সাইবার হামলা থেকে সমুদ্রপথের নিয়ন্ত্রণ: চীনের সামরিক আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্য
স ইব র হ মল থ ক – চীন আগামী দশকে অস্ট্রেলিয়ার ওপর সাইবার হামলা ও সমুদ্রপথের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর জন্য সামরিক ক্ষমতা বৃদ্ধি করছে। সিডনিভিত্তিক থিংকট্যাংক লোয়ি ইনস্টিটিউটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনের কাছে অস্ট্রেলিয়ার সম্পূর্ণ জাতীয় সীমান্ত এবং বাণিজ্য প্রতিষ্ঠার প্রতিকূলতা ঘটানোর প্রতিশোধ নিতে এর জন্য চীন একটি সামরিক যুক্তি নিয়ে আসছে। এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো ভূ-কৌশলগত আধিপত্য বিস্তার এবং মার্কিন-অস্ট্রেলিয়া যৌথ শক্তি বলয়কে ভেঙে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বেইজিংয়ের একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা।
সামরিক বিস্তার ও প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের হামলা
২০১৮ থেকে চীন প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রগুলোতে স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি গড়ার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। সলোমন দ্বীপপুঞ্জের সাথে নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষর করার মাধ্যমে চীন অস্ট্রেলিয়ার সমুদ্রপথের নিয়ন্ত্রণ দখল করার উদ্দেশ্যে কাজ করছে। এই অঞ্চলে যদি চীনের সামরিক ঘাঁটি প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে অস্ট্রেলিয়ার মূল ভূখণ্ড সরাসরি সাইবার হামলা এবং সমুদ্রপথের নিয়ন্ত্রণে বিপর্যস্ত হতে পারে। চীন অস্ট্রেলিয়া থেকে রপ্তানি বাণিজ্যের বড় অংশ করে নেওয়ার ফলে সমুদ্রপথের নিয়ন্ত্রণ বিশ্বের বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ক গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
এই সামরিক বিস্তারের পেছনে মূল কারণ হলো চীন ক্ষেত্রে বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার আর্থিক সম্পদ সুরক্ষা করতে চায়। বেইজিংয়ের প্রতিযোগিতার ফলে সামরিক ক্ষমতার সাথে সামুদ্রিক পথ নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে যুক্ত করা হয়েছে। চীনের ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে অস্ট্রেলিয়ার একটি নতুন লং-রেঞ্জ স্টিলথ বোমারু বিমান তৈরি করা হচ্ছে, যে ক্ষেত্রে সাইবার হামলা থেকে সমুদ্রপথের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এই বোমারু বিমান অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তার জন্য অস্থায়ী বিপর্যস্ত হতে পারে।
ইন্দোনেশিয়ার সমুদ্রপথ ও অর্থনৈতিক ধ্বংস
অস্ট্রেলিয়ার রপ্তানি বাণিজ্য ইন্দোনেশিয়ার সংকীর্ণ সমুদ্রপথ বা চেক পয়েন্টগুলোতে চীনের নিয়ন্ত্রণ বিস্তারের ফলে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। সাইবার হামলা থেকে সমুদ্রপথের নিয়ন্ত্রণ চীনের একটি সম্পূর্ণ কর্মপন্থা হিসেবে গণ্য হচ্ছে। বাণিজ্যিক ও সামুদ্রিক মালামালের সংকট সৃষ্টি করতে চীন ইন্দোনেশিয়ার দ্বীপপুঞ্জ ব্যবহার করছে। সামুদ্রিক পথের নিয়ন্ত্রণ দখল করার পর চীন অস্ট্রেলিয়া থেকে পণ্য প্রবাহ কমিয়ে দিতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রতি সামরিক আঘাত
