চীনের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে ভূগর্ভস্থ ফল্ট লাইন সক্রিয় হয়েছে
সক র য় ফল ট ল ইন – তিব্বতের ইয়ারলুং সাংপো নদীর উপর নির্মাণাধীন বিশ্বের সর্ববৃহৎ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাছাকাছি একটি সক্রিয় ভূগর্ভস্থ চ্যুতি বা ফল্ট লাইনের অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছেন চীনের সরকারি ভূবিজ্ঞানীদের একটি দল। তাঁদের বিশ্লেষণে এই ফল্ট লাইনটি প্রকল্পের কাঠামো এবং সংযুক্ত সড়ক, সেতু, টানেল সহ সম্পূর্ণ জালাধারের ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
জীবন বিপন্ন করতে পারে পরিকাঠামো
গবেষকদের দাবি, ভূগর্ভস্থ প্লেটের প্রতিটি পরিবর্তন শিলাখণ্ডগুলোকে ভেঙে চূর্ণ বিচূর্ণ করেছে, যার ফলে মাটির ভেতরে ধারণক্ষমতা ও দৃঢ়তা নষ্ট হয়ে গেছে। এই ধরনের অস্থিতিশীল ভিত্তি ভূমিকম্পের সম্মিলিত প্রভাবে জলাধার দুই পাশে পাহাড় ভেঙে পড়তে পারে। তাসের ঘরের মতো বাঁধটি কৃত্রিম বন্যা ও ভূমিধসের সম্মুখীন হতে সক্ষম হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পাইঝেন ফল্ট লাইনটি প্লাইস্টোসিন যুগ থেকে এখনও সক্রিয় আছে। এই নিরন্তর কম্পন এবং জলীয় সম্পৃক্ততার সম্মিলিত ক্রিয়া প্রকল্পের ক্ষতি ঘটাতে পারে।
গবেষণাটি চেংদু ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি, চায়না জিওলজিক্যাল সার্ভে এবং মিডল ইয়ারলুং সাংপো রিভার ন্যাচারাল রিসোর্সেস অবজারভেশন অ্যান্ড রিসার্চ স্টেশনের যৌথ দল পরিচালনা করেছে। তাঁদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী এই ফল্ট লাইনটি চারপাশের ক্ষেত্রে একটি অস্থিতিশীল বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে।
অতীত থেকে চারপাশে সক্রিয়তা খুঁজে পেয়েছেন
অধ্যয়নে দেখা গেছে যে, এই ফল্ট লাইনটি কোয়াটারনারি যুগের প্রারম্ভে সৃষ্টি হয়েছিল কিন্তু বর্তমান হলোসিন যুগেও সক্রিয় আছে। এর পূর্বে ৯ হাজার ৫০০ বছর আগে পর্যন্ত ফাটলটি অপরিহার্য কম্পন বজায় রেখেছিল। ২০১৭ সালে মিলিনে ঘটেছিল একটি ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্প যেখানে ফল্ট লাইনের উত্তর প্রান্তে অবস্থিত ছিল।
বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী এই অঞ্চল হিমালয় সিসমিক বেল্টের ভিতরে অবস্থিত। সেখানে চীন এবং তার প্রাদেশিক ক্ষেত্রে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প ঘটে থাকে। এই প্লেটের সংঘর্ষে একটি স্থায়ী কম্পন বলয় গঠিত হয়েছে।
চীনের বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে, সম্ভবত যেকোনো সময় ভূমিকম্প ঘটলে বাঁধটি গুঁড়িয়ে দেবে এবং তার সৃষ্টি কৃত্রিম বন্যা ও ভূমিধস সম্পূর্ণ হিমালয় অঞ্চলসহ ভাটির বিস্তৃত জনপদকে মাটির নিচে চাপা দিতে পারে।
