Bangladesh

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন: তবু অফিস করছেন তিনি

Foto : Mary Taylor - banglajibon.com

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন: তবু অফিস করছেন তিনি

Banglajibon.com – চট টগ র ম জ ল প – চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখার পূর্ববর্তী কর্মকর্তা মো. নুর চৌধুরী দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলার আসামি হিসেবে আবেদন করা হয়েছে। এ মামলায় আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রকাশ করেছে পৌনে তিনবার, কিন্তু তিনি যে কোনো সময় আটক হননি।

তিনি বছর দেড় আগে চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন, তবুও আদালত ভবনের পাশে জেলা প্রশাসনের এলএ শাখার পুরোনো কর্মস্থলে নিয়মিত অফিস করছেন। এ মামলার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে তদবির করছেন তিনি। গত সাড়ে তিন বছরে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে, উত্তর পতেঙ্গা মৌজায় ভুয়া মালিক সাজিয়ে ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের টাকা আত্মসাত করেছেন তিনি এবং ১৪ জনের সাথে।

মামলা সম্পর্কে তথ্য

তদন্ত শেষে ২০১৯ সালে জানুয়ারি ৩ তারিখে দুদক কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলার আসামিদের মধ্যে এলএ শাখার আরও চারজন সার্ভেয়ার, দুজন ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা এবং একজন কানুনগো রয়েছেন। বর্তমানে চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতে মামলাটি বিচারাধীন। আদালতের তথ্য অনুসারে মোট ১৫ আসামির মধ্যে ১২ জন জামিনে আছেন এবং তিনজন পলাতক আছেন, যাদের মধ্যে নুর চৌধুরী রয়েছেন।

সর্বশেষ ধার্য তারিখ ছিল গত ১৪ মে। ওই দিন জামিনে থাকা ১২ আসামি আদালতে উপস্থিত হলেও পলাতক আছেন নুর চৌধুরীসহ তিনজন। এ বিষয়ে পটিয়া থানার ওসি মো. জিয়াউল হক বলেন, ‘আমি বাইরে আছি। বিষয়টি আমি পরে দেখছি।’

‘২০২২-২৪ পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে একাধিকবার ওয়ারেন্ট জারি হয়। ২০২৫ সালে বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতে দায়িত্ব নেওয়ার পর শুধু আমি ওই আসামির বিরুদ্ধে তিন-চারবার ওয়ারেন্ট জারি করেছি। কিন্তু কোনো ওয়ারেন্ট আজ পর্যন্ত তামিল হয়নি।’ – মো. শাহেদ বলেন।

ওয়ারেন্ট কেন তামিল হচ্ছে না সেটা পুলিশ জানে বলে জানান তিনি। আসামি নুর চৌধুরীর বাড়ি চট্টগ্রামের পটিয়ায় হওয়ায় ওয়ারেন্টের কপি পটিয়া থানায় যায়। তাঁর পূর্বের সরকারে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সাথে সম্পর্ক ছিল এবং এলএ শাখার পরিচালনার জন্য ক্ষমতা ছিল।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ শাখা) মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘প্রতিদিন শত শত সেবাপ্রার্থী এলএ শাখায় আসেন। সেখানে কে আসামি তা শনাক্ত করা কঠিন। এটা যখন জেনেছি, আমি আমার দপ্তরে দায়িত্বরতদের জানিয়ে রাখব। যাতে এভাবে কেউ অফিসে না আসতে পারেন।’

Leave a Comment