বাংলাদেশ সীমান্তে পাকিস্তানি গুপ্তচর সন্দেহে একজনকে আটক করেছে ভারত
Table of Contents
বাংলাদেশ সীমান্তে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সন্দেহে আটক এক ব্যক্তি
Banglajibon.com – ব ল দ শ স ম ন – পশ্চিমবঙ্গের বিশেষ টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় দুইজনকে গ্রেফতার করেছে। তাদের একজন পাকিস্তানি নাগরিক বলে সন্দেহ করা হচ্ছে এবং তাঁর পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্সের (আইএসআই) সাথে যোগাযোগ ছিল কি না, তা তদন্ত করছে কর্তৃপক্ষ। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, ভারতীয় কর্মকর্তারা বুধবার জানান—পাকিস্তানের ফুসলাবাদের বাসিন্দা রানা রউফ—তিনি ওহাব আলম নামেও পরিচিত—গত মঙ্গলবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হাওড়া থেকে আটক হন।
আটকের বিস্তারিত বিবরণ
গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এসটিএফের সদস্যরা বনগাঁর কাছে হাওড়া এলাকায় অভিযান চালান এবং যশোর রোড থেকে রউফকে আটক করেন। এসটিএফের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘বনগাঁ সীমান্তের দিকে রউফের চলাচল সম্পর্কে আমরা নির্দিষ্ট তথ্য পেয়েছিলাম। এরপর হাওড়ার যশোর রোড থেকে তাঁকে আটক করা হয়। আইএসআইয়ের সাথে তাঁর কথিত যোগাযোগ, ভারতীয় পরিচয়পত্রের ব্যবহার এবং সে বাংলাদেশে যাওয়ার চেষ্টা করছিল কি না, আমরা তা তদন্ত করছি।’ তদন্তকারীরা রউফের ভারতে কর্মকাণ্ড, যোগাযোগ ও চলাফেরা খতিয়ে দেখছেন। তাদের সন্দেহ, পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার সাথে তাঁর যোগসূত্র থাকতে পারে।
রউফের ইতিহাস ও কার্যক্রম
কর্মকর্তাদের মতে, রউফ ২০১২ সালে নেপালের মাধ্যমে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে। ভারতে আসার আগে সে কিছু সময় নেপালে অবস্থান করেছিল এবং পরে পশ্চিমবঙ্গে বসতি স্থাপন করে। তাঁর কাছ থেকে একাধিক ভারতীয় পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি আধার কার্ডে কলকাতার টপসিয়া এলাকার ঠিকানা ছিল বলে কর্মকর্তারা জানান। এসটিএফের দাবি, রউফ ভারতের বিভিন্ন ট্রেন এবং সশস্ত্র বাহিনীর গতিবিধির ওপর নজর রাখছিল। কলকাতার বেশ কয়েকটি স্পর্শকাতর স্থানের ওপরও সে নজরদারি করছিল বলে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন। এসব স্থানের মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ফোর্ট উইলিয়ামও রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, ‘মনে হচ্ছে, স্থাপনাটির ছবি, ভিডিও এবং মানচিত্র সংগ্রহের দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয়েছিল এবং সে ইতোমধ্যে সেই কাজ শুরু করেছিল।’।
দ্বিতীয় আটক ব্যক্তি ও তদন্তের বিস্তারিত
তদন্তকারীদের মতে, রানা পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে যাওয়ার পরিকল্পনাও করেছিল। আটকের আগে রানা তাঁর মোবাইল ফোনটি ধ্বংস করে ফেলেছিল। ফলে আটকের সময় তাঁর কাছ থেকে কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা যায়নি। তবে তাঁর ব্যাগে থাকা একটি নোটবুক থেকে বেশ কয়েকটি ফোন নম্বর উদ্ধার করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, ওই নম্বরগুলোর কিছু বাংলাদেশ, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার। তার কাছ থেকে দুটি সিম কার্ডও উদ্ধার করা হয়েছে। এসটিএফের এক কর্মকর্তা বলেন, রউফ পাকিস্তানের কাছে ভারতীয় রেলওয়ে ও ভারতীয় নৌবাহিনী-সংক্রান্ত তথ্য পাচার করেছে বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে। সে কী ধরনের তথ্য সংগ্রহ করছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে।
এই মামলার দ্বিতীয় আটক ব্যক্তি হলেন মোহাম্মদ এজাজ। মঙ্গলবার কলকাতার টপসিয়া এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। কর্মকর্তাদের অভিযোগ, এজাজের সাথে রউফের সরাসরি যোগাযোগ ছিল এবং ভারতে পরিচয়পত্র সংগ্রহে সে রউফকে সহায়তা করেছিল। রউফের সাথে তাঁর সম্পর্কের মাত্রা এবং এই ঘটনার অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তা জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এসটিএফ আরও তদন্ত করছে, স্বাধীনতা দিবসের আগে দুই অভিযুক্ত কোনো ‘ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড’ চালানোর পরিকল্পনা করেছিল কি না।
হামীম মণ্ডলের তথ্যের গুরুত্ব
রউফকে শনাক্ত করার ক্ষেত্রে পূর্ব বর্ধমানের একটি মামলার আটক হামীম মণ্ডলের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। জুলাইয়ের শেষ দিকে পূর্ব বর্ধমানে যে মডিউলটি এসটিএফ ভেঙে ফেলার দাবি করেছিল, সেই ঘটনার আটক হওয়া তিনজনের একজন ছিলেন হামীম। অন্য দুজন ছিলেন তার বান্ধবী অর্পিতা সরকার এবং আদিত্য সিং। এসটিএফের অভিযোগ ছিল, ওই তিনজন নিয়মিত আইএসআই এবং পাকিস্তানভিত্তিক গ্যাংস্টার শাহজাদ ভাট্টির সাথে যুক্ত একটি নেটওয়ার্কের যোগাযোগে ছিল। এসটিএফ কর্মকর্তারা আরও সন্দেহ করেছিলেন, রাজনীতিবিদ, মন্ত্রী ও আমলাদের কাছ থেকে সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের জন্য অর্পিতাকে একটি ‘হানি-ট্র্যাপ’ অভিযানে ব্যবহার করা হচ্ছিল। এক কর্মকর্তা বলেন, ‘হামীম ও রউফের মধ্যে সরাসরি কোনো যোগাযোগ ছিল কি না, রাজ্য তদন্তকারী সংস্থা এখন তা খতিয়ে দেখছে।’ রউফের নিষিদ্ধ কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনের সাথে সম্ভাব্য যোগাযোগ এবং আইএসআইয়ের সাথে তার কথিত সম্পর্কের প্রকৃতিও তদন্ত করছে এসটিএফ।
এই আটকের ঘটনার ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তের নিরাপত্তা এবং ভুয়া ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরির সাথে জড়িত নেটওয়ার্কও নতুন করে তদন্তের আওতায় এসেছে বলে কর্মকর্তারা জানান। আটকের পর মঙ্গলবার রাতে রউফকে চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য হাওড়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বারাসাত আদালতে হাজির করা হলে আদালত রউফ ও এজাজ, উভয়কেই ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ব ল দ শ স ম ন?
ব ল দ শ স ম ন is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ব ল দ শ স ম ন matter?
ব ল দ শ স ম ন matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.
