পিরোজপুরে গাছের গোড়ায় গোড়ায় এডিস, বাড়ছে ডেঙ্গু
Table of Contents
বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গুর সংকট: পিরোজপুরে সর্বোচ্চ সংক্রমণ
Banglajibon.com – প র জপ র গ ছ র – গত জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে মোট ৫ হাজার ১০১ জন। এই পরিসংখ্যানের শীর্ষে রয়েছে পিরোজপুর জেলা, যেখানে একই সময়ে ১ হাজার ৩৮১ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে ঝালকাঠি জেলা, আক্রান্ত সংখ্যা ১ হাজার ৩০৮। বিভাগজুড়ে এই সময়ে ডেঙ্গুজনিত মৃত্যু হয়েছে ৮ জনের।
গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের ছয় জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী হিসেবে ভর্তি হয়েছে ১০২ জন। এর মধ্যে পিরোজপুরে ২৬ জন এবং ঝালকাঠিতে ১৬ জন। এই সংখ্যা দেখায় যে সংক্রমণের হার ক্রমবর্ধমান অবস্থায় আছে, বিশেষত পিরোজপুরে।
আইইডিসিআরের তদন্ত: তিনটি মূল কারণ
রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পাঁচ সদস্যের একটি দল গত সপ্তাহে পিরোজপুরে তিন দিনের মাঠপর্যায় তদন্ত পরিচালনা করে। দলটি ডেঙ্গু সংক্রমণের পেছনে তিনটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছে। প্রথমত, সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাব। দ্বিতীয়ত, অধিকাংশ বাড়ির আঙিনায় গাছ লাগানোর অভ্যাস। তৃতীয়ত, নেছারাবাদ উপজেলার নার্সারিতে এডিস মশার উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে।
তদন্তে আরও দেখা গেছে, স্থানীয় সুপারি ও নারকেলগাছের গোড়া এবং নির্মাণাধীন ভবনে জমা পানিতে এডিস মশার প্রজননস্থল তৈরি হয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক মো. রেফায়েতুল হায়দার সামাজিক উদ্বুদ্ধকরণের পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে জলাবদ্ধ স্থানে মশার লার্ভা জমতে না পারে। পাশাপাশি হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
আতঙ্কিত না হলে—
হাসপাতালে রোগীদের ভোগান্তি
ডেঙ্গু রোগীর চাপ বাড়ার ফলে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে সাধারণ রোগীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গতকাল হাসপাতালে বহু রোগীকে মেঝেতে বসে চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে। ডেঙ্গু ও সাধারণ রোগীদের একসাথে রাখা হচ্ছে, যা সংক্রমণ বাড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করছে।
পাঁচ দিন ধরে জেলা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছি। প্রচুর রোগীর চাপ। ডেঙ্গু রোগী ও সাধারণ রোগীদের একসঙ্গে রাখা হয়েছে। ফলে ডেঙ্গু রোগীরা পর্যাপ্ত সেবা পাচ্ছে না। স্যালাইন, ওষুধও ডেঙ্গু রোগীরা ঠিকমতো পাচ্ছে না।
উপরের উক্তি ডেঙ্গু রোগী মাহফুজের। আরেক রোগী আলেয়া বেগম জানান, তিন দিন ধরে ভর্তি থাকার পরও পর্যাপ্ত সেবা পাচ্ছেন না। নার্স ডাকলে পাওয়া যায় না, বাথরুমের অবস্থা ভয়াবহ, ওষুধও ঠিকমতো আসছে না।
আমার ছেলে দুই দিন ধরে ভর্তি রয়েছে। আমরা না পারি হাসপাতালে থাকতে, না পারছি বাইরে থাকতে। এখানে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীদের বারান্দায়ও থাকতে দিচ্ছে। নতুন হাসপাতাল চালু করে না, পুরোনো হাসপাতালে বারান্দায় থাকতে দেয়। ভোগান্তি যেন কমছেই না।
এই বক্তব্য এক রোগীর স্বজন আব্দুল মালেকের। ভান্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগী কায়সার জানান, সেখানেও ডেঙ্গু রোগীদের আলাদা করা হচ্ছে না; সবাইকে একসাথে রাখা হচ্ছে, ফলে আরও সংক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো নজর নেই। নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী ভর্তি আছে বলে সেখানকার রোগী ও স্বজনরা জানান।
সিভিল সার্জনের স্বীকারোক্তি ও পরিসংখ্যান
পিরোজপুরের সিভিল সার্জন মো. মতিউর রহমান স্বীকার করে বলেন, জেলা হাসপাতালে ধারণক্ষমতার তিন গুণ রোগী ভর্তি আছে। মাত্র ১০০ শয্যার এই হাসপাতালে বিভিন্ন ওয়ার্ডে ৩০০ জনের বেশি রোগী আছেন। বর্তমানে জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ৬৭ জন ভর্তি রয়েছেন।
সিভিল সার্জন দাবি করেন, ডেঙ্গু রোগীদের স্যালাইন ও পর্যাপ্ত ওষুধ দেওয়া হচ্ছে এবং জেলা হাসপাতালে টেস্টও করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সাধ্যমতো সব রোগীদের সেবা দেওয়া হচ্ছে। তবে সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার আরিফ হাসান জানান, এ বছর ডেঙ্গু রোগীর চাপ কমছে না; একজন রোগীর চিকিৎসায় পাঁচ-ছয় দিন লাগে, আর সেই সময়ে নতুন রোগী ভর্তি হতে থাকে।
জেলাজুড়ে বর্তমান ও ঐতিহাসিক পরিসংখ্যান
গত ৮ মাসে পিরোজপুর জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ১ হাজার ৩৮১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে, যা বরিশাল বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ। এই সময়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ হাজার ৩১৩ জন। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৬৭ জন।
বর্তমান ভর্তির বিস্তারিত: পিরোজপুর সদর হাসপাতালে ১৬ জন, নাজিরপুরে ৯, নেছারাবাদে ৮, কাউখালীতে ২, ভান্ডারিয়ায় ৩১ এবং মঠবাড়িয়ায় ১ জন। গত ৮ মাসে সবচেয়ে বেশি, ৬৩৮ রোগী ভর্তি হয়েছে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে। এ ছাড়া নাজিরপুরে ৮৩, নেছারাবাদে ২২৫, কাউখালীতে ১০০, ভান্ডারিয়ায় ২৭৫ এবং মঠবাড়িয়ায় ৬০ জন ভর্তি হয়েছে।
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক মো. রেফায়েতুল হায়দার জানান, পিরোজপুরে ডেঙ্গু রোগী বাড়ছে এবং তিনি সেখানকার সিভিল সার্জনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে আছেন। জলাবদ্ধ স্থানে মশার লার্ভা না জমতে পারার জন্য সামাজিক উদ্বুদ্ধকরণ এবং হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is প র জপ র গ ছ র?
প র জপ র গ ছ র is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does প র জপ র গ ছ র matter?
প র জপ র গ ছ র matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.
