তিস্তা নদীতে ভাঙনের নতুন রূপ: দুই তীরেই ক্ষয়, খননের দাবি তীব্র
Banglajibon.com – প ন ন মত ই ত স – পানির মাত্রা কমে এলেও তিস্তা নদীর দুই তীরে ভাঙনের তীব্রতা কমছে না। বরং পানি নামার পরপরই রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নতুন নতুন এলাকাগুলো ভাঙনের কবলে পড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাময়িকভাবে জিও ব্যাগ ব্যবহার করে ভাঙন রোধ করা হলেও তা স্থায়ী সমাধান নয়। তাদের মতে, তিস্তা নদী খনন ছাড়া এই সংকটের কোনো সমাধান নেই।
নোহালী ইউনিয়নে ভাঙনের তীব্রতা
তিস্তার ভাঙনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের কাচারিপাড়া ও বাগডহা এলাকা। ইতিমধ্যে ২২টি পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। আরও শতাধিক পরিবার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। এদিকে কোলকোন্দ ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ২০ মিটার নদীর ডান তীর ভেঙে নদীগর্ভে চলে গেছে। স্থানীয়রা জানান, যে জায়গাটি কোনো দিন ভাঙনের আশঙ্কা ছিল না, এবার সেখানেই নদীর তাণ্ডব শুরু হয়েছে।
শনিবার সকালে সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, কোলকোন্দ ইউনিয়ন পরিষদের পাশের ভাঙনকবলিত এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পক্ষ থেকে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চলছে। নদীর কিনারায় দাঁড়িয়ে উদ্বিগ্ন দৃষ্টিতে সেই কাজ দেখছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অনেকেই বলছিলেন, এটি সাময়িক ব্যবস্থা হলেও স্থায়ী সমাধান নয়।
স্থানীয়দের মতামত ও দাবি
স্থানীয় বাসিন্দা শামিম বলেন,
এবার কিন্তু নদীর ডান আর বাম—দুই তীরেই ভাঙন শুরু হয়েছে। কারণ, নদীর তলদেশ পলিতে ভরে গেছে। নদী আর পানি ধারণ করতে পারছে না। ফলে পানির চাপ দুই তীরে গিয়ে পড়ছে। তাই দুই পাশেই ভাঙন হচ্ছে। এই ভাঙন বন্ধ করতে হলে নদী খননের কোনো বিকল্প নেই।
আরেক বাসিন্দা হামিদার রহমান বলেন,
জিও ব্যাগ ফেলে কত দিন রক্ষা হবে? এ বছর হয়তো থাকবে, আগামী বছর আবার ভাঙবে। এতে শুধু সরকারি টাকার অপচয়। স্থায়ী সমাধান চাইলে নদী খনন করতে হবে। নদী খনন হলে ডান-বাম কোনো তীরই ভাঙবে না।
প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
নোহালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফ আলী বলেন,
আমার ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাচারিপাড়া এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাগডহা গ্রামের ২২টি পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এখনো শতাধিক পরিবার ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
কোলকোন্দ ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম বলেন,
যে জায়গাটি কোনো দিন ভাঙার কথা ছিল না, সেখানেই এবার ভাঙন শুরু হয়েছে। নদীর মাঝখানে চর জেগে ওঠার পর পানির স্রোত দুই তীর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে দুই পাশেই ভাঙন বাড়ছে। নদীর মাঝের বালু অপসারণ করে নদী খনন করা গেলে এ পরিস্থিতি তৈরি হতো না।
রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রাহান সিরাজী আজকের পত্রিকাকে বলেন,
আমি সব সময় সংসদে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছি। আমরা চাই সরকার দ্রুত এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করুক। একই সঙ্গে তিস্তার ডান ও বাম তীরে যে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে, তা রোধে কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

