখন তাঁর নিবন্ধন এলাকা শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে। সর্বোচ্চ ১২০ দিনের জন্য পার্শ্ববর্তী এলাকার একজন কাজিকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য। জেলা রেজিস্ট্রারকে কাজি হোসাইন আহম্মেদের কাছ থেকে বালাম বইসহ সব নথিপত্র দ্রুত বুঝে নিতে আদেশ দেওয়া হয়েছে।
“সরকার তো সরেজমিন তদন্ত করেনি। যে বিয়ে নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সেটি ওই মেয়ের দ্বিতীয় বিয়ে ছিল। তাঁর আগে বিয়ে হয়েছিল এবং সেটা তালাক হয়েছিল। দ্বিতীয় বিয়ের সময় মেয়েটির বাবা আমাকে যে নথিপত্র দিয়েছিল তাতে তাঁর বয়স ১৮ বছর ৩ মাস ছিল। তবে আমি বিষয়টি যাচাই করতে পারিনি। পরে জানি যে তাঁর ১ মাস ১৫ দিন বয়স কম ছিল। এ ঘটনায় প্রতিপক্ষ ষড়যন্ত্র করে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়ে নিবন্ধন বাতিল করিয়েছে। আমি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি,” বলেন অভিযুক্ত কাজি হোসাইন আহম্মেদ।
বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে
মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা, ২০০৯ অনুযায়ী বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। কাজি হোসাইন আহম্মেদ এলাকা শূন্য ঘোষণার পর বিস্তারিত বলতে পারবেন বলে জেলা রেজিস্ট্রার মো. রুহুল কুদ্দুস জানান যে সরকারিভাবে চিঠি পাইনি। তবে বাল্যবিবাহ নিবন্ধনের দায়ে কাজির লাইসেন্স বাতিলের প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
