Bangladesh

কুড়িগ্রামে ৬৫ বছরের আইনি লড়াই শেষে ফিরে পেলেন পৈতৃক জমি

কুড়িগ্রামে দীর্ঘ ৬৫ বছর ব্যাপী আইনি লড়াইয়ের শেষ সাফল্য

ক ড় গ র ম ৬৫ বছর – ১৯৬১ সালে আদালতে পৈতৃক ভূমি ফেরত পেতে মামলা দায়ের করেন আলেপ উদ্দিন। তখন তাঁর ফুফাতো ভাই বছির উদ্দিন তাঁর কাছে ১৩৫ টাকায় একটি নির্দিষ্ট ভূমি বন্ধক করেন। বন্ধকি টাকা শোধ করলেও জমি ফেরত দেননি তিনি। মহকুমা প্রশাসকের সাহায্যে উভয় পক্ষের দ্বন্দ্ব সমাধানের চেষ্টা করা হয়। সেই সময় জমির দখল টাউন চেয়ারম্যানের হাতে চলে যায়। পরবর্তীতে এই জমি অন্য এক ব্যক্তির হাতে দেওয়া হয়।

আইনি সংগ্রামের চূড়ান্ত সাফল্য

সরকার রিসিভার নিয়োগ করার পর থেকে মামলা সম্পূর্ণ আইনি লড়াইয়ে পরিণত হয়। বছির উদ্দিনের মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে আব্দুস সাত্তার গং এই ক্ষেত্রে নতুন করে লড়াই শুরু করেন। প্রতিষ্ঠিত হয়েছে উত্তরাধিকারের সূত্র। বুধবার (১৩ মে) পৌর এলাকার চরুয়াপাড়ায় জমিটি সহকারী কমিশনার আরিফুল ইসলাম আব্দুস সাত্তার গংদের মালিকানায় দখল বুঝিয়ে দেন। এ সময় মৃত বছির উদ্দিনের ওয়ারিশগণ উপস্থিত ছিলেন না।

স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সরকারি সার্ভেয়ার এবং পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতে জমির দখল চূড়ান্ত পর্যায়ে ঘোষণা করা হয়। ঢাকঢোল পিটিয়ে এবং লাল পতাকা উড়িয়ে সন্তান হয়ে আব্দুস সাত্তার গং জমি ফেরত পেয়েছেন। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পরিণতি হিসেবে তাঁদের কাছে ৬ দশমিক ৬৮ শতক জমি প্রদান করা হয়। অবশিষ্ট ভূমি জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

“আমার বাবার লড়াই আমরা চালিয়েছি। এটা খুব সহজ ছিল না। জমিটিতে একসময় সরকার রিসিভার নিয়োগ করে। দীর্ঘ আইনি লড়াই চালিয়ে নিতে অনেক ঘাত-প্রতিঘাত সহ্য করতে হয়েছে। আদালত শেষ পর্যন্ত আমাদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছেন। বাবা বেঁচে থাকলে বেশি খুশি হতেন। আজ এত বছর পর সন্তান হয়ে আমরা বাবার জমি ফিরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছি।”

বুধবার বিকেলে মামলার বাদীপক্ষ আব্দুস সাত্তারের বাড়ি কলেজপাড়ায় উপস্থিত ছিলেন। বিবাদী পক্ষের বাড়ি পুরাতন শহরের গুয়াতিপাড়ায়। আদালতের নির্দেশে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। ছেলেদের বাবার জমি ফেরত পেয়ে সন্তুষ্টির সূচনা হয়।

Leave a Comment