বদলে যাওয়া কোরবানি অর্থনীতির গল্প
বদল য ওয় ক রব ন র – বাংলাদেশে গ্রামীণ অর্থনীতির নীরব বিপ্লবগুলোর মধ্যে কোরবানি পশু উৎপাদন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একসময় ঈদ আসার সময় সীমান্তপথে বিদেশি গরু প্রবেশ ছিল সাধারণ দৃশ্য। দেশের বাজার বিশেষ করে কোরবানি পশু উপর নির্ভর করত। কিন্তু সময় বদলেছে। আজ বাংলাদেশ শুধু কোরবানির পশু উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়, বরং উদ্বৃত্ত উৎপাদনেও দক্ষতা অর্জন করেছে।
২০২৫ সালের কোরবানির ঈদে বাংলাদেশে প্রায় ৯১ লাখ ৩৬ হাজার ৭৩৪টি পশু কোরবানি হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪৭ লাখ ৫ হাজার গরু ও মহিষ এবং ৪৪ লাখ ৩০ হাজার ছাগল ও ভেড়া ছিল। কিন্তু সরকারি হিসাব অনুযায়ী প্রস্তুত ছিল প্রায় ১ কোটি ২৪ লাখ ৪৭ হাজার পশু। তা চাহিদার তুলনায় প্রায় ২০ লাখের বেশি।
অর্থাৎ কোরবানির পশু উৎপাদন বৃদ্ধির সাথে সাথে বিদেশি পশু আমদানি প্রয়োজন হচ্ছে না। এই পরিবর্তনের অর্থনৈতিক গুরুত্ব অনেক বড়। আগে বিপুল অর্থ বিদেশে চলে যেত; এখন সেই অর্থ দেশের গ্রামীণ অর্থনীতির ভেতরে আবর্তিত হচ্ছে। কোরবানির পশু খাত এখন একটি বিশাল ভ্যালু চেইনে পরিণত হয়েছে।
জাতীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অর্জন
খামারি ছাড়াও এই খাতের সাথে যুক্ত আছে পশুখাদ্য ব্যবসায়ী, ওষুধ বিক্রেতা, পরিবহনশ্রমিক, হাট ইজারাদার, কসাই ও মৌসুমি শ্রমিকদের কাজ করে। প্রতিবছর কোরবানি কেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম হাজার হাজার কোটি টাকার পরিমাণ প্রাপ্ত হয়। এটি গ্রামীণ অর্থনীতিতে নগদ অর্থ প্রবাহ বাড়ায়, যা স্থানীয় বাজার ও ক্ষুদ্র ব্যবসাকে চাঙা করে।
বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ খাত বর্তমানে জাতীয় জিডিপিতে প্রায় ১ দশমিক ৯ শতাংশ এবং কৃষিজ জিডিপিতে ১৪ থেকে ১৫ শতাংশ অবদান রাখছে। যদিও এই খাতের পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি, তারপরও কোরবানির পশু উৎপাদন দেশের অর্থনীতিতে একটি শক্তিশালী চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।
বিভিন্ন অঞ্চলে কোরবানির চিত্র পরিবর্তনের বার্তা দেয়। ২০২৫ সালে রাজশাহী বিভাগে সবচেয়ে বেশি, প্রায় ২৩ লাখ ২৪ হাজার পশু কোরবানি হয়েছে। এরপর ঢাকায় প্রায় ২১ লাখ ৮৫ হাজার পশু ছিল। উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলো গবাদিপশু উৎপাদনের বড় কেন্দ্র হয়েছে। চরাঞ্চল ও গ্রামীণ এলাকায় ঘাস চাষ এবং খামার সম্প্রসারণ এ পরিবর্তনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বাজার কল্পনাই করা যেত না।
আজ দেশের প্রায় প্রতিটি অঞ্চলে ছোট, মাঝারি ও বড় খামার গড়ে উঠেছে। অনেক শিক্ষিত
