তিন দশকে মশা মারার খরচ: ধোঁয়া ছড়াতেই ১৮০০ কোটি
Table of Contents
মশা-যুদ্ধে তিন দশকের ১৮০০ কোটি: ঢাকার দুই সিটির ব্যর্থ হিসাব
রাজধানীতে ডেঙ্গুর বর্তমান চিত্র
Banglajibon.com – ত ন দশক মশ ম র র – দেশজুড়ে এডিস-বাহিত ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়তে থাকলেও সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে রাজধানী ঢাকা। চলতি বছরে এই রোগে প্রাণ হারিয়েছে মোট ৭০ জনের মধ্যে ৩২ জনেরই ঠিকানা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) বা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকা। কীটতত্ত্ব গবেষকদের অনুমান অনুযায়ী, আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে সেপ্টেম্বর জুড়ে রাজধানীতে সংক্রমণের তীব্রতা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাজেটের সংখ্যা: চার বছরে ৫৪১ কোটি
মশা নির্মূলে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন প্রতি বছরই বিশাল অর্থ বরাদ্দ করে আসছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরসহ সাম্প্রতিক চার অর্থবছরে এই খাতে মোট ব্যয় হয়েছে ৫৪১ কোটি টাকা।
ডিএনসিসির হিসাব দেখলে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মশা নির্মূলে বরাদ্দ ১১৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে ওষুধ ক্রয়ে ৮০ কোটি, আউটসোর্সিং মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে ৬০ কোটি, এবং যন্ত্রপাতি (ফগার, হুইল স্প্রে মেশিন) ও পরিবহনে বাকি অংশ। আগের ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ব্যয় ছিল ১৩১ কোটি, ২০২৪-২৫-এ ৫০ কোটি ৭৫ লাখ, আর ২০২৩-২৪-এ ৮৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। চার বছর মিলিয়ে ডিএনসিসির মোট খরচ ৩৮৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা।
ডিএসসিসির ক্ষেত্রে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বরাদ্দ প্রায় ৫৫ কোটি, ২০২৫-২৬-এ ৩৩ কোটি, ২০২৪-২৫-এ প্রায় ২২ কোটি, এবং ২০২৩-২৪-এ ৪৫ কোটি টাকা। চার বছর জুড়ে ডিএসসিসির মোট ব্যয় প্রায় ১৫৫ কোটি টাকা।
তিন দশকের হিসাব: ১২৭৫ কোটির বেশি
১৯৯৬-৯৭ থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছর পর্যন্ত ২৭ বছরের বাজেট বিশ্লেষণে দেখা যায়, ওষুধ ক্রয়, ছিটানো, ধেঁড় দেওয়া, মালামাল পরিবহন ও যন্ত্রপাতি ক্রয়ে দুই করপোরেশনের খরচ হয়েছে ৭৬৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। একই সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতায় গিয়েছে ৫০৬ কোটি ২৭ লাখ ১০ হাজার টাকা। দুই খাত মিলিয়ে মোট ব্যয় ১ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা।
১৯৯৬-৯৭ থেকে ২০১১-১২ পর্যন্ত ১৬ বছর ছিল অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশন (ডিসিসি)। ওই সময়ে ওষুধ ক্রয় ও প্রয়োগে খরচ ২১৪ কোটি ৮ লাখ, যন্ত্রপাতি ক্রয়ে ১৪ কোটি ৪৭ লাখ, আর বেতন-ভাতায় ৯৬ কোটি টাকা।
২০১২-১৩ থেকে ২০২২-২৩ পর্যন্ত বিভাজনের পর ডিএসসিসি ওষুধে খরচ করেছে ১৭৯ কোটি ৮১ লাখ, যন্ত্রপাতিতে ২৩ কোটি ৭৬ লাখ, বেতন-ভাতায় ১ হাজার ৪১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। একই সময়ে ডিএনসিসি ওষুধে ব্যয় করেছে ৩২২ কোটি ২ লাখ, যন্ত্রপাতিতে ৩৯ কোটি ৮৯ লাখ, বেতন-ভাতায় ১ হাজার ৬৭ কোটি ৩ লাখ ৫২ হাজার টাকা।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা: পদ্ধতিই ভুল
এত অর্থ ব্যয়ের পরেও মশার উপদ্রব বা মশাবাহিত রোগ কমছে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, সিটি করপোরেশনের মশা-নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিই মৌলিকভাবে ত্রুটিপূর্ণ। ওষুধ ক্রয় নিয়ে দুর্নীতি ও মানহীন পণ্য কেনার অভিযোগও উঠেছে।
নগর-পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান আজকের পত্রিকাকে বলেন, মশা নিয়ন্ত্রণে শুধু কীটনাশক ছিটানো ও ওষুধ কেনার ওপর নির্ভরশীলতা থেকে বেরিয়ে এসে সমন্বিত এবং বৈজ্ঞানিক উদ্যোগ নিতে হবে। বছরের পর বছর একই ধরনের কীটনাশক ব্যবহারের ফলে মশার মধ্যে ওষুধপ্রতিরোধী ক্ষমতা তৈরি হচ্ছে। শুধু ওষুধ কেনার পরিবর্তে সিটি করপোরেশন মশা নিয়ে কাজ করার জন্য পুরো একটি আলাদা ইউনিট তৈরি করতে পারত, যেখানে পরিকল্পনাবিদ, বায়োলজিস্টও থাকবেন। সিটি করপোরেশন সনাতনি ওষুধনির্ভর পদ্ধতিতে থাকলে সামনে ভোগান্তি বাড়বে।
ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়ার প্রেক্ষিতে মশা নির্মূলে ক্র্যাশ প্রোগ্রামসহ বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়ার কথা জানিয়েছেন দুই সিটি করপোরেশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।
বিতর্কিত উদ্যোগগুলো: ব্যর্থতার দীর্ঘ তালিকা
বিভিন্ন সময়ে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন মশা নির্মূলে নানা বিতর্কিত পদক্ষেপ নিয়েছে। ড্রেন-নর্দমায় গাপ্পি মাছ বা ব্যাঙ ছাড়া, ফিঙে পাখি রাখা, ড্রোন দিয়ে প্রজননস্থল শনাক্তকরণ, কদমগাছ রোপণ — এসব উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত মশার উপদ্রব কমাতে ব্যর্থ হয়েছে বলে মশক-নির্মূল সংশ্লিষ্টরা দাবি করেন।
২০২২ সালে এক সভায় ডিএসসিসির তৎকালীন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস দাবি করেন, কদমগাছে যে জৈব বিষ আছে, তা মশক নিয়ন্ত্রণ করে। ফিঙে পাখি মশকসহ অন্যান্য পোকামাকড় খায়, ফলে ওই পাখির মাধ্যমে মশক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।
এর আগে ঝিল, লেক ও পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির কয়েক হাজার হাঁস ও ব্যাঙ ছাড়া হয়েছিল মশার লার্ভা ধ্বংসে। ২০২২ সালে ডিএনসিসি মশার উৎস শনাক্তে ড্রোন ব্যবহার করেছিল। তৎকালীন মেয়র আতিকুল ইসলাম তখন বলেছিলেন, অত্যাধুনিক ড্রোন ব্যবহার করে প্রতিটি বাড়ির ছাদসহ সব প্রজননস্থল শনাক্ত করা সম্ভব।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ত ন দশক মশ ম র র?
ত ন দশক মশ ম র র is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ত ন দশক মশ ম র র matter?
ত ন দশক মশ ম র র matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.
