কিশোরগঞ্জ: হাসপাতালের চারপাশে ক্লিনিক
Table of Contents
কিশোরগঞ্জে হাসপাতাল-প্রাঙ্গণে ক্লিনিকের জাল
Banglajibon.com – ক শ রগঞ জ – জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ঘোষণা দেন, সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী কেড়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে পাঠানোর দালাল-চক্রের অপকর্ম স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে। সেই ঘোষণার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে সম্প্রতি কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় সরেজমিনে দেখা গেছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ঠিক সামনেই ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকের উপস্থিতি অক্ষুণ্ণ। রোগী পাঠানোর সিন্ডিকেটও সক্রিয় রয়েছে।
জেলা সদরের চিত্র
কিশোরগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের পেছন গেট ঘেঁষে ৯টি এবং মাত্র ২০০ গজের মধ্যে অর্ধশতাধিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক স্থাপিত। এগুলো পরিচালনা করেন স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। তাঁদের নিয়োগিত দালালরা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত হাসপাতালে আসা রোগীদের বিভ্রান্ত করে এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যায়। প্যাথলজি পরীক্ষা ও আধুনিক চিকিৎসার প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল অর্থ আদায় করা হয়।
১২টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনেও প্রায় একই দৃশ্য। প্রতিটি কমপ্লেক্সের আশপাশে ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকের উপস্থিতি রয়েছে। রোগী হাসপাতালের ফটকে পৌঁছানোর আগেই দালালদের টানাটানি শুরু হয়ে যায়। অনেক সময় হুমকির শিকার হন রোগী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা।
উপজেলাভিত্তিক সংখ্যা
কুলিখারচর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে একটি ক্লিনিক রয়েছে। ভৈরব কমপ্লেক্সের সামনে ৩টি, পাকুন্দিয়া কমপ্লেক্সের পাশে ৫টি, করিমগঞ্জ কমপ্লেক্সের পাশে ৪টি, কটিবান্দী কমপ্লেক্সের সামনে ৬টি, নিকলী কমপ্লেক্সের সামনে ৪টি, মিঠামইন কমপ্লেক্সের সামনে ২টি এবং বাজিতপুর কমপ্লেক্সের সামনে ৩টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার স্থাপিত। তাহাইল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় দুটি প্রাইভেট হাসপাতাল ও ৭টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। হোসেনপুর কমপ্লেক্সের সামনে ৪টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ১টি ক্লিনিক রয়েছে।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নেই। গ্রাম থেকে আসা রোগীদের কম টাকায় উন্নত চিকিৎসার প্রলোভন দেখিয়ে ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়, ফলে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হয়।
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সমস্যা
শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রধান ফটকের ঠিক উল্টো পাশে পাঁচটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। ঝলমলে সাইনবোর্ড আর দালালদের হাঁকডাক চলছে সেখানকার সামনে। হাসপাতালের শুরু থেকেই রোগী ও স্বজনদের মধ্যে সেবা নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। গুরুতর ও জটিল রোগে আক্রান্তদের হাসপাতালে আসতে নিরুৎসাহিত করার অভিযোগ আছে। সমন্বিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পাওয়া যায় না। চিকিৎসকরা রোগী সঠিকভাবে দেখাশোনা না করেই অন্য প্রতিষ্ঠানে পাঠিয়ে দেন। টিকিট কাউন্টারে গেলেও কর্মীরা পাশের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গে এসব দালালের জড়িত থাকার কথা জানিয়েছেন শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক চিকিৎসক (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক)। নার্সদেরও জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
রোগীদের বক্তব্য
১৩ আগস্ট কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে আসা রোগীর স্বজন ইশাহিন বলেন, ‘আমার ভাতিজার রক্তের পরীক্ষার জন্য গেছিলাম। এক লোক এসে বলে, “ভিতরে টেস্ট করলে রিপোর্ট পাইতে তিন দিন লাগবো, বাইরে ১ ঘণ্টাতেই পাবেন। বাধ্য হয়ে টেস্ট বাইরে করাতে হলো।’
১3 আগস্ট শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসা রোগী আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘টিকিট কাউন্টার থেকে শুরু করে বাইরে পর্যন্ত দালালের চক্র। ওদের ডায়াগনস্টিকে না গেলে ডাক্তার ওষুধ দেবেন না—এই ভয় দেখিয়ে রোগীদের পকেট কাটা হচ্ছে।’
কার্যকরী ও কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম জানান, হাসপাতাল গেটের সামনের ডায়াগনস্টিক সেন্টার সরিয়ে নিতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
প্যাথলজি ও রক্ত পরিসঞ্চালন বিভাগের ইনচার্জ মিজবাহ উদ্দিন আহমদ নিঝুম বলেন, হাসপাতালের আউটডোর প্যাথলজি বিভাগ সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এবং ইনডোরের জরুরি সেবা ২৪ ঘণ্টা চালু থাকে। রক্ত পরিসঞ্চালন বিভাগ (ব্লাড ব্যাংক)ও ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হয়।
কিশোরগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন নাজমুল আলম জানান, বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের অনুমোদনের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রণীত চেকলিস্ট অনুযায়ী সিভিল সার্জন পরিদর্শনপূর্বক রিপোর্ট স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠান। সেই চেকলিস্টে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের দূরত্ববিষয়ক কোনো নির্দেশনা নেই। এ ছাড়া অনুমোদনের ক্ষেত্রে পরিবেশ ছাড়পত্র এবং ড্রাগ ও নারকোটিক-বিষয়ক ছাড়পত্র প্রয়োজন হয়।
বাংলাদেশ প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০১২ অনুযায়ী, কোনো প্রাইভেট ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার হাসপাতালের সীমানার খুব কাছে স্থাপন করা যাবে না। তবুও কিশোরগঞ্জের প্রতিটি হাসপাতালের সামনে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো গড়ে উঠেছে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ক শ রগঞ জ?
ক শ রগঞ জ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ক শ রগঞ জ matter?
ক শ রগঞ জ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.
