হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা প্রত্যাহারের ঘোষণা
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় আদেশ প্রত্যাহার
Banglajibon.com – হব গঞ জ প র এল ক – হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় জেলা প্রশাসন থেকে জারি করা ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. জি এম সরফরাজ এই আদেশ জারি করেন। আদেশে বলা হয়, ২৯ জুলাই হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ১৪৪ ধারার ক্ষমতাবলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী বর্তমানে পৌর এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কা না থাকায় পূর্বে জারি করা ১৪৪ ধারার আদেশ প্রত্যাহার করা হলো।
পূর্ববর্তী সংঘাত ও ১৪৪ ধারা জারির পটভূমি
এর আগে মঙ্গলবারের সংঘর্ষের পর এনসিপি, যুবদল ও ছাত্রদলের ঘোষিত পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গতকাল বুধবার সকাল থেকেই থমথমে হয়ে ওঠে হবিগঞ্জ শহর। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সকাল ১০টার পর হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেন জেলা প্রশাসক। শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং নিরাপত্তা জোরদারে তিন প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দায়িত্ব পালন করে।
এনসিপি নেতাদের প্রবেশাচেষ্টা ও বিক্ষোভ স্থগিত
বুধবার বিকেলে ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে হবিগঞ্জে প্রবেশের চেষ্টা করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতারা। গাড়িবহরে ছিলেন দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহ, সারওয়ার তুষার এবং জাতীয় নারী শক্তির সদস্যসচিব মাহমুদা মিতুসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। তবে বাহুবল উপজেলার পুরাতন ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রশীদপুর এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ তাদের গাড়িবহরের গতিরোধ করে। এ সময়ে পুলিশ ও এনসিপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে এবং দীর্ঘ দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত বিক্ষোভ কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেয় এনসিপি।
অভিযোগ দাখিল ও পুলিশের ব্যবস্থা
এরপর মঙ্গলবারের হামলার ঘটনায় মামলা দায়েরের জন্য পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলকে হবিগঞ্জ সদর থানায় যাওয়ার অনুমতি চাওয়া হয়। তবে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে পুলিশ সেই অনুমতি না দেওয়ায় উভয় পক্ষের সমঝোতায় পাশের কামাইছড়া পুলিশ ক্যাম্পে অভিযোগ গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। সন্ধ্যার পর এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদল কামাইছড়া পুলিশ ক্যাম্পে উপস্থিত হয়। সেখানে মঙ্গলবারের হামলার ঘটনায় হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগনকে প্রধান আসামি করে ১১ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় ১০০ জনকে আসামি করে লিখিত অভিযোগ দেন জেলা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তাহের।
অভিযোগটি হাতে লেখা হওয়ায় সেটি গ্রহণ করে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য হবিগঞ্জ সদর থানায় পাঠানো হবে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদ জানান, অভিযোগটি হাতে লেখা হওয়ায় সেটি গ্রহণ করে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য হবিগঞ্জ সদর থানায় পাঠানো হবে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

