যশোর: পরিচ্ছন্নতায় কোটি টাকা ব্যয়, তবু দুর্গন্ধময় শহর
Table of Contents
যশোরের পরিচ্ছন্নতা ব্যয় অনেক, কিন্তু শহর এখনও মলিন
Banglajibon.com – যশ র – বেজপাড়া পিয়ারী মোহন সড়কের ফুটপাত জুড়ে সারাদিনই থাকে বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা। দোকানপাট ও গৃহস্থালির বর্জ্য এখানে জমা হয়। অনেক সময় ওই মলার স্তূপ সড়কের ওপর ছড়িয়ে পড়ে, ফলে ছোটখাটো সড়ক দুর্ঘটনাও ঘটে। পচা বর্জ্যের দুর্গন্ধ, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও কুকুরের উৎপাত থেকে মুক্তি পেতে স্থানীয় বাসিন্দারা যশোর পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।
অথচ প্রতি মাসে যশোর পৌরসভা কর্তৃপক্ষ শহর পরিচ্ছন্ন রাখতে কোটি টাকা খরচ করছে। সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, বেজপাড়া পিয়ারী মোহন সড়কের ফুটপাতের এক পাশে স্তূপ করে রাখা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের মললা-আবর্জনা। ফুটপাতে বেঁধে পালন করা হয় গরু। গৃহস্থালির বর্জ্যের সঙ্গে গবাদিপশুর বর্জ্যের তীব্র দুর্গন্ধের কারণে পথচারীরা নাক চেপে চলাচল করছেন।
শহরের বিভিন্ন এলাকায় মলার স্তূপ
শহরের রেলগেট ডোমার হোটেলের পাশে শামছুর রহমানের বাড়ির সামনে ডাস্টবিনের বাইরে গৃহস্থালি বর্জ্য, কোথাও ড্রেনের ওপর পচা মললা। সেই মললা ছাপিয়ে রাস্তার ওপর পড়েছে। শুধু এই দুটি স্থান নয়, যশোর শহরের ৯টি ওয়ার্ডে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় সড়ক, আবাসিক এলাকার অনেক জায়গা মলার স্তূপে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এটি কোনো নির্ধারিত ডাম্পিং স্থান নয়, তবু অবাধে এখানে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা নাজমুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন বিভিন্ন ওয়ার্ড ও বাজার থেকে রিকশা, ভ্যান ও মোটরসাইকেলে করে ওই সড়কের পাশে পচা গৃহস্থালি বর্জ্য, মাছ ও মুরগির নাড়িভুড়ি, গোবর, পশুর বর্জ্য, মৃত প্রাণীসহ নানা ধরনের দুর্গন্ধযুক্ত আবর্জনা ফেলা হয়। মললা ফেলা নিষিদ্ধ উল্লেখ করে সাইনবোর্ড টাঙিয়েও কোনো সুফল মিলছে না।
পরিচ্ছন্নতা খরচের হিসাব
যশোর পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, শহরের বর্জ্য অপসারণে যশোর পৌরসভার ৬০৩ পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ১০টি ছোট ও দুটি বড়সহ মোট ১২টি বর্জ্যবাহী ট্রাক এবং ওয়ার্ডভিত্তিক পরিবহন ব্যবস্থা রয়েছে। শুধু ৬০৩ কর্মীর দৈনিক মজুরি বাবদই পৌরসভার ব্যয় হয় তিন লাখ দেড় হাজার টাকা। মাসে ৯০ লাখ ৪৫ হাজার টাকা এবং বছরে ১১ কোটি চার লাখ ৭৫ হাজার টাকা।
এর সঙ্গে ট্রাকের জ্বালানি, চালক ও সহকারীদের বেতন, মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ, ডাম্পিং ও অন্যান্য ব্যয় যোগ হলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রকৃত খরচ আরও বাড়ে। পৌর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, যশোর শহরে প্রতিদিন প্রায় ৮০ টন বর্জ্য উৎপন্ন হয়। মাসে প্রায় ২ হাজার ৪০০ টন। প্রতিদিনের ৮০ টন বর্জ্যের বিপরীতে শুধু পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মজুরি হিসেবে প্রতি টনে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৩ হাজার ৭৬৯ টাকা। অর্থাৎ বছরে ২৯ হাজার ২০০ টন বর্জ্যের বিপরীতে শ্রমিকদের মজুরি বাবদ ব্যয় ১১ কোটি ৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। ট্রাক, জ্বালানি, ডাম্পিং, চালক, সহকারী, রক্ষণাবেক্ষণ ও অন্যান্য ব্যয় বাদ দিয়েই এই হিসাব। তবু শহরের বর্জ্য পড়ে থাকছে যত্রতত্র।
সর্বশেষ সভার সিদ্ধান্ত হয়েছে, সকাল ৯টার মধ্যে শহরের দৈনন্দিনের বর্জ্য অপসারণ কাজ শেষ করার। কিন্তু মণিহারসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকার যানজট থাকার বর্জ্যবাহী গাড়িগুলো নির্ধারিত সময়ে ফিরে আসতে পারে না। ফিরে আসতে সময় লাগার মললা অপসারণের কাজও পিছিয়ে যায়।
যশোর পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা জায়েদ হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, বর্জ্য অপসারণের জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডের একটি করে গাড়ি রয়েছে। কোনো ওয়ার্ডের গাড়ি বিকল হলে পাশের ওয়ার্ডের গাড়ি দিয়ে সেখানে সাময়িকভাবে বর্জ্য অপসারণের কাজ চালানো হয়। ওই গাড়িকে আগে নিজের ওয়ার্ডের কাজ শেষ করে অন্য ওয়ার্ডে যেতে হয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বর্জ্য অপসারণে সময় বেড়ে যায়।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is যশ র?
যশ র is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does যশ র matter?
যশ র matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.
