বর্ষাকালে চলনবিলে ডিঙি নৌকার চাহিদা বেড়েছে
Banglajibon.com – বর ষ য় ভরস ড ঙ ন – টানা বৃষ্টিতে নদী, খাল ও বিলের পানি বেড়েছে। অনেক নিম্নাঞ্চল ইতিমধ্যেই প্লাবিত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে চক্রযান ছেড়ে মানুষ পানিতে ভাসছে নৌকার ভরসায়। নতুন পানিতে মাছ ধরার কাজেও এসব নৌকার কদর ও চাহিদা বেড়েছে।
কাঠের ডিঙি নৌকা তৈরির ধুম
নাটোরের গুরুদাসপুরসহ চলনবিল অঞ্চলের বিভিন্ন আসবাবপত্রের কারখানা এখন কাঠের ডিঙি নৌকা তৈরির ধুম পড়েছে। দখল, দূষণ, বিলের মাঝ দিয়ে মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়ক নির্মাণ এবং বসতি গড়ে ওঠা ঐতিহ্যবাহী চলনবিল সংকুচিত হয়েছে। তবু বর্ষাকালে এখানে মাছ মেলে, মানুষ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বিনোদনের খোঁজে আসে। দ্বীপের মতো জেগে থাকা গ্রামগুলোতে যাতায়াত, বিলের পানিতে ভেসে বেড়ানো এবং মাছ ধরার প্রধান বাহন হয়ে উঠেছে ডিঙি নৌকা।
চাহিদা মেটাতে চলনবিলের নাটোরের গুরুদাসপুর ও সিংড়া, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ এবং পাবনার চাটমোহর উপজেলার আসবাবপত্র তৈরির কারখানাগুলো কাঠের ডিঙি নৌকা তৈরি হচ্ছে। এর মধ্যে ডিঙি নৌকার বড় মোকাম হিসেবে পরিচিত নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলা। ভৌগোলিক কারণ ও কাঠের সহজলভ্যতার কারণে গুরুদাসপুর উপজেলায় কমপক্ষে ১৫টি কারখানা গড়ে উঠেছে।
হাট ও বাজারের চিত্র
সপ্তাহের প্রতি মঙ্গলবার ও শনিবার পৌরশহরের চাঁচকৈড় হাট বসে। আশপাশের উপজেলার মানুষের নৌকার চাহিদা মেটাতে এখানকার কারখানাগুলো। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, প্রায় প্রতিটি কারখানাতেই কারিগররা নৌকা তৈরির কাজে ব্যস্ত। শিমুল, মেহগনি, কাঁঠাল, আম, বটগাছ ও নিমগাছের কাঠ ব্যবহার হচ্ছে। কেউ সাইজ অনুযায়ী কাঠ কাটছেন, কেউ লোহা-পেরেক লাগাচ্ছেন, আবার কেউ নৌকার নিচে প্লেনসিট বসাচ্ছেন। কারিগরদের ব্যস্ততা আর হাতুড়ির শব্দে মুখরিত কারখানাগুলো।
কারখানাগুলো তৈরি নৌকাগুলো সড়কের পাশে সারি করে রাখা হচ্ছে। অনেকেই দেখে-শুনে দরদাম করে কিনে নিচ্ছেন। আকার ও মানভেদে প্রতিটি ডিঙি নৌকা ৬ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা বিক্রি হচ্ছে। প্লেনসিট দিয়ে তৈরি নৌকা বিক্রি হচ্ছে ৮ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা।
কারিগর ও মালিকদের মতামত
কাঠ, লোহা ও কারিগরদের মজুরির সঙ্গে অন্যান্য জিনিসের দাম বেড়েছে। এ কারণে লাভ কম হচ্ছে। তবু ক্রেতার চাহিদা ধরে রেখেছি।
কারখানা মালিক শামীম, ইয়ারুল, জাহাঙ্গীর হোসেন ও আব্দুর রাজ্জাক এই কথাগুলো বলেন। অন্যদিকে কারিগর আফজল ও শরীফ বলেন, বিগত বছর চলনবিলে পানি কম থাকায় নৌকার চাহিদা কম ছিল। এবছর উল্টোচিত্র। এ কারণে নৌকার চাহিদা বাড়ায় ব্যস্ততাও বেড়েছে। দিনে আমরা ২টি নৌকা তৈরি করতে পারি। নৌকা প্রতি ১ হাজার টাকা মজুরি পাই।
ক্রেতাদের আগমন
তাড়াশ উপজেলার হামকুরিয়া গ্রামের আসাদ মাঝি ও চাটমোহর উপজেলার হান্ডিয়াল থেকে আসা দেদার ফকির জানান, খেতখামারে কাজ করে তাদের সংসার চলে। এখন হাতে কাজ নেই। তাই ডিঙি নৌকা কিনতে এসেছেন মাছ ধরে জীবিকা চালানোর জন্য। তাদের ভাষ্যমতে, বর্ষার এই সময়ে শতশত মানুষ ডিঙি নৌকা দিয়ে মাছ ধরে সংসার চালান।
গুরুদাসপুর উপজেলা ফার্নিচার পট্টরের মালিক সমিতির সভাপতি শামীম বলেন, এখানে ভালো কাঠ ও দক্ষ কারিগর দিয়ে ডিঙি নৌকা তৈরি করা হয়। এ হাটে নৌকা প্রতি খাজনা রাখা হয় ২০০ টাকা। এটা খুবই সীমিত। মালিক সমিতি হাটের দেখভাল করার খাজনা নিয়ে কোনো রকম ঝামেলা সৃষ্টি হয় না।

