Bangladesh

আশ্বাস ছাড়া কিছু মেলেনি, শেষ পর্যন্ত নদীর পেটেই গেল ভোরের পাখি বিদ্যালয়

Dinajpur-School
Foto : Betty Thomas - banglajibon.com
Table of Contents
  1. আশ্বাসের পর আশ্বাস, শেষে নদীর পেটেই গেল ভোরের পাখি বিদ্যালয়
  2. Related Reading
  3. Frequently Asked Questions

আশ্বাসের পর আশ্বাস, শেষে নদীর পেটেই গেল ভোরের পাখি বিদ্যালয়

Banglajibon.com – আশ ব স ছ ড় ক ছ – গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে চরবাসীর একমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক বেড়া ও তিনটি জানালা ইতিমধ্যে নদীর বুকে হারিয়ে গেছে। ভাঙন তীব্রতর হওয়ায় বিদ্যালয়ের আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ভোরেই এই অবস্থা শুনতে পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে এটিও স্যারকে জানানো হয়। পরামর্শের পর ১৪ জন শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যারা এখন জিনিসপত্র সরিয়ে নিচ্ছেন।

বারবার আশ্বাস, বারবার হতাশা

নদীভাঙনের আশঙ্কা দীর্ঘদিন থেকে স্থানীয়দের মাথায় ছিল। চরবাসীর একমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হওয়ায় বিদ্যালয়টি রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলেন তাঁরা। ইউপি চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন একাধিকবার।

সর্বশেষ ৮ আগস্ট পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। স্থানীয়রা তখনও আশা করেছিলেন, মন্ত্রীর আগমনের পর কার্যকর পদক্ষেপ আসবে। কিন্তু সেই আশাও শেষ পর্যন্ত হতাশায় পরিণত হয়েছে। বিদ্যালয়টি রক্ষায় দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এখন নদীভাঙন থেকে রক্ষা সম্ভব না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের ক্ষোভ

টিও, এটিও, ইউএনও, পানি উন্নয়ন বোর্ড, ডিসিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। নতুন করে যেন আর কোনো ক্ষতি না হয়, সে বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছিলেন তাঁরা। বিশেষ করে চরবাসীর একমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য, আজ পর্যন্ত বিদ্যালয়টি রক্ষায় দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিলে আজকের এই করুণ দৃশ্য দেখতে হতো না। এর দায় কেউ এড়াতে পারবেন না।

এ কথাগুলো বলেন কাপাসিয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মো. জামাল উদ্দিন।

গতকালও স্কুলে ক্লাস হয়েছে। ভোরে শুনলাম এই অবস্থা। সঙ্গে সঙ্গে এটিও স্যারকে জানাই। তিনি এসেছেন। পরামর্শ করে ১৪ জন শ্রমিক লাগিয়ে দিয়েছি। তারা বিদ্যালয়ের জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। এরই মধ্যে একটি বেড়া ও তিনটি জানালা নদীতে চলে গেছে।

মন্ত্রী, এমপি, পানি উন্নয়ন বোর্ড, ডিসি ও ইউএনও স্যার সবাই এসেছিলেন। শুধু আশ্বাসই পেয়েছি। স্কুল এলাকায় একটি জিও ব্যাগও ফেলা হয়নি। ফেললে হতো আজকের এই ভয়ংকর দৃশ্য দেখতে হতো না।

এই অভিযোগ তুলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম।

কর্মকর্তাদের প্রতিক্রিয়া

ঘটনাস্থল থেকে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুকুল চন্দ্র বর্মণ জানান, নদীভাঙন শুরুর পর থেকে যা যা ঘটেছে, বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হয়েছে। তারা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেননি। সে কারণেই আজ এই ভয়ংকর অবস্থা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, নতুন করে আবারও ভাঙন শুরু হয়েছে। বিষয়টি শুনেছেন। প্রতিষ্ঠানটি অন্য স্থানে সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নদীভাঙন ঠেকাতে সংশ্লিষ্টদের গাফিলতি আছে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি উত্তর দেন, নদীভাঙনের বিষয়ে কারও কোনো হাত নেই। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো গাফিলতি আছে কি না, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার মাত্র ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। আশা করি ঘণ্টাখানেকের মধ্যে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হবে। তবে স্কুল এলাকায় এর আগে কোনো জিও ব্যাগ ফেলা হয়নি বলে স্বীকার করে তিনি বলেন, গত বছর ওই স্কুলের আপ ও ডাউনে কিছু জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছিল। এবার ওই স্কুল রক্ষায় কোনো জিও ব্যাগ বরাদ্দ হয়নি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। একইভাবে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লার সঙ্গেও একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

Frequently Asked Questions

What is আশ ব স ছ ড় ক ছ?

আশ ব স ছ ড় ক ছ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does আশ ব স ছ ড় ক ছ matter?

আশ ব স ছ ড় ক ছ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Comment