গাংনী প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে কর্মী সংকটের কারণে সেবা ব্যাহত
Banglajibon.com – জনবল স কট ধ কছ গ ন – মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার প্রাণিসম্পদ হাসপাতাল দীর্ঘদিন ধরে কর্মী অভাবে পিছিয়ে পড়ছে। ১১টি নির্ধারিত পদের মধ্যে সাতটি পদ শূন্য থাকায় পশুচিকিৎসা সেবা ঠিকমতো চলছে না। এই সমস্যার কারণে হাজারো খামারি ও গবাদিপশুর মালিক সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অতিরিক্ত খরচ করে বেসরকারি বা স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে যাচ্ছেন তারা।
গাংনী উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এখানে পারিবারিক ও বাণিজ্যিক মিলিয়ে মোট ১৪ হাজার ৬০৪টি খামার রয়েছে। গাভি, গরু মোটাতাজাকরণ, ছাগল, ভেড়া, লেয়ার, ব্রয়লার, সোনালি মুরগি, হাঁস, কবুতর, কোয়েল ও টার্কির খামার এখানে পাওয়া যায়। কিন্তু পর্যাপ্ত কর্মী না থাকায় মাঠপর্যায়ে সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
খামারিদের ভোগান্তি
স্থানীয় খামারিরা জানান, চিকিৎসক ও মাঠকর্মীর অভাবে পশু অসুস্থ হলে সরকারি সেবা পাওয়া কঠিন। ফলে গ্রাম্য বা বেসরকারি চিকিৎসকের কাছে যেতে হয়, যেখানে খরচ অনেক বেশি। অনেক ক্ষেত্রে সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় গবাদিপশুর মৃত্যু হচ্ছে, যা খামারিদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলছে।
গাংনী উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে জনবল-সংকট না থাকলে আমরা কম খরচে গবাদিপশুগুলোর চিকিৎসা করাতে পারি। কিন্তু জনবল সংকটের কারণে তারা চিকিৎসা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন এলাকায় প্রয়োজনমতো যেতে পারছে না। এতে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে গাংনী উপজেলার খামারিরা। আবার অনেকে দূর থেকে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে পশুর চিকিৎসা করাতে গিয়ে বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে। জনবল-সংকটের কারণে আমরা অল্প খরচে পশুর চিকিৎসা নেওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা কাটছেই না। তাই অতি দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া দরকার।
কাজীপুর গ্রামের ইমরান হোসেন বলেন, পশু অসুস্থ হলে হাসপাতালে নেওয়া কষ্টসাধ্য। বাধ্য হয়ে স্থানীয় চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হয়, এতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। মোহাম্মদপুর গ্রামের রাজু আহমেদ বলেন, জনবল-সংকটের কারণে সরকারি কর্মকর্তারা নিয়মিত গ্রামে গিয়ে সেবা দিতে পারছেন না। দ্রুত শূন্য পদে নিয়োগ দিয়ে এ সংকট দূর করা উচিত।
খামারি আব্দুল আলিম বলেন, সম্প্রতি তাঁর গরু লাম্পি স্কিন ডিজিজে আক্রান্ত হলে বেসরকারি চিকিৎসায় অনেক টাকা ব্যয় হয়েছে। সরকারি সেবা সহজলভ্য হলে এত খরচ হতো না। হাড়াভাঙ্গা গ্রামের ঝরনা খাতুন বলেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যয় কম হলেও দূরত্ব ও জনবল-সংকটের কারণে সেই সেবা পাওয়া যায় না। এতে সাধারণ খামারিরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
শূন্য পদের তালিকা
প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, উপজেলা প্রাণিসম্পদ সহকারী, তিনজন ভেটেরিনারি ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট (ভিএফএ), একজন কৃত্রিম প্রজনন ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট, একজন অফিস সহায়ক এবং একজন ভেটেরিনারি সার্জনের পদ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কারণে শূন্য রয়েছে। বর্তমানে ১১টি অনুমোদিত পদের মধ্যে মাত্র ৪টিতে কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত আছেন।
গাংনী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সাতটি পদ শূন্য থাকায় মাঠপর্যায়ে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। শূন্য পদগুলো পূরণ হলে উপজেলার সব এলাকায় পূর্ণাঙ্গ সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, প্রতিদিন হাসপাতালে বিপুলসংখ্যক রোগী আসছে। সীমিত জনবল দিয়ে সেবা দিতে গিয়ে কর্মকর্তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের সংসদ সদস্য মো. নাজমুল হুদা বলেন, জনবল-সংকটের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তিনি দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে শূন্য পদ পূরণের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

