টিআইএন বাধ্যবাধকতা: ব্যাংক হিসাব-সঞ্চয়ে ভাটা পড়ার ভয়
ট আইএন ব ধ যব ধকত – বাংলাদেশের প্রায় ১৭ কোটি ৭০ লাখ মানুষের মধ্যে বর্তমানে প্রায় ১১ কোটি দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষ রয়েছেন। তাঁদের বড় অংশের কোনো করযোগ্য আয় নেই। কিন্তু আর্থিক সুরক্ষা বা ভবিষ্যৎ সঞ্চয়ের জন্য ব্যাংকের দ্বারস্থ হওয়ার প্রয়োজনীয়তা আছে। যাঁদের কর দেওয়ার বাধ্যতা নেই কিন্তু আগামী দিনে ব্যাংক হিসাব খুলতে গেলে টিআইএন সনদ জমা দেওয়া আবশ্যক হতে চলছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটে বিশেষ ক্ষেত্র ছাড়া সবার জন্য ব্যাংক হিসাব খোলার সময় টিআইএন সনদ জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা প্রস্তাবিত। সরকারের যুক্তি, অর্থনীতি আনুষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে আনতে এবং করের আওতা বাড়াতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। টিআইএন সংযুক্ত হলে আয় ও সম্পদের তথ্য বিশ্লেষণ সহজ হবে এবং করফাঁকি শনাক্ত করাও কার্যকর হবে।
বিশ্ব ব্যাংকের ‘গ্লোবাল ফিনডেক্স ডেটাবেজ ২০২৫’ অনুযায়ী, দেশে এখনো ৫৭ শতাংশ মানুষ আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে। মাত্র ৪৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের আর্থিক হিসাব রয়েছে। অর্থাৎ সাধারণ মানুষের কাছে টিআইএন নিয়ে ভয় ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। যেমন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী একটি ধারণা ব্যক্ত করেন, ‘আমি কর দিই না, কারণ আমার আয় করযোগ্য নয়। কিন্তু ব্যাংক হিসাব খুলতে যদি টিআইএন লাগে, পরে কোনো ঝামেলায় পড়ব কি না, সেই ভয় থাকে।’
ব্যাংকিং ব্যবস্থায় প্রবেশ সহজ ও অবাধ হলে মানুষের আর্থিক কর্মকাণ্ডও ধীরে ধীরে আনুষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে চলে আসে। তাই প্রকৃত করফাঁকিদাতা ও উচ্চ আয়ের ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার পরিবর্তে নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর ওপর অতিরিক্ত প্রশাসনিক শর্ত আরোপ করলে কাঙ্ক্ষিত ফল নাও আসতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ দেশে নো-ফ্রিলস ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা ৩ কোটি ৪২ লাখ ছাড়িয়েছে। এসব হিসাবে জমা হয়েছে ৭ হাজার ২৬০ কোটি টাকার বেশি। অর্থাৎ নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি আস্থা ধীরে ধীরে বাড়ছে। কিন্তু নতুন প্রস্তাব সেই যাত্রাপথকে জটিল করে তুলবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ড. মোস্তফা কে মুজেরী বলেন, আনুষ্ঠানিক �
