খেলার মাঠ নেই, তাই বোরোখেতের নাড়া কেটে ফুটবলের মাঠ বানাচ্ছেন কিশোরেরা
খ ল র ম ঠ ন ই – হালুয়াঘাট উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের চরগোরকপুর গ্রামে কিশোর ও যুবকদের হাতে নির্মাণ শুরু হয়েছে একটি ফুটবল মাঠ। গ্রামটিতে কোনও স্থায়ী খেলার মাঠ নেই এবং কিশোর-তরুণদের খেলাধুলার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা খুঁজে পাওয়া যায় না। তাই বলে তাদের উদ্যম ক্ষুণ্ন হয়ে যায়নি। বোরো ধান কাটার পর খালি পড়ে থাকা জমি ব্যবহার করে তারা নিজেরা মাঠ তৈরি করছেন।
আজ সোমবার দুপুরে দেখা গেল এলাকায় কয়েকজন ছেলেপেলে কাঁচি দিয়ে নাড়া কাটছে। কেউ জমি সমতল করছে, আবার কেউ মাঠের সীমানা নির্ধারণ করছে। দল বেঁধে কাজ করার দৃশ্য গ্রামীণ ঐক্য ও খেলাধুলার প্রতি ভালোবাসার প্রতিচ্ছবি মনে হয়।
চরগোরকপুর এলাকার বাসিন্তে অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে কোনো স্থায়ী খেলার মাঠ না থাকায় কিশোর ও তরুণেরা অবসর সময়ে নানা অনাকাঙ্ক্ষিত কাজে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বোধ করেন। স্থায়ী খেলার মাঠ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
‘আমাদের এলাকায় কোনো খেলার মাঠ নেই। সামনে ঈদ। ঈদের পর থেকে এখানে রেগুলার খেলাধুলা হবে। তাই সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি—এই খালি জমিটাই পরিষ্কার করে মাঠ বানাব।’ বলেন তরুণ কানন মিয়া।
আনন্দমোহন কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল সাদ জানান, মোবাইল ফোন ও বাজে আড্ডায় সময় নষ্ট করতে চান না তিনি। মাঠ না থাকলেও ইচ্ছাশক্তি থাকলে উপায় হয়—আমরা সেটাই দেখাতে চাই।
বোরো ধান কাটার পর খালি পড়ে থাকা কয়েক মাসে মাঠ হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এতে শরীরচর্চার পাশাপাশি ছেলেদের মধ্যে শৃঙ্খলা, বন্ধুত্ব ও সামাজিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়।
‘ছেলেরা নিজেরা কষ্ট করে মাঠ বানাচ্ছে—এটা গর্বের বিষয়। যদি সরকার বা জনপ্রতিনিধিরা উদ্যোগ নিতেন, তাহলে স্থায়ী খেলার মাঠ হলে পুরো এলাকার উপকার হতো।’ বলেন স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠ ফুল মাহমুদ।
চরগোরকপুর বাজার ব্যবসায়ী নূরে আলম সুজন যোগ দেন, মাঠ না থাকলেও ইচ্ছা, শ্রম ও ঐক্য থাকলে পথ তৈরি করা যায়। বোরোখেতের এই ফুটবল মাঠ তার জীবন্ত উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
