Bangladesh

সৈয়দপুর রেলওয়ে: নষ্ট হচ্ছে ১৫০ কোটি টাকার সম্পদ

সৈয়দপুর রেলওয়ে: কোটি কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হচ্ছে

স য়দপ র র লওয় – নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরে অবস্থিত রেলওয়ে কারখানার জন্য তৈরি করা হয়েছিল ৮টি গভীর নলকূপ এবং ৮টি ওভারহেড পানির ট্যাংক। এগুলো সুপেয় পানি সরবরাহ করতে প্রস্তুত ছিল। তবে আগে থেকে এই ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে ট্যাংক, মোটর, পাইপসহ পানির সরবরাহ ব্যবস্থার অধিকাংশ অংশ ক্ষয় ক্ষতির শিকারী হয়েছে।

১৮৭০ সালে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা স্থাপনের পর প্রায় ২ হাজার ৬৭০টি স্টাফ কোয়ার্টার নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে ১৫০টি বাংলো ও ৭০০টি দ্বিকক্ষবিশিষ্ট কোয়ার্টার ছিল। কিন্তু বর্তমানে কারখানার কর্মীদের বাসস্থানে পানির সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। সেই কারণে চারপাশে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে যে নানা মূল্যবান সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

রেলওয়ে কর্মীরা প্রতিদিন নিজেদের পরিবারের জন্য পানি সংগ্রহ করতে হয়। তাঁদের বাসায় কোনো সুযোগ থাকলেও পানি বিলসহ বাসা ভাড়া কেটে নেওয়া হচ্ছে। কোয়ার্টারে দীর্ঘদিন ধরে পানির সরবরাহ বন্ধ ছিল। ফলে তাঁদের রান্নাবান্না ও গোসলের জন্য দূর থেকে পানি বাহিনী বসাতে হয়েছে।

পাম্পহাউস ও ট্যাংকগুলো বিপাকে

সরেজমিনে দেখা গেছে যে পাম্পহাউসগুলো জরাজীর্ণ হয়েছে। এগুলোতে মরিচা ধরে ক্ষয় ঘটেছে। অনেক জায়গায় পানির কলকবজা ও যন্ত্রাংশ চুরি হয়েছে। রেল কর্মচারীদের অভিযোগ, কোনো সুপেয় পানি সরবরাহের ব্যবস্থা ছিল না। ফলে বাসিন্দাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী জানান, কোয়ার্টারগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে সুপেয় পানি সরবরাহের কোনো ব্যবস্থা নেই। বাসিন্দাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

রেলওয়ে শ্রমিক ইউনিয়ন কারখানা শাখার সাধারণ সম্পাদক শেখ রোবায়েতুর রহমান বলেন, খোলা আকাশের নিচে ফেলর রেখে রেলওয়ের কোটি কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হচ্ছে। তিনি অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে রেলভূমি উদ্ধার, সম্পদ রক্ষা এবং পানি সরবরাহ ব্যবস্থা করার দাবি জানান।

রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো কর্মীদের মতো রেল কোয়ার্টারে থাকছেন প্রায় ৮৭০ জন। তাদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৩ হাজার ৮৩২ জনবল। সেখানে মূল্যবান রেলভূমি স্থানীয় দখলদারদের হাতে চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সেই কারণে পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।

রেলওয়ে স্টেশন এবং কারখানার বিভিন্ন দপ্তরে সুপেয় পানি পরিবাহ বন্ধ হয়েছে। এ নিয়ে জানতে চাইলে রেলওয়ে প্রকৌশলী চন্দন কুমার সরকার বলেন, তীব্র জনবলসংকটের কারণে মূলত পাম্পগুলো চালানো যাচ্ছে না।

Leave a Comment