পঞ্চগড় জেলায় ৫১টি বিদ্যালয়ে পানির প্রকল্পে অস্পষ্টতা ও বিভিন্ন অভিযোগ
৫১ ব দ য লয় র ন – জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সংগঠিত একটি প্রকল্পের মাধ্যমে পঞ্চগড় জেলার ৫১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সুবিধার কথা ছিল। তবে প্রকল্পটি প্রায় ৫১ লাখ টাকার ব্যয়ে প্রস্তুত হওয়ার আশা ছিল কিন্তু অধিকাংশ বিদ্যালয়ে কাজ সম্পন্ন হয়নি। প্রকল্প কার্যাদেশের সম্পর্কে স্পষ্টতা না থাকার কারণে অনেকে সন্দেহ ব্যক্ত করেছেন।
স্থাপন প্রক্রিয়ায় সংশয়ের বিষয় উঠেছে
প্রকল্পের বিষয়ে গোপনীয়তার অভাব এবং তদারকির কমতি এবং স্থাপন কাজে অনিয়ম বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের দাবি, প্রকল্পের স্থাপনার বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। কোথায় কী গভীরতায় বোরিং করা হচ্ছে, কোনো পাইপ বা ফিল্টার ব্যবহার করা হচ্ছে কিনা, এসব বিষয় তাঁদের জানা নেই। পরিস্থিতি কী হওয়ার পর কাজ শেষ করার সময় হয়নি সে বিষয়েও তাঁরা সন্দেহ ব্যক্ত করেছেন।
ছেতনাই টেংগনমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবিউল আলম জানান, ‘বোরিং কত ফুট করা হচ্ছে বা কী ধরনের মালপত্র ব্যবহার করা হচ্ছে, আমরা কিছুই জানি না। বলেছিলাম স্কুল চলাকালে আমার উপস্থিতিতে কাজ করতে। কিন্তু তারা স্কুল ছুটির পর বিকেল ৫টার দিকে এসে তড়িঘড়ি কাজ শেষ করে চলে যায়। পুরো বিষয়টিতে লুকোচুরির বিষয় রয়েছে মনে হচ্ছে।’
বিদ্যালয়ে পানি স্থাপনের কাজে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য
সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোমিনুল ইসলাম জানান, ‘লোকমুখে জানতে পারি, সদর উপজেলার ২২টি বিদ্যালয়ে গভীর নলকূপ স্থাপনের কাজ চলছে। অথচ শিক্ষা অফিসে এ-সংক্রান্ত কোনো কার্যাদেশ বা চিঠি পাঠানো হয়নি। একটি বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখি, বাজার থেকে সিলবিহীন নিম্নমানের ফিল্টার এনে বসানো হচ্ছে। শিক্ষা অফিসকে না জানানোর কারণে আমাদের পক্ষে কাজের মান যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না।’
পঞ্চগড় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মিনহাজুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘সাবমার্সিবল পাম্পের বোরিং করতে ৩-৪ দিন সময় লাগে। এ কারণে ঠিকাদার সময় বাড়ানোর আবেদন করেছেন। আশা করছি, জুন মাসের মধ্যে কাজ শেষ হবে। মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারক করা হচ্ছে। তেঁতুলিয়ায় পাথরের স্তর থাকায় ৭০ ফুটের বেশি যাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে অন্যান্য এলাকায় ভালো পানির স্তর পেতে ৯০ থেকে ১০০ ফুট গভীরতায় বোরিং করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
