International

গরমে ঘামছে ইউরোপ—দাবানলে পুড়ছে ফ্রান্স, স্পেন ও গ্রিস

Foto : Matthew Wilson - banglajibon.com

ইউরোপজুড়ে দাবানলের প্রকোপ: গ্রিসে তিন দমকলকর্মীর মৃত্যু, ফ্রান্স ও স্পেনে বিস্তৃত ক্ষয়ক্ষতি

Banglajibon.com – গরম ঘ মছ ইউর প দ ব – তীব্র দাবদাহ, শুষ্ক গাছপালা ও ঝোঁকো বাতাসের সমন্বয়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে দাবানলের ভয়াবহতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ফ্রান্স, স্পেন ও গ্রিসের বিভিন্ন অঞ্চলে বড় ধরনের দাবানল মোকাবিলায় দমকলকর্মীরা সক্রিয় ছিলেন।

গ্রিসে ভয়াবহ হতাহতের ঘটনা

গ্রিসের দাবানলে তিনজন দমকলকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। ক্রিট দ্বীপে আগুনের দুটি সম্মুখভাগের মধ্য দিয়ে গাড়িতে যাওয়ার সময় দুই দমকলকর্মী আগুনে আটকা পড়ে মারা যান। অন্যদিকে পেলোপনিস অঞ্চলের পৃথক একটি দাবানলে আরও একজন দমকলকর্মী প্রাণ হারান। প্রবল বাতাসে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় ক্রিটের ভ্রিসি ও আশপাশের গ্রাম থেকে শত শত বাসিন্দা ও পর্যটককে স্থল ও সমুদ্রপথে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কেউ কেউ নৌকায় করে নিরাপদ স্থানে পৌঁছেছেন।

স্পেনে জরুরি পরিস্থিতির মাত্রা কমানোর ঘোষণা

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ মাদ্রিদ ও কাস্তিলা ই লেওন অঞ্চলের সীমান্তে চলমান বড় দাবানলের জরুরি পরিস্থিতির মাত্রা কমানোর ঘোষণা দেন। তবে তিনি সতর্ক করেন—পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। রাতের তুলনামূলক অনুকূল আবহাওয়ায় দমকলকর্মীরা আগুনের বিস্তার ঠেকাতে সক্ষম হলেও প্রায় এক হাজার মানুষকে এখনো রাজধানী মাদ্রিদের পশ্চিমে সান হুয়ান জলাধারের কাছে তাদের বাসিঘর থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে। স্পেনে একটি বড় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর জরুরি সতর্কতার মাত্রা কিছুটা কমানো হলেও দেশটির অন্তত আরও ১০টি দাবানল নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে।

ফ্রান্সে আগুনের বিস্তার ও গ্রেপ্তার

ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বোর্দোর কাছে দাবানলে পুড়ে গেছে প্রায় ৪২ হাজার হেক্টর এলাকা। আগুনের কারণে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার বাসিন্দা ও পর্যটককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তাদের মধ্যে প্রায় ৬০ হাজার জনকে বাড়ি ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বোর্দোর কাছে ভয়াবহ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হলেও অগ্নিসংযোগের সন্দেহে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোও ধীরে ধীরে খুলতে শুরু করেছে। কয়েক দিন আংশিক বন্ধ থাকার পর একটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কও পুরোপুরি খুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।

ইংল্যান্ড ও জলবায়ু প্রভাব

এদিকে পূর্ব ইংল্যান্ডের ডানউইচ হিথ এলাকায়ও ভয়াবহ দাবানল মোকাবিলা করছেন দমকলকর্মীরা। আগুনের কারণে প্রায় ২০০টি ক্যারাভান সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরোপ বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা মহাদেশ। এ বছর মহাদেশটিতে দাবানলের মৌসুম গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি ভয়াবহ। ইতিমধ্যে ২০২৫ সালের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিমাণ। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তাপপ্রবাহ, দীর্ঘস্থায়ী খরা ও শুষ্ক উদ্ভিদ দাবানলের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

Leave a Comment