Business

এডিপি বাস্তবায়ন: অর্ধেকও খরচ হয়নি ১১ মাসে

অর্ধেক খরচ হয়নি ১১ মাসে এডিপি বাস্তবায়নে

এড প ব স তব য়ন – অর্থবছরের শেষ মাসের সামনে চার দিন বাকি রয়েছে। গত মে মাস পর্যন্ত সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (আরএডিপি) অর্ধেকের বেশি অর্থ ব্যয় করতে পারেনি সরকার। চলতি অর্থবছরে জুলাই-মে সময়ে বাস্তবায়নের হার ৪৮ দশমিক ২৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের ৪৯ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশের চেয়ে কম।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী গত দেড় দশকে প্রথম ১১ মাসে সাধারণত মোট এডিপির ৬৫-৭০ শতাংশ প্রয়োগ করা হয়েছে। অনেক বছর এই হার আরও উপরে ছিল। কিন্তু এবার বাস্তবায়ন হার প্রথমবারের মতো সর্বনিম্ন হয়েছে।

বর্তমান অর্থবছরে মে মাসে এডিপি থেকে ব্যয় হয়েছে ১৪ হাজার ২৪৮ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৬ দশমিক ৮২ শতাংশ। আগের অর্থবছরে সেই মাসে ব্যয় হয়েছিল ১৬ হাজার ৯০৪ কোটি টাকা বা ৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ। অর্থাৎ অর্থবছরের শেষ দিকে এসেও মে মাসে বাস্তবায়নের হার গত বছরের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে।

আইএমইডির হিসাব অনুযায়ী সংশোধিত এডিপির মোট আকার ২ লাখ ৮ হাজার ৯৩৬ কোটি টাকা। মে মাস পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়েছে ১ লাখ ৭৬৪ কোটি টাকা। সেই হিসাবে অর্থবছরের শেষ মাসে প্রায় ১ লাখ ৮ হাজার ১৭২ কোটি টাকার উন্নয়ন ব্যয় অনুসরণ করতে হবে। এটি বর্তমান সংখ্যার তুলনায় আরও উদ্বেগজনক।

উন্নয়ন ব্যয়ের কম গতি

অর্থ মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, বড় প্রকল্পগুলোতে ক্রয়প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বিলম্ব, জমি অধিগ্রহণে জটিলতা, বৈদেশিক ঋণের অর্থছাড়ে ধীরগতি এবং প্রশাসনিক পরিবর্তনের কারণে অনেক প্রকল্প নির্ধারিত গতিতে এগোতে পারেনি। ফলে উন্নয়ন ব্যয়ও প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছায়নি।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এডিপি বাস্তবায়নের এই ধীরগতি কেবল প্রশাসনিক সমস্যা নয়, এটি সরকারি বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা সংকটেরও প্রতিফলন।

বর্তমানে বেসরকারি বিনিয়োগ প্রত্যাশিত গতিতে বাড়ছে না। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি উন্নয়ন ব্যয় অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ ব্যয় হলে নির্মাণ খাত, পরিবহন, সেবা খাত ও কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাওয়া ১৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বড় পাঁচটি বাস্তবায়নকারী সংস্থার মধ্যে রয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং পানিসম্পদ মন্ত্র

Leave a Comment