Bangladesh

১০ সন্তানের বাবা-মা, তবু দুবেলা খাবারের জন্য অন্যের দ্বারে

১০ সন্তানের বাবা-মা, তবু দুবেলা খাবারের জন্য অন্যের দ্বারে

১০ সন ত ন র ব ব – ভদ্রঘাট ইউনিয়নের বানিয়াগাঁতী গ্রামে বসবাস করেন আছাব আলী ও তাঁর স্ত্রী সালেকা বেগম। দুই বৃদ্ধের জীবন এখন দুর্দান্ত পরিস্থিতিতে কেটে যাচ্ছে। অসুস্থতার আঘাতে তাঁদের চলাফেরা করা খুব কষ্টসাধ্য। বৃষ্টির সময় ঘরের ভিতর পানি ঢেউয়ে আসে, কোনো নিরাপদ বসবাস নেই। ছোট্ট বসতঘরে ঢুকলেই চোখে পড়ে দারিদ্র্যের কঠিন চিত্র। টিনের ছাউনি আর ছিদ্রযুক্ত বেড়া সারা ঘরে স্থায়ী হয়ে আছে। ভালো শৌচাগার বা প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রও তাঁদের কাছে পৌঁছে না।

আছাব আলী ও সালেকা বেগম ছয়টি ছেলে আর চারটি মেয়ে বড় করেছেন। প্রতিবেশীদের সহানুভূতি ছাড়া তাঁদের খাবার খুঁজতে হয়। দুই বৃদ্ধ বর্তমানে বিয়ে করেছেন এবং আলাদা সংসার গুছিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু তাঁদের জীবনের শেষ দিনগুলো এখন অন্যের দ্বারে নির্ভর করে চলছে। স্বামী চলাফেরার শক্তি হারিয়েছেন। নিজের পায়ে হাঁটতে পারেন না। প্রতিদিন কাজ করতে হয় অন্যের সাহায্য ছাড়া। নানা অসুখে ভুগছেন সালেকা বেগম। তিনি স্বামীর সেবা করতে ব্যস্ত থাকেন। বাইরে নিয়ে যাওয়া বা সাহায্য চাইতে গেলে প্রতিবেশীদের দ্বারে আবেদন করেন তিনি।

“চাচা-চাচির এই কষ্ট দেখতে খুব খারাপ লাগে। যার যা সামর্থ্য আছে, তা দিয়েই আমরা সাহায্য করার চেষ্টা করি। কিন্তু এভাবে আর কত দিন চলবে? জীবনের শেষ সময়ে তাঁদের পাশে সমাজের সবার দাঁড়ানো উচিত,” বলেন প্রতিবেশী মরিয়ম বেগম।

আছাব আলী ও সালেকা বেগম তাঁদের সন্তানদের দ্বারা অনেক কষ্টে সংসার গুছিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে এবং জীবনের শেষ প্রান্তে তাঁদের সন্তানদের অধিকাংশই বৃদ্ধ দম্পতির খোঁজ নেন না। তাঁদের কেউ রিকশা চালান, কেউ তাঁতশ্রমিকের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তবুও দুই বৃদ্ধ প্রতিটি রাত যেন দীর্ঘশ্বাসের এক নতুন অধ্যায়। অসুস্থতা ও বয়সের ভার তাঁদের জীবন কেড়ে নিয়েছে।

“খাওয়াদাওয়ায় খুব কষ্ট। সন্তানেরা থেকেও নেই। প্রতিবেশীদের সাহায্য-সহযোগিতায় কোনোমতে টেনেটুনে চলে,” বলেন আছাব আলী ও সালেকা বেগম।

ভদ্রঘাট ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. সোহাগ মণ্ডল জানান, উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে দুই বৃদ্ধের নামে বয়স্ক ভাতার কার্ড করা হয়েছে। সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী নিয়মিত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তবে সোহাগ মণ্ডল আরও বলেন, দশটি সন্তান থাকার সত্ত্বেও জীবনের শেষ সময়ে তাঁদের খোঁজ নেওয়ার মতো কেউ নেই। সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষ যদি

Leave a Comment