রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়: অস্থিরতায় কমছে বিদেশি শিক্ষার্থী
Table of Contents
রাবিতে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির ধারাবাহিক পতন
Banglajibon.com – র জশ হ ব শ বব দ – ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক প্রথম বর্ষে একজনও বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হননি। একাডেমিক সেকশনের তথ্য অনুযায়ী এটি ধারাবাহিক পতনের সর্বশেষ অধ্যায়। এর আগে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে মাত্র একজন বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছিলেন, যিনি ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিভাগের ছাত্র।
পতনের পেছনে কারণ
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক খুরশিদ আলম মনে করেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনই এই পরিস্থিতির মূল কারণ। তিনি জানান, আন্দোলনসহ সামগ্রিক পরিস্থিতির প্রভাবে শিক্ষার্থীরা আগ্রহ দেখাননি বা ভর্তিপ্রক্রিয়া এগিয়ে যায়নি। প্রশাসন সূত্রও একই কথা স্বীকার করে — রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আন্দোলনের কারণে বিদেশি শিক্ষার্থী সংখ্যা কমেছে।
অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা আবাসন ও ভর্তিপ্রক্রিয়ার জটিলতাকে প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত করে। নেপালের এক শিক্ষার্থী আজকের পত্রিকাকে জানান, বরাদ্দ আবাসনে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নেই, ফলে পরিবেশে খাপ খাওয়াতে না পেরে ভর্তির পরেও অনেকে চলে যান। তিনি আরও বলেন, এম্বাসির মাধ্যমে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হলে আগ্রহ বাড়বে, কিন্তু ভিসা জটিলতার কারণে অনেকে আসতে চান না।
বছরভিত্তিক ভর্তির চিত্র
একাডেমিক সেকশনের রেকর্ড অনুযায়ী, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে রাবিতে স্নাতক পর্যায়ে তিনজন বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছিলেন — ফার্মাসি বিভাগে দুজন এবং ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিভাগে একজন। পরবর্তী ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে একজন ভর্তি হলেও পরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ত্যাগ করেন। ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক পর্যায়ে কোনো বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হননি।
তবে পরবর্তী দুই বছরে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা যায়। ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে আটজন বিদেশি শিক্ষার্থী স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তি হন, যাদের সবাই ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিভাগের। ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় নয়জনে — একজন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে এবং বাকি আটজন ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিভাগে। এরপর আবার পতন শুরু হয় এবং ২০২৪-২৫-এ মাত্র একজন, ২০২৫-২৬-এ শূন্য।
স্নাতকোত্তর ও গবেষণা পর্যায়ে অবস্থা
স্নাতকোত্তর পর্যায়ে বর্তমানে রাবিতে ছয়জন বিদেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। জিওলজি অ্যান্ড মাইনিং বিভাগে দুজন, ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিভাগে তিনজন এবং কেমিস্ট্রি বিভাগে একজন রয়েছেন। এ ছাড়া এমফিল ও পিএইচডি পর্যায়ে আরও ছয়জন বিদেশি শিক্ষার্থী গবেষণা করছেন — অর্থনীতি বিভাগে এমফিল পর্যায়ে সোমালিয়ার একজন, ফোকলোর বিভাগে ভারতের দুজন, ইতিহাস বিভাগে ভারতের একজন, আরবি বিভাগে ভারতের একজন এবং ফোকলোর বিভাগে পিএইচডি পর্যায়ে ভারতের আরও একজন।
প্রশাসনের অবস্থান
উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুনুর রশীদ জানান, বিভিন্ন দেশ থেকে আবেদনকারীদের সার্টিফিকেট ও শিক্ষাগত যোগ্যতার কাগজপত্র সব সময় স্পষ্ট বোঝা যায় না। তবে সংশ্লিষ্ট দেশের মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইংরেজিতে অনুবাদ করে যথাযথভাবে জমা দিলে যাচাই সহজ হয়।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্যাকাল্টিভিত্তিক আলাদা ক্রাইটেরিয়া ও গাইডলাইন রয়েছে। কোনো শিক্ষার্থী সেই ক্রাইটেরিয়াগুলো পূরণ করলে এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগ গ্রহণ করলে তাকে ভর্তি করা হয়। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আলাদা করে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের প্রয়োজন হয় না।
ছাত্র উপদেষ্টা খুরশিদ আলম জানান, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আছে। একাডেমিক প্রশাসন চিন্তাভাবনা করছে যে কীভাবে বিদেশি শিক্ষার্থীদের আবার আকৃষ্ট করা যাবে, এবং এ বিষয়টি একাডেমিকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is র জশ হ ব শ বব দ?
র জশ হ ব শ বব দ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does র জশ হ ব শ বব দ matter?
র জশ হ ব শ বব দ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.
