ঘুমানোর নিয়মগুলো কি ইসলাম কীভাবে নির্দেশ দেয়
ব বস ত র হয় ঘ ম – ঘুম মহান আল্লাহ তাআলার নেয়ামতের একটি অপরিসীম গুণ। সমস্ত দিনের ক্লান্তি দূর করতে ঘুমের কোনো বিকল্প নেই। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘আমি তোমাদের বিশ্রামের জন্য নিদ্রা দিয়েছি। তোমাদের জন্য রাতকে করেছি আবরণস্বরূপ এবং দিনকে বানিয়েছি তোমাদের কাজের জন্য।’ (সুরা নাবা: ৯-১১)
মুবাহ বা জায়েজ ঘুমের বিধান
ইসলাম মানুষের জীবনযাপনের প্রতিটি বিষয়ের সুন্দর ও স্বাস্থ্যসম্মত দিকনির্দেশনা দিয়েছে। ঘুমানোর নিয়মও তা অনুসরণ করে। অনেকে রাতে স্বস্তি পেতে কিংবা গরমের কারণে একবারে বিবস্ত্র হয়ে ঘুমান। ইসলামি শরিয়তে এটি মূলত মুবাহ বা জায়েজ। এভাবে ঘুমালে কোনো গুনাহ হয় না এবং এর বিরুদ্ধে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা নেই।
সহিহ মুসলিমের একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ইমানের ৭০টির বেশি শাখা রয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ হলো এই ঘোষণা দেওয়া যে, ‘‘আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই’’, আর সর্বনিম্ন হলো রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়া। আর লজ্জা হলো ইমানের একটি (গুরুত্বপূর্ণ) শাখা।’ (সহিহ মুসলিম: ৫১)
ঘুমানোর গুরুত্ব এবং সামাজিক নৈতিকতা
ঘুমানোকে ইসলাম একপ্রকার ‘মৃত্যু’র তুলনা করেছে, কারণ ঘুমের সময় চেতনা থাকে না। জাগ্রত হওয়ার মাধ্যমে মানুষ নতুন জীবন ফিরে পায়। তাই মুমিনের উচিত ঘুমের সময় যথাসম্ভব শালীনতা বজায় রাখা। অনেকে একদম বিবস্ত্র হয়ে না ঘুমিয়ে, ঢিলেঢালা সুতি পোশাক পরিধান করা বা অন্তত একটি চাদর গায়ে জড়িয়ে ঘুমানো উত্তম।
নিষেধাজ্ঞা ও সামাজিক ভাবনা
বিবস্ত্র হয়ে ঘুমানো জায়েজ হলেও ওলামায়ে কেরাম ও ফকিহরা একে নিরুৎসাহিত করেছেন। এর পেছনে মূলত দুটি বড় কারণ রয়েছে— ইসলামে লজ্জাশীলতাকে অত্যন্ত উঁচুতে স্থান দেওয়া হয়েছে। লজ্জা বজায় রাখা কেবল মানুষের সামনে নয়, একাকী অবস্থায় আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাদের সামনেও গুরুত্বপূর্ণ।
