Bangladesh

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়: শিক্ষাছুটি শেষে যোগ দেননি ১৭ শিক্ষক, পাওনা ৬ কোটি

Foto : Matthew Wilson - banglajibon.com

বাকৃবিতে ১৭ শিক্ষক যোগ দেননি, পাওনা ৬ কোটি টাকা

Banglajibon.com – ব ল দ শ ক ষ ব – ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার উদ্দেশ্যে ছুটি নিয়ে যাওয়া শিক্ষকদের মধ্যে ১০৮ জন বর্তমানে শিক্ষাছুটিতে আছেন। কিন্তু ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেননি ১৭ জন। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষক সংকট তৈরি হয়েছে। একই সাথে চাকরি থেকে অব্যাহতি নেওয়া এবং সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তে অপসারিত কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্থাপন শাখার তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষাছুটিতে বিদেশে যাওয়ার আগে প্রতিটি শিক্ষককে একটি বন্ডে স্বাক্ষর করতে হয়। ওই বন্ড অনুসারে ছুটির মেয়াদ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান বাধ্যতামূলক। নির্ধারিত সময়ে যোগদান না করলে বন্ড অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ আদায়সহ প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। সেই বিধান অনুযায়ী, নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরেও বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ না দেওয়া ১৭ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ আদায়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অপসারিত ও অব্যাহতিপ্রাপ্ত শিক্ষকদের তালিকা

ফার্ম স্ট্রাকচার অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন, অ্যানিমেল সায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. বদরুজ্জামান সরকার, গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নিশীথ জাহান তন্বী, কৃষি সম্প্রসারণ শিক্ষা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. খন্দকার হুমায়ুন কবীর, কীটতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. চন্দ্রিমা ইমতিয়াজ, প্যাথলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. তাহমিনা রুবা, কৃষিশক্তি ও যন্ত্র বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মমিন, একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. শামিম আহমেদ, অ্যানিমেল নিউট্রিশন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজার রহমান, সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান, ডেইরি বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. ইলিয়াস উদ্দিন, কৃষিশক্তি ও যন্ত্র বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. শামিম আহমেদ, কৃষি সম্প্রসারণ শিক্ষা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আতাহারুল হক চৌধুরী (অপসারিত), কৃষি ব্যবসা ও বিপণন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. খোকন বেপারী (অপসারিত), কৃষি অর্থসংস্থানের সহকারী অধ্যাপক সাবিহা আখতার (অপসারিত), কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ম্যাথমেটিকস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাসুদ-উজ-জামান (অপসারিত) এবং উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মেল্লাহ মো. হামিদুজ্জামান (অপসারিত)।

আর্থিক পরিস্থিতি ও আইনগত ব্যবস্থা

এই ১৭ শিক্ষকের কাছ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওনা ৫ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে তিনজন আংশিক—৪৩ লাখ টাকা ফেরত দিয়েছেন। এরপরও তাদের কাছ থেকে পাওনা রয়েছে ৫ কোটি ৪৪ লাখ ২৪ হাজার ৫১৯ টাকা।

পিএইচডি করার জন্য একজন শিক্ষককে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর এবং পোস্ট ডক্টরাল গবেষণার জন্য সর্বোচ্চ দুই বছর শিক্ষাছুটি দেওয়া হয়। ছুটির মেয়াদ শেষ হলে প্রথমে এক মাসের মধ্যে কর্মস্থলে যোগদানের জন্য চিঠি পাঠানো হয়। পরে আরও ১৫ দিনের সময় দেওয়া হয়। এরপরও কেউ যোগদান না করলে অসমাপ্ত বন্ডের ক্ষতিপূরণের নোটিশ দেওয়া হয় এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্থাপন শাখার অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার ড. মো. নাজমুল হক এই তথ্যটি জানান।

শিক্ষকরা বন্ডে স্বাক্ষর করেই শিক্ষাছুটিতে যান। নির্ধারিত সময় শেষে তাদের ফিরে আসা বাধ্যতামূলক। অনেকে চাকরি থেকে অব্যাহতি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওনা পরিশোধ করেন। কিন্তু কেউ শর্ত ভঙ্গ করে বিদেশে অবস্থান করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কয়েকজনের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে মামলা হয়েছে। নিয়মের বাইরে কাউকে ছাড়া দেওয়া হবে না।

বাকৃবির উপাচার্য অধ্যাপক এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া এই মন্তব্য করেন।

Leave a Comment