International

চীন থেকে ৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র পাচ্ছে ইরান

Foto : Richard Smith - banglajibon.com

চ ন থ ক ৪০০ আক শ ক্ষেপণাস্ত্র ক্রয় চুক্তি

Banglajibon.com – চ ন থ ক ৪০০ আক শ – যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যে নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই চীনে তৈরি কাঁধে বহনযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার (ম্যানপ্যাডস–MANPADS) প্রথম চালান পেতে যাচ্ছে ইরান। চুক্তি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স। সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ৬০ থেকে ৭০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এই ক্রয়চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের স্বল্প-পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তি বাড়ানোর অন্যতম বড় উদ্যোগ।

চুক্তির বিস্তারিত ও সরবরাহের পথ

চুক্তির আওতায় ৩০০ থেকে ৪০০টি কাঁধে বহনযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (ম্যানপ্যাডস) কেনা হবে। এর মধ্যে চীনে তৈরি কিউডব্লিউ–১২ এবং এফএন-১৬ ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। সূত্রগুলোর দাবি, হংকংভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ঝংকিং বাওশাং ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্টের সঙ্গে এই চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ইরান এবং চীনা সরবরাহকারীর মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে।

সূত্রগুলোর ভাষ্য, উভয় পক্ষের সমঝোতা অনুযায়ী প্রথম দফার চালান পশ্চিম চীনের উরুমকি শহর থেকে আকাশপথে পাঠানো হবে। এরপর পাকিস্তান হয়ে ইরানে পৌঁছাবে। তবে পাকিস্তান থেকে ইরানে অস্ত্রগুলো আকাশপথে নাকি সড়কপথে নেওয়া হবে, সে বিষয়ে সূত্রগুলো নিশ্চিত করতে পারেনি। এদিকে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর জনসংযোগ বিভাগ (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘চীন থেকে ইরানে আকাশ প্রতিরক্ষা অস্ত্র সরবরাহে পাকিস্তান জড়িত রয়েছে বলে যে জল্পনা চলছে, তা সম্পূর্ণ মনগড়া এবং মিথ্যা।’ পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্রও মন্তব্যের অনুরোধের কোনো জবাব দেননি।

সংঘাতের অবসান এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় চীন ধারাবাহিকভাবে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে আসছে।

সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, গত দুই দশকে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও রাডার ব্যবস্থায় ব্যাপক বিনিয়োগ করলেও কাঁধে বহনযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এগুলো দ্রুত বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন করা যায়, অল্পসংখ্যক সদস্য দিয়ে পরিচালনা করা যায় এবং সহজেই স্থান পরিবর্তন করা সম্ভব। ফলে স্থায়ী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তুলনায় এগুলো ধ্বংস করা অনেক কঠিন।

কিউডব্লিউ–১২ এবং এফএন–১৬ হলো কাঁধে বহনযোগ্য, ইনফ্রারেড-নির্দেশিত ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা। এগুলো নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়া যুদ্ধআকাশ, হেলিকপ্টার এবং ড্রোন ভূপাতিত করার জন্য তৈরি। সহজে বহনযোগ্য হওয়ায় এগুলো সামরিক ঘাঁটি, জ্বালানি অবকাঠামো এবং অন্যান্য সংবেদনশীল স্থাপনার চারপাশে দ্রুত মোতায়েন করা যায়। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, কিউডব্লিউ–১২ নতুন কিউডব্লিউ–১৮ এবং কিউডব্লিউ–১৯-এর তুলনায় কম সক্ষম হলেও ড্রোন এবং নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়া লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে কার্যকর স্বল্প-পাল্লার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করতে পারে।

এই অস্ত্র ক্রয়চুক্তি দেখিয়ে দিচ্ছে, দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা ও প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত আমদানি সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ইরান এখনো নিজস্ব অস্ত্র উৎপাদনের পাশাপাশি বিদেশি সরবরাহকারীদের ওপরও নির্ভর করছে। সূত্রগুলোর মতে, শত শত ম্যানপ্যাডস সরবরাহ করা হলে ইরানের স্বল্প-পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে এটি চীন ও ইরানের সামরিক সম্পর্ক আরও গভীর হওয়ার ইঙ্গিতও বহন করে। তবে সূত্রগুলো সতর্ক করে বলেছে, চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও সরবরাহের সময়সূচি, অস্ত্রের সংখ্যা এবং বাস্তবায়নের অন্যান্য বিষয় এখনো পরিবর্তিত হতে পারে।

Leave a Comment