Business

সুদহারের ব্যবধান কমছে না

Bangladesh-bank-2
Foto : Mary Taylor - banglajibon.com
Table of Contents
  1. ব্যাংক খাতে সুদহারের ব্যবধান এখনো লক্ষ্যসীমার বাইরে
  2. Related Reading
  3. Frequently Asked Questions

ব্যাংক খাতে সুদহারের ব্যবধান এখনো লক্ষ্যসীমার বাইরে

Banglajibon.com – স দহ র র ব যবধ ন – কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্পষ্ট নির্দেশনার পরেও বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে আমানত ও ঋণের গড় সুদহারের পার্থক্য — যা স্প্রেড নামে পরিচিত — কমে যায়নি। জুন মাসের সমাপ্তিতে এই ব্যবধান দাঁড়িয়েছিল ৫ দশমিক ৭০ শতাংশে, অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত ৪ শতাংশ সীমার চেয়ে ১ দশমিক ৭০ শতাংশ পয়েন্ট অতিরিক্ত। কিছু বিদেশি ব্যাংকের ক্ষেত্রে এই ব্যবধান ৮ শতাংশেরও পেরিয়ে গেছে। ফলে ব্যবসায়িক ও বিনিয়োগমুখী ঋণের খরচ কমানোর উদ্যোগ এখনো কেবল কাগজের নির্দেশনায় সীমাবদ্ধ, বাস্তব ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হয়নি।

খাতভিত্তিক স্প্রেডের চিত্র (জুন সমাপ্তি)

রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে জুন শেষে আমানতের গড় সুদহার ছিল ৫ দশমিক ৬৯ শতাংশ, অন্যদিকে ঋণের সুদ ১১ দশমিক ৩৩ শতাংশ — ফলে এই খাতের স্প্রেড দাঁড়ায় ৫ দশমিক ৬৪ শতাংশে। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে আমানতের সুদ ৬ দশমিক ৫২ শতাংশের বিপরীতে ঋণের সুদ ছিল ১২ দশমিক ৯ শতাংশ, যার ফলে ব্যবধান ৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ।

বিদেশি ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে ব্যবধান সবচেয়ে উচ্চ। জুন সমাপ্তিতে এই খাতের স্প্রেড ছিল ৮ দশমিক ২৭ শতাংশ। এসব প্রতিষ্ঠান আমানত গ্রহণে মাত্র ২ দশমিক ১০ শতাংশ সুদ দিলেও ঋণ বিতরণ করেছে ১০ দশমিক ৩৭ শতাংশ সুদে। অন্যদিকে বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর স্প্রেড ছিল সবচেয়ে ন্যূনতম — মাত্র ৩ দশমিক ৫০ শতাংশ। এই খাতে আমানতের গড় সুদ ৭ দশমিক ২০ শতাংশ এবং ঋণের সুদ ১০ দশমিক ৭০ শতাংশ ছিল।

মে মাসের তুলনামূলক অবস্থা

মে মাসের পরিসংখ্যানও প্রায় অভিন্ন ছিল। ওই মাসে ব্যাংক খাতে আমানতের গড় সুদহার ৬ দশমিক ২২ শতাংশ এবং ঋণের গড় সুদ ১১ দশমিক ৯২ শতাংশ ছিল, যার ফলে স্প্রেড দাঁড়িয়েছিল ৫ দশমিক ৭০ শতাংশে। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে সার্বিক ব্যবধানে কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেনি।

নতুন নির্দেশনা ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অবস্থান

এই পরিস্থিতিতে গত ৩০ জুন বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকগুলোকে নতুন নির্দেশনা জারি করে। ক্রেডিট কার্ড ও ভোক্তাঋণ বাদে বাকি সব ঋণে আমানত ও ঋণের গড়ভিত্তিক সুদহারের ব্যবধান ৪ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যুক্তি হলো, অতিরিক্ত স্প্রেডের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যের অর্থায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যা উৎপাদন ও বিনিয়োগকে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি বাড়াতেই স্প্রেড ৪ শতাংশের মধ্যে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিদ্যমান ঋণ ও আমানতের ব্যবস্থাপনায় তাৎক্ষণিক পরিবর্তনের সুযোগ নেই। তবে নতুন ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে নির্দেশনাটি কার্যকর করতে হবে।

ব্যাংকারদের উদ্বেগ ও বাজার বাস্তবতা

ব্যাংকারদের মতে, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে দ্রুত স্প্রেড কমানো সহজ নয়। আমানত সংগ্রহে ব্যাংকগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে। একইসঙ্গে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির প্রভাব হিসেবে প্রভিশন সংরক্ষণে বিপুল অর্থ আটকে যাচ্ছে। পরিচালন খরচও বেড়েছে। এসব খরচ সামলে নিতে ঋণের সুদহার কমানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত ব্যাংকগুলোকে মানতেই হবে। তবে ঋণ ও আমানতের সুদহার নির্ধারণে বাজারের প্রতিযোগিতার বিষয়টিও বিবেচনা করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, আমানত সংগ্রহের সক্ষমতা ও বাজার পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করেই ব্যাংকগুলোকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

এসএমই খাতের বিশেষ চাপ

নতুন নির্দেশনায় সবচেয়ে বেশি উদ্বেগে রয়েছে এসএমই খাতে ঋণ বিতরণকারী ব্যাংকগুলো। ছোট উদ্যোক্তাদের ঋণে তুলনামূলক পরিচালন খরচ অনেক বেশি। ফলে ৪ শতাংশ স্প্রেডে এই খরচ মেটানো কঠিন বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো।

এসএমই খাতে অন্যতম বড় ঋণদাতা ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারেক রেফাত উল্লাহ খান এ প্রসঙ্গে বলেন, এই খাতে ঋণের পরিচালন খরচ বেশি হওয়ায় ব্যাংকের আয় ও খরচের অনুপাত প্রায় ৬৫ শতাংশ। ফলে মাত্র ৪ শতাংশ স্প্রেডে খরচ মেটানো কঠিন। এ কারণে এসএমই ঋণকে স্প্রেডের সীমা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি।

ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ

বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, কাঁচামাল, গ্যাস-বিদ্যুৎ ও ডলারের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে ১২-১৪ শতাংশ সুদে ঋণ নিয়ে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ছোট উদ্যোক্তারা বেশি চাপে রয়েছেন।

অর্থনীতিবিদের মূল্যায়ন

অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরীর মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে স্প্রেড ৪ শতাংশে সীমিত রাখার সিদ্ধান্ত যৌক্তিক ও সাময়িক পদক্ষেপ। তবে শুধু নির্দেশনা দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে এই ব্যবধান কমানো সম্ভব নয়। খেলাপি ঋণ, সুশাসনের ঘাটতি ও ব্যাংকের অদক্ষতা কমাতে খাতটির কাঠামোগত সংস্কার অপরিহার্য। একইসঙ্গে ব্যাংকগুলোকে সুদের ব্যবধান বাড়ানোর বদলে দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির দিকে নজর দিতে হবে।

Frequently Asked Questions

What is স দহ র র ব যবধ ন?

স দহ র র ব যবধ ন is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does স দহ র র ব যবধ ন matter?

স দহ র র ব যবধ ন matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Comment