Bangladesh

ওষুধের তীব্র সংকট ব্যাহত স্বাস্থ্যসেবা

গ্রামাঞ্চলে ওষুধ সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে

ওষ ধ র ত ব র স – মৌলভীবাজার জেলার অনেক কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে জেলার স্থানীয় বাসিন্দারা, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের বয়স্ক ও গর্ভবতী মহিলাদের বেশি প্রতিকূল পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। তিন দিন স্বাস্থ্য সহকারী এবং আরও তিন দিন পরিবার কল্যাণ সহকারীর কাজ করা হয়। সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে যে মৌলভীবাজারের সাতটি উপজেলা মিলিয়ে মোট ১৮৬টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। তবে বাস্তবে ক্লিনিকগুলো বেশির ভাগ ওষুধশূন্য অবস্থায় রয়েছে।

সিএইচসিপি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রুবেল আহমেদ বলেন, আগের চেয়ে ওষুধ কম পৌঁছাচ্ছে। তিনি জানান যে এ কারণে সেবা প্রাপ্তি বৃদ্ধির পরিকল্পনা প্রকাশ্যে রয়েছে। মৌলভীবাজার সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমান জানান, কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো ট্রাস্ট দ্বারা পরিচালিত। আগে তিন কার্টন ওষুধ আসত, এখন একটি কার্টন পৌঁছে।

কমিউনিটি ক্লিনিকে সপ্তাহে ছয় দিন কাজ করা হয়। কিন্তু বেশির ভাগ ক্লিনিক আগের মতো সেবা প্রদান করতে পারছে না। কর্তৃপক্ষের ইচ্ছামতো সময়ে ক্লিনিক খোলা হয়। সেবাগ্রহীতা কেউ আসলে ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না। এতে কমিউনিটি ক্লিনিকের কর্মীরা দুপুর পর্যন্ত চলে যাচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দার অভিজ্ঞতা

কমলগঞ্জ উপজেলার শ্রীসূর্য কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মীরা বসে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে দুপুর পর্যন্ত কোনো রোগী আসেনি। সাইটুলা ক্লিনিক এবং টেংরা ইউনিয়নের সালন কমিউনিটি ক্লিনিক দুপুরের মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয় ইমাম আব্দুন নুর বলেন, আশপাশে কমপক্ষে দশটি গ্রামের মানুষ কমিউনিটি ক্লিনিকে আসে। কিন্তু ওষুধ না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছে।

‘আমি আলসারের রোগী। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে নিয়মিত ওষুধ কিনতে পারি না। ৪ মাস ধরে ক্লিনিকে এসে কোনো ওষুধ পাইনি।’ – রাজনগরের নিদনপুর গ্রামের ফাতিহা বেগম

‘এক বছর ধরে কমিউনিটি ক্লিনিকে আগের মতো ওষুধ পাই না। কোনো অ্যান্টিবায়োটিক নেই। এ জন্য এখন অনেকেই ক্লিনিকে যাওয়া বাদ দিয়ে দিতাছে।’ – কমলগঞ্জের সাবিনা আক্তার

শ্যামেরকোনা কমিউনিটি ক্লিনিকে জান্নাত আরা বেগম বলেন, আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষ ক্লিনিকে যায়। কিন্তু ওষুধ না পেয়ে তারা খালি হাতে ফিরে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে গরিব মানুষ চরম বিপদে পড়বে।

Leave a Comment